জ্বলদর্চি

দুটি অণুগল্প/ সঞ্জীব ভট্টাচার্য



দুটি অণুগল্প 

সঞ্জীব ভট্টাচার্য 

একটি না -আত্মহত্যার গল্প
           

উঁচু প্রাচীর  দিয়ে ঘেরা মাঠ। মাঠের পাশেই রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছিলেন অরূপ বাবু। সামনের দিকে পৌরসভার লাইটটা জ্বলছে আর নিভছে।তারই মাঝে তিনি দেখলেন হঠাৎ একটা মোটরসাইকেল প্রাচীরে ধাক্কা খেলো। দ্রুত এগিয়ে গেলেন তিনি। রক্তাক্ত শরীরের চালককে দেখে  মনে মনে বলে উঠলেন, ও বাবা এতো গুণধর!

আসলে অরূপ বা তার মতো সমাজে শিক্ষিত ও সম্মানীয়দের অপমান করাই এই ঝন্টুর কাজ। অনেকে বলে ইনফিরিয়টি কমপ্লেক্স। একটা চল্লিশোর্ধ মানুষ যে এরকম বাজে কথা বলতে পারে বা বিকৃত অঙ্গভঙ্গি করতে পারে অরূপ বাবু তা কল্পনাই করতে পারেন না। অবশ্য দু একবার অপমানিত হয়েও নিজের উপর তিনি নিয়ন্ত্রণ হারান নি। বরং ভেবেছেন ওকে নিজের কাজের ফল একদিন ভোগ করতেই হবে। তবে কি... 

চলে যেতে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন অরূপ।  কাছে গিয়ে ভালো করে দেখলেন কোথায় আঘাত লেগেছে। তারপর নিজের জামা খুলে ভালো করে ক্ষতস্থানে বেঁধে দিলেন। বাড়ির লোকজনকে জানিয়ে অ্যাম্বুলেন্স কে ফোন করে অপেক্ষা করতে থাকলেন তিনি। 

               
চেতনার রং 
                 
একটা দীর্ঘ হুইসেল। ট্রেনটা প্ল্যাটফর্ম ছাড়লো অর্ঘ্য তার জিনিসপত্র গুছিয়ে রেখে নিজের সংরক্ষিত সিটটাতে বসলো। প্রায় আট ন ঘন্টার একঘেঁয়ে যাত্রা। আসলে নিজের প্রায় তিন দশকের জীবনটাই তো অসহ্য সুরে বাঁধা। কর্মক্ষেত্রে চলেছে সে কোম্পানির একই গতের কাজে  ঘুরপাক খেতে। 

একটা শ্বাস ফেলে অর্ঘ্য সামনে তাকালো। মনে হল, এক আশ্চর্য জগত।  রূপ এরকমও হয়। চোখ ফেরানো যাচ্ছিল না। কতবার যে চোখাচোখি হল তারই ইয়ত্ত্বা নেই। সত্যি বলতে কী সেই হ্যাংলার মতো বারবার দেখছিলো। তবে সোজাসুজি নয়।  অপরূপ   ভ্রূপল্লবের নিচে  রহস্যময় আকাশ। এরকম ভাষা ভরা চোখ সে জীবনে কখনো দেখেনি। 

অর্ঘ্য  পরিচয় এর প্রস্তুতি নিচ্ছিল । এমন সময়ে মেয়েটার ফোনের রিংটোন বেজে উঠলো। কথা বলতে বলতে তার সুর ক্রমশ চড়া হচ্ছিল,-- দায়িত্ব পালন না করতে পারলে বিয়ে করেছিলে কেন? ওদিকের উত্তর শুনতে পেল না সে। মেয়েটা এবার সোজাসুজি তার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। এরকম শূন্য চোখ  কিন্তু অর্ঘ্য এর আগে কখনো দেখেনি।
🍂

Post a Comment

0 Comments