দোলনচাঁপা তেওয়ারী দে
আজ ৮ই জুলাই, বিশ্ব এলার্জি দিবস। এলার্জি স্কিনের এমন একটি রোগ, যা চিকিৎসা না করালে বড় কোন রোগে পরিণত হতে পারে। আসুন এই সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।
অ্যালার্জি হলো, শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার (ইমিউন সিস্টেম) একটি অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। সাধারণত ক্ষতিকারক নয়,এমন কিছু পদার্থ (যেমন: ধুলাবালি, পরাগ, নির্দিষ্ট খাবার বা ওষুধ) শরীরে প্রবেশ করলে, শরীর তাকে ক্ষতিকর মনে করে আক্রমণ করে। এই বহিরাগত পদার্থগুলোকে অ্যালার্জেন বলা হয়।
এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো, এলার্জি সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং এর প্রতিরোধ, সঠিক নির্ণয় ও চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরা। বর্তমান বিশ্বে এলার্জি একটি অত্যন্ত সাধারণ স্বাস্থ্যসমস্যা। শিশু থেকে বয়স্ক যেকোনো বয়সের মানুষই এলার্জিতে আক্রান্ত হতে পারেন। তাই এ বিষয়ে সঠিক ধারণা থাকা সুস্থ জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
🍂
এলার্জি হলো, শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। সাধারণত ধুলাবালি, ফুলের রেণু, প্রাণীর লোম, কিছু খাবার, ওষুধ, ছত্রাক কিংবা পোকামাকড়ের কামড়ের মতো নির্দিষ্ট কিছু উপাদান শরীরে প্রবেশ করলে অনেকের ক্ষেত্রে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফলেই হাঁচি, নাক দিয়ে জল পড়া, চোখ চুলকানো, ত্বকে র্যাশ, শ্বাসকষ্ট কিংবা শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এলার্জির প্রতিক্রিয়া এতটাই তীব্র হতে পারে যে তা জীবনহানির ঝুঁকিও তৈরি করে।
বর্তমান সময়ে পরিবেশ দূষণ, জলবায়ুর পরিবর্তন, নগরায়ণ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে এলার্জি রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। অনেকেই দীর্ঘদিন এলার্জির সমস্যাকে সাধারণ অসুবিধা ভেবে অবহেলা করেন,কিন্তু অবহেলার কারণে সমস্যা আরও জটিল হতে পারে। তাই লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এলার্জির কারণ শনাক্ত করা জরুরি। এলার্জি প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই। ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখা, ধুলাবালি এড়িয়ে চলা, বিছানার চাদর ও বালিশের কভার নিয়মিত পরিষ্কার করা, ধূমপান ও ধোঁয়া থেকে দূরে থাকা এবং যেসব খাবার বা উপাদানে এলার্জি হয় সেগুলো এড়িয়ে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করা উচিত নয়।
বিশ্ব এলার্জি দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়,এটি মানুষের সুস্থ জীবন নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এই দিনে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসংস্থা, হাসপাতাল ও চিকিৎসক সমাজ এলার্জি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সেমিনার, আলোচনা সভা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রচারাভিযানের আয়োজন করে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষ এলার্জির কারণ, লক্ষণ, প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে পারেন।
আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের এলার্জির লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং হাঁপানি রোগীদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করা এবং নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এলার্জি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
0 Comments