কেন লিখি
স্বাতী ভৌমিক
"কেন লিখি"- এর উত্তরদানের প্রচেষ্টা এক স্মৃতি রোমন্থনকারী, অতীতচারী ও আত্মকারণ অনুসন্ধিৎসু অনুসন্ধানের সম্মিলিত এক প্রয়াস।
বর্ণপরিচয়, কথামালা, সহজ পাঠ, দ্বিতীয় ভাগ- ধীরে ধীরে সাক্ষরতার অভিযানে সামিল হয়ে নিজের কথাকে লিপি তথা লেখ্যরূপ প্রদানের কিঞ্চিৎ সক্ষমতা- এটা এক সাধারণ, চিরাচরিত মোটামুটি লিখন পটিয়সীতার ক্ষুদ্র ইতিবৃত্ত।
এবার আসি আত্মকথায়। আমার বরাবরই একটু নিজের মতো করে লিখতে ভালো লাগতো। পাঠ্য বিষয়ের যে সব বিষয়ে নিজে পড়ে-বুঝে তারপর স্বকীয়তাপূর্ণ উত্তর প্রদানের জায়গা থাকত, সেইসব বিষয় আমার পড়তে ভালো লাগতো।এই থেকেই ইচ্ছে হতো- নিজে কিছু লিখব। লেখার শুরুও হয়- বিভিন্ন সময় মেজাজ, মন অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয়ে। কখনো কবিতা, কখনো গল্প,কখনো প্রবন্ধ, কখনো অন্য কিছু- যখন যা ইচ্ছে হতো।
লেখাটা অনেক সময় নেশার মতো হয়ে যায়। কিছু না লিখলে কেমন একটা বেকার দিন বলে মনে হয়। এরকম মনে হলে, কিছু না কিছু একটা লেখা সৃষ্টি করে তবে গিয়ে মন শান্তি পায়। আবার কখনো এমন কোনো অভিজ্ঞতা বা পরিস্থিতি সম্মুখে এসে হাজির হয় যে, তাকে নিজের দৃষ্টিকোণ থেকে বুঝে,তার অনুভূতি খাতার পাতায় ব্যক্ত না করলে মনে হয়- জীবনের কিছু একটা সংরক্ষণের অভাবে হাজারো ঘটনার ভিড়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। তখনই চটপট খাতা- কলমে লিপিবদ্ধ বা বিজ্ঞানের দৌলতে প্রাপ্ত মুঠোফোনের" Message yourself " এ টাইপ করে ফেলি। পরে যখন তা পড়ি- ভালো লাগে এই ভেবে যে, অনুভূতিরও কত রঙ থাকে- কত নতুন ভাষা থাকে।
লেখার আরও একটা কারণ বলি। এমন অনেক কথা থাকে কোন কারণে যেগুলো বলা হয়নি- বলা যায়নি বা বলতে গিয়েও উপযুক্ত শ্রোতার মনোযোগের অভাবে প্রকাশের ঠিক ইচ্ছে হয়নি। সেগুলো লিপিবদ্ধ করে নিজের সাথে নিজের কথা বলার কাজ যেন অনেকটাই মনকে শান্তি দেয়।
আবার কখনো কখনো কল্পনারা কোন কাল্পনিক চরিত্রের মধ্য দিয়ে বাস্তবে না হলেও কল্পনার জগতে যেন বাস্তবের ছোঁয়া পায়। লেখ্যরূপের মাধ্যমে সৃষ্ট চরিত্ররা হয়ে ওঠে মূর্ত। তাতে যেন অনেকটাই রেস থেকে যায় বাস্তব ছোঁয়ার।
এই দুনিয়ায় বর্তমানে মানুষ খুব ব্যস্ত। হাজারো ভিড়ের মাঝেও মানুষ একা। কিন্তু এই একাকীত্বটা হতাশাজনক বা একঘেঁয়ে মনে হয় না তখনই,যখন একাকীত্বটা সৃষ্টির মধ্যে বা নিজের সাথে নিজের কথা বলার মাধ্যমে কেটে যায়। নিজের সাথে সুন্দরভাবে সময় অতিবাহিত করার একটা উপাদান হল এই "লেখা"। লিখতে লিখতে সময় যে কখন অতীত হয়ে যায় -অনেক সময় তা বোঝাই যায় না।
নিত্যনতুন ভাবনা আর সেই ভাবনাকে লেখ্যরূপ দেওয়া আর সেই লেখ্যরূপের অক্ষরের রাশিসমূহের মাঝে নিজের অস্তিত্বকে নতুনভাবে উপলব্ধি করা -এ একটা অনন্য ব্যাপার।
পরিশেষে বলা যায়, লেখাটা আমার একটা অন্যতম শখের(Hobby )বিষয়। লেখালেখির ফলে মনের মধ্যে এক প্রকার স্থিরতা ও প্রশান্তি আসে। মনের মধ্যে যখন অনেক এলোমেলো কথারা আনাগোনা করে-ভিড় জমায় মনের ঘরে-তখন কলমের চলমানতায়, কোরা কাগজের পাতায় সেই কথারা যেন মুক্তির স্বাদ পায়। বন্দী ভাবনাগুলো মুক্তির মাঝে শ্বাস নেয়। আর তখনই অন্তরের মধ্যে এক প্রশান্তির ভাব আসে- যা ভাষায় বলে বোঝানো সম্ভব নয়। কারণ এই ভাব নিতান্তই অনুভূতিগম্য-
ভাবের সাথে মিশে আছে,
যে অনুভূতি-
অনুভূতি বোঝে তা,
সেথা অসহায় শব্দরাশি।।
2 Comments
একদম ঠিক বলেছ মনের কথাগুলো।🌹
ReplyDelete"লেখাটা অনেক সময় নেশার মতো হয়ে যায়। কিছু না লিখলে কেমন একটা বেকার দিন বলে মনে হয়।" এই কথাগুলো একেবারে দামি কথা। মনের ভেতর জমে থাকা কথা যখন টগবগিয়ে ফুটে ওঠে,লেখক তখনই ব্যস্ত হয়ে পড়েন তাকে বাণীবদ্ধ করতে। কী লিখির থেকে কীভাবে লিখছি এই প্রশ্নটাই তখন বড়ো হয়ে ওঠে। থামলে চলবে না, লিখে যেতে হবে।
ReplyDelete