অদ্রিজা পোড়িয়া
অশ্রু কেন অনল ?
কাঁচের ওপারে কৃত্রিম হিম,
কিংবা বরফে স্নান ,
ছায়ার আড়ালে আয়েশে মগ্ন,
আমাদের এই প্রাণ।
কিন্তু ওপারে বাস্তব বড়
নিষ্ঠুর, বড় তীব্র,
যেখানে চরম অভাবের তাপে
সমাজ ধুঁকছে ক্ষিপ্র।
ঠান্ডা ঘরের নরম চাদরে
আমরা মেটাই ক্লান্তি,
ডাস্টবিনে বাবা অন্ন খোঁজে
কি বিষম সেই ভ্রান্তি।
আবর্জনা আর পচা উচ্ছিষ্টে
চলে জীবনের খোঁজ,
ক্ষুধার আগুন নেভাতে সেখানে
লড়াইটা চলে রোজ।
রোদের চাবুকে ফুটপাতে বসে
কাঁদছে যে শিশুখানি,
বোঝে না সমাজ তার চোখের ওই
তপ্ত জলের বাণী।
এই প্রখর তাপের চেয়েও
তা অনেক বেশিই উষ্ণ
যে অশ্রু ফোঁটায় হাহাকার আছে
পাওয়ার খানিক অন্ন ।
তপ্ত পিচে পুড়ছে পা দু’টো,
চাতক চোখের জল,
আমাদের সুখ ঢাকতে কি পারে ?
সমাজের এই খল….
স্বার্থের মোহে অন্ধ শহর,
চোখ বুজে রয় সবে,
ব্যস্ত আমরা নিজেদের নিয়ে,
নিজেদের উৎসবে।
নিজের আখের গুছিয়ে আমরা
ফিরিয়ে রেখেছি মুখ,
পরের কষ্টে কাঁদে না এখন
নির্দয় যত বুক।
হে ঈশ্বর, সব পাথুরে মনে
জ্ঞানের চারা দাও
অসহায় যত অবুঝ চোখের
কান্না মুছে নাও।
অক্ষয় জ্যোতি
শব্দস্রোতে তুমিই আদি,
ছন্দে তুমিই তরী,
মৌনবীণায় ঝংকৃত সুর,
নিখিল ভুবন ভরি।
তোমার কলমে জীবনসুধা,
মর্ত্যে নামালো আলো,
তুমিই শিখালে মরণও মধুর,
আঁধারও কি ভীষণ ভালো।
বলাকা ডানায় পক্ষসঞ্চার,
অসীমে হারানো দিশা
গীতাঞ্জলির নিভৃত অঞ্জলি,
ঘুচালো প্রাণের নিশা।
জ্যোৎস্নারাতে মায়ার খেলা,
বর্ষায় কাজলমেঘ,
তোমার গানেই স্পন্দিত হয়,
হৃদয়ের যত বেগ।
ঘরেবাইরে কিম্বা গোরা,
মননের তীব্র দহন,
শান্তিনিকেতন ছায়াবীথিকায়,
বিশ্ব-মৈত্রী বহন।
তুমিই ধ্রুব, তুমিই শাশ্বত,
তুমিই যে কালের কবি,
অস্তগমন হীন সেই তুমি
মোদের প্রিয় রবি ।
অক্ষয়পট
ক্যালেন্ডারের পাতা ওল্টায়,
দিন বদলায় রোজ,
সাতটি বছর কাটল দাদা
নিয়েছ কি তার খোঁজ?
সবাই কেমন এগিয়ে চলে,
ব্যস্ত সবার পা,
আমি কিন্তু থমকে আছি,
এক পা-ও নড়ি না।
ছুটির শেষে স্কুলের গেটে
যখনই চোখ যায়
সবাইকে দেখি দাদুর
হাত ধরে বাড়ি যায়
ওই ভিড়েতে এক খেয়ালে
খুঁজি তোমায় তাও
মনে হয় তুমিও লুকিয়ে বুঝি
আমার দিকে তাকাও
কেন তুমি চলে গেলে বল?
আমাকে একলা ফেলে?
ঘুরতে যাওয়ার কোথা দিয়ে
একাই গেলে চলে?
আমিও এখন পান খাই খুব
দেখতে তো তুমি পাও
তুমি কি কখনো আমার সাথে
দেখা করতে চাও?
তোমার কথা রোজ আমার
খুব মনে পড়ে
যদিও তুমি আছো এখন
গোটা ভুবন জুড়ে
তাই না দাদা বলো না আমায়,
আছ তো তুমি পাশে?
তোমার নাতনি আজও তোমায়
বড্ড ভালোবাসে।
1 Comments
একরাশ শুভেচ্ছা অদ্রিজা!! জ্বলদর্চির দীর্ঘ পথচলা কামনা করি।
ReplyDelete