Posts

কয়েকটি রম্য কবিতা /শুভশ্রী রায়

Image
কয়েকটি রম্য কবিতা শুভশ্রী রায় ক্ষীর-খাবার  পুষি আমার সোনা, করছ তুমি কী? বিরক্ত কোরো না, মন দিয়ে পড়ছি। পড়ো তাহলে, আমি কাজকর্ম করি চাপ বেড়েছে, তাই  অ্যাত্তো পড়া করি। তাহলে এখন খাবে না বুঝি ক্ষীর? কী বললে মাম্মা, প্লিজ বলো ফির! বানিয়েছি ঘন ক্ষীর, চাই না তোমার? কী যে বলো, জিভ জানো না আমার! জানি বলেই কষ্ট করে এ সব যোগাড় মাগো, দু'জন মিলে খাব ক্ষীর-খাবার। সমব্যথী পুষি ওরে পুষি-বিল্লি, তুই করেছিস কী? দেখো না মা, কত বড় মাছ এনেছি! ওরে পুষি কোথায় টাকা পেলি তুই? বলছি মা, তোমায় কিচ্ছু কী লুকোই? ভয় নেই, চুরি করিনি আমি বড় মীন তোমার পুষি কী হতে পারে অত হীন? একটা বাড়ীতে মেরেছি ইঁদুর একশো খুশী হয়ে তারা দুশো টাকা দিল গো, গুনে গুনে টাকা ট্যাঁকে ভরেছি আমি যেমন তাদের অর্থ, আমার শ্রমও দামী। তারপরে মনে হল, একটু বাজার যাই কতটুকু ভালোমন্দ আমরা এখন খাই? ভাবলাম দরদাম করে কিনে নিই মাছ বড় দেখে, মা-মেয়ে মিলে খাব আজ। সোনা বিল্লি , তুই আসলে এত সমঝদার! বলি না তবু জানিস, কষ্টে চলছে সংসার  সোনা, চোখে জল এস গেল রে আমার, চোখ মোছো, মেয়ে বোঝে অভাব তোমার। ভান্ড কান্ড  কালকে পূর্ণিমায় কারা যেন করেছে এক কান্ড ছা

পুঁড়া পরব /ভাস্করব্রত পতি

Image
পশ্চিমবঙ্গের লৌকিক উৎসব, পর্ব -- ৪৭ পুঁড়া পরব  ভাস্করব্রত পতি  "ওই ছেনাটা সউ ছেনাটা ওই ছেনাটা সউ ছেনাটা / জলদি করি গাধুই আয় / কলঘাটে আছে হলদি বাটা / তেল মাখিলে আজকে গায়। / তুলসী মঞ্চে হয়টে পূজা, / বৈঠা ধূপে হলদি পতর / ধুবলা ঘাসে ফুল চন্দন, / শীত-আঘ্রাণে পড়নে কাকর। / লুয়া জামা লুয়া পেন্ট / আনা হিচে তোর পিনে, / ফোঁটা গটায় লিয়ার পরে, / পরবু সব অষ্টমীর দিনে / যারনে যারনে পড়ুয়ান আছো / জলদি জলদি আইস, / পিঠা পায়েশ লুচি পুরি / দুপুর হিনে মাংস। / ধানের কেরা গুহাল ঘেরা, / মার্কা কালীর ঝি, / বাছুর গাধায় কই গাড়িয়ায়, / আজ অষ্টমী তারনেকার বি। / পূজা হিলা, সকাল সকাল / গড় করিলে বাবু, / মামাঘরনু আইসচে সবলোক / ভালামন্দ কত খাবু। / ওউ ছেনাটা সউ ছেনাটা / কত অষ্টমী পাবু / সকললোকের আশীর্বাদে / মঙ্গলে তুই রইবু। / অনেক ভালায় রইবু"। সুবর্ণরৈখিক ভাষায় 'পুঁড়া পরব' বা 'পৌড়াষ্টমী' নিয়ে আঞ্চলিক কবিতায় কবি পবিত্র পাত্র তুলে ধরেছেন এক অনন্য লোকাচারের বিবরণ। একে কেউ বলেন 'পৌড়া অষ্টমী' বা 'পৌড়াষ্টমী' বা 'পোড়াষ্টমী' বা 

তিনটি কবিতা / মলয় সরকার

Image
তিনটি কবিতা  মলয় সরকার স্বপ্ন দেখা বুড়ি ছেঁড়া চটের ভাঙ্গা ঘরে প্রদীপ জ্বলে না। স্বপ্ন দেখে গাল তোবড়া হাড় ছাড়ানো বুড়ি, শীতের রাতে কুকুর যেন ছেঁড়া কাঁথায় মুড়ি, তুলসী তলা নেইত ঘরে প্রদীপ জ্বলে না। স্বপ্ন দেখে অতীত দিনের কোমর কুঁজো বুড়ি,  শাঁখ ঘন্টা বাজছে কোথায় ঠাকুর পূজোর ঘরে- জমি জিরেত হারিয়ে গেছে সবাই গেছে মরে, স্বপ্ন দেখে আজও মনে, চুলে শনের নুড়ি। কোন কালে কোন গ্রামে ছিল চোদ্দ ঘরের বাড়ি, বাপের ছিল স্বামীর ছিল গোয়াল ভরা ধান, কোন আকালে কেমন করে সবই অবসান, আপন যারা ছিল সবাই দিয়েছে আজ পাড়ি। স্বপ্ন তবু আঁকছে চোখে মায়ার কাজল টান, হাড় হাবাতে সব খোয়ানো ডাইনি সে এক বুড়ি- হারিয়ে গেছে কোন অতলে পুরানো সম্মান- মনের মাঝে তবু যেন ফুটছে সে এক কুঁড়ি। তুলসী তলা হারিয়ে গেছে প্রদীপ জ্বলে না, সব গিয়েছে বুড়ির তবু স্বপ্ন মরে না। পথজ পথের ধারেতে জন্ম হয়েছে পথই হয়েছে ঘর, আকাশের তলে ভূমিশয্যায় উন্নিদ রাত কাটে, পথে পথে আছে উল্লাস তার পথেই তো অবসর। সন্ধ্যা যখন রক্তিম ফেনা ছড়ায় সন্ধ্যামাঠে- স্বপ্ন হাজার ভিড় করে সেই আঁধার পথের কোণে, সাগরের মত মুক্ত জোয়ার খেলে যায় দিবা নিশি- প্রাত্যহিকের চাওয়া পাওয়া কিছু

পতনমনের ছবি /শতাব্দী দাশ

Image
পতনমনের ছবি শতাব্দী দাশ - ছবি তুলে দিবি?  -চল্।  দাঁড়া। -না, এখন নয়। একটা বাচ্চাকে জড়িয়ে চুমু খাব।  তখন। -চুমু!  -হ্যাঁ, তাতে কী?  -না মানে, করোনার সময়… -ধুর, এখন অনেকটা কম। ঠিক আছে। শুধু জড়িয়ে ধরব।  -তাতে কী হবে? -একটা মেসেজ যাবে না? একটা ক্লাস-ডিসক্রিমিনেশন বিরোধী মেসেজ।  -জড়িয়ে টড়িয়ে ধরার আগে কথা বলে নিস্। গ্রামের লোক কীসে ক্ষেপে যায়, তার ঠিক নেই। -ক্ষেপবে কেন? আরে! র‍্যাশন নিয়ে এলাম, কাপড় চোপড়… একটা ছবি তুললে ক্ষেপে যাবে? কোথাও খটকা লাগে। কোথায়, তা বুঝতে পারি না বলে অস্বস্তি থেকে যায়। ছুটোছুটি করে বন্যা বাচ্চা পাকড়েছে এর মধ্যে। বন্যা বন্যার মতো আগলভাঙা। আমার মধ্যে একটা নিষ্প্রভ কুনোভাব আছে, টের পাই। একটা জড়তা। দেখি বেশি, বলি কম। যা বলি, তাও যেন প্রত্যয়ের উচ্চারণ নয়। অনেক সংশয়। বন্যা উল্টো পুরোপুরি৷ সব বোঝে, সব জানে। নির্ভুল। তার চেয়ে বড় কথা, নির্ভুলতা বিষয়ে নিশ্চিত। যা ভাবে, তাই করে৷ যা করে, তার জন্য যুক্তি মজুত হরওয়ক্ত। কোন্ থিয়োরিকে কোথায় বসিয়ে যে কী প্রমাণ করে দেবে! মুগ্ধবিস্ময়ে দেখি। কিন্তু খটকা থেকে যায়। স্নেহহীন চুম্বন লালাময় ঘিনঘিনে মনে হয়। যদিও এমনটা কোনো ম্যানি

রাষ্ট্রের প্রবণতা হল তার বাইরে অবস্থিত সব কিছুই গ্রাস করা/সন্দীপ কাঞ্জিলাল

Image
রাষ্ট্রের প্রবণতা হল তার বাইরে অবস্থিত সব কিছুই গ্রাস করা সন্দীপ কাঞ্জিলাল পান্ডবরা পাশা খেলায় প্রথম হেরে যেতে, ধৃতরাষ্ট্র মানবিকতার খাতিরে তাদের আবার ফিরিয়ে আনলেন। ফিরিয়ে আনতে শকুনি যুধিষ্ঠিরকে বললেন - রাজা ধৃতরাষ্ট্র আপনাদের সব ফিরিয়ে দিয়েছেন। তা নিয়ে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। তবে আর একবার পাশা খেলি আসুন। যুধিষ্ঠির তাতে সম্মত হয়ে পুনরায় পাশা খেলতেই, সব খুইয়ে বনবাসে গেলেন। এ কাহিনী আমাদের সবার জানা। এর ভেতর অন্যায় আছে বলে বোধ করি না। কারণ, রাষ্ট্রের প্রবণতা হলো, তার বাইরে অবস্থিত সবকিছুই গ্রাস করা, বা কুক্ষিগত করা। এটাই করে দেখিয়েছেন দুর্যোধন।  তাই আমরা দেখতে পাই পঞ্চায়েত, স্কুল, হাটবাজারে, প্রভৃতি জায়গায় নির্বাচনের নামে শাসকদলের দৌরাত্ম্য। কিন্তু আমরা জানি রাষ্ট্র সজীব নয়। রাষ্ট্রের চরিত্র নির্ভর করে তার শাসন প্রণালীর বৈশিষ্ট্যের উপর। এই শাসন প্রণালী সবার এবং প্রত্যেকের জন্য হতে চায়। অর্থাৎ এই শাসন প্রতিটি ব্যাক্তি ও জনসমূহ, এই দুইয়ের জন্যই হতে চায়। আবার দেখতে পাই, মহাভারতের যুদ্ধে ভীষ্ম যখন শরশয্যায় শায়িত, কৃষ্ণ, অর্জুন, যুধিষ্ঠির ভীষ্মের কাছে গেলেন। তখন ভ

আষাঢ়ে গল্পের আল ধরে /পর্ব ২০ /তন্দ্রা ভট্টাচার্য

Image
আষাঢ়ে  গল্পের আল ধরে  পর্ব ২০ তন্দ্রা ভট্টাচার্য   " আমার  মন কেমন করে কে জানে কাহার তরে" মন এক অদ্ভুত  জিনিস সত‍্যিই আমি  বুঝে উঠতে পারিনা নিজেই জানিনা কার জন‍্য কেন মন খারাপ করে,  মহা মুশকিল  তো মন নিয়ে!  টেলিপ‍্যাথি বলে একটা জিনিস আছে  এক আত্মা আর এক আত্মাকে টাচ করতে পারে। সন্তানের  মন খারাপ  করলে দূরে বসে মায়ের  মন খারাপ করে। প্রেমিকের জন‍্য ব‍্যাকুল প্রণয়য়িনী, প্রেমিকও অস্থির পাগলপারা হয়ে ওঠে।মন হাওয়ার আগে দৌড়াতে  পারে। ইচ্ছে করলেই সারা পৃথিবী  ঘুরে নিতে পারে কয়েক ঘন্টায়। মনে মনে আমরা অনেক  জাল বিছাতে পারি। মন দিয়ে যা কিছু  করি তাই প্রাণ পায় সেই  কাজ সফল হয়। "কুসুম নিঃশ্বাস ফেলিয়া বলিল, আপনার  কাছে দাঁড়ালে আমার  শরীর এমন করে কেন ছোটবাবু? শরীর। শরীর। তোমার  মন নাই কুসুম"  পুতুলনাচের ইতিকথার এই সেই  বিখ্যাত  উক্তি। সত‍্যিই তো প্রেম কি কেবল শরীরে? প্রেমের আবাসভূমি তো হৃদয়ের গভীরে।  মন যদি  স্থান দেয় তবেই তো শরীর  কথা বলবে।  " ভেবে নিয়েছ? অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা করেছ?" এখনও ব‍্যাক-আউট করার সময় আছে? কাতর কন্ঠে কীর্তি  বললে, "সমস্ত রাত ভেবেছি। ক

আমি আমার মতো /পর্ব ১ /সুকন্যা সাহা

Image
আমি  আমার মতো পর্ব ১ সুকন্যা সাহা  মুখবন্ধ  জীবন পথ একটা জার্নি। কত মানুষের  সঙ্গে পরিচয় যে হয়  এক জীবনে! কত ঘটনা,কত স্মৃতির মণি মুক্তো ছড়িয়ে থাকে জীবন  পথের  বাঁকে বাঁকে তার ইয়ত্তা নেই ! জীবন  সমুদ্রের তল থেকে সেইসব মণি মুক্তো তুলে এনে  মালা গাঁথার চেষ্টা এই লেখাগুলি। প্রত্যেক মানুষের জীবন  স্বতন্ত্র। নিজস্বতায়  ভরা ... এক্কেবারে unique।কারো সঙ্গে কারো জীবন মেলে না ... তাই  এই সব কটি লেখারই মূল সুর একটাই ... আমি আমার মতো ... এত খানি জীবন পথ পার হয়ে এসে ফিরে দেখাও  বলতে পারেন। কত মানুষের সঙ্গে যে আলাপ  হয় একজীবনে!কত বিচিত্র অভিজ্ঞতার  ঝুলি!তার ইয়ত্তা নেই... বিশেষতঃ আমরা  যারা মানুষ দেখি,তাদের কাছে এ এক পরম পাওয়া ... ছোটোবেলা থেকে আজ অবধি জীবনের নানা ঘটনাকে ঝাড়াই বাছাই  করে এই স্মৃতিগদ্যের স্বল্প পরিসরে নিয়ে আসা  বড় সহজ কথা  নয়... তবুও যেসব স্মৃতি, যেসব মানুষ, আমার মনে গভীর দাগ কেটে গেছে তারই  কিছু কিছু এখানে তুলে আনার চেষ্টা করেছি মাত্র ।আপনাদের  ভালো লাগলে সে হবে আমার পরম পাওয়া ...          নিজের মূল্যায়ন করিনি কখনও ; বোধহয় করাও যায় না ... তবু আয়নায়  নিজেকে দেখতে  গেলে বলত

তিনটি কবিতা /গৌতম বাড়ই

Image
তিনটি কবিতা  গৌতম বাড়ই কবিতা-১ ম্যাজিসিয়ান আজকাল যে শূন্যতার ভিতর বাস করি  হয়ত তুমিও সেই শূন্যতায় প্রহর গোনো যে ভাষা পেয়েছিলাম আমি তুমিও পেয়েছ সেইভাষা তবুও কেন  দ্বিখণ্ডিত হল আমাদের চিন্তা চেতনা ভাবনা কেন পথ গেল পাল্টে  তারচেয়ে ভালো শোনো ম্যাজিসিয়ানের গল্প দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে চেয়ার এগিয়ে দিতেই লোকটি আমূল বদলে গেল  প্রথমেই পাল্টালো চোখের ভাষা এই ভাষাতেই প্রথমে সন্মোহিত হয় সকলে  তারপর পোশাকের রঙ  দেহের বর্ণে এলো রামধনু  আগুন ঝরছে মুখে এত আগুন তো চাইনি ম্যাজিসিয়ানের  আমরা পুড়ছি হু হু  এই অনলে  সেই ম্যাজিসিয়ানটা বলছে-- আমাদের কণিষ্ক মুন্ডুকাটা  আমাদের হর্ষবর্ধন দানধ্যান করেন আমরা গাভীর পেছনে চরি অনবরত  আরও কঠিন সেই অজগরব্রত  ম্যাজিসিয়ানটা এখনও চেয়ার ছেড়ে উঠে বসেনি শেষ খেলাটা দেখাবে বলে  তার পায়ের কাছে বসে কিছু বাঘ কবুতররা রুমালের মতন নরম তুলতুলে  গ্রীবা তুলে বসে  সহকারী বারবার ঘোষণা করছেন-- আজকের এই ভয়ংকর খেলা দেখতে হলে দর্শকদের ভয়ানক রকমের চুপ করে থাকতে হবে কারণ  এই খেলার শেষে হয় ম্যাজিসিয়ান বাঘের পেটে কিংবা বাঘগুলি বেড়াল হয়ে যাবে  ঘোষণার শেষে চারিদিক

যেতে যেতে পথে-৪৬/রোশেনারা খান

Image
যেতে যেতে পথে রোশেনারা খান পর্ব ৪৬ ক্রমশ ভিড় বাড়তে শুরু করল। বাস এসে দাঁড়াল ১০ টা ৪০ মিনিটে। হুড়োহুড়ির কোনো ব্যপার নেই ,সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, সেই মতই বাসে উঠে ড্রাইভারের কাছে টিকিট কেটে জানালা ধারে বসলাম। এই বাসের যাত্রাপথ হল নটিংহাম থেকে ওয়ার্কশপ। ওয়ার্কশপ পর্যন্ত রিটার্ন টিকিটের মূল্য ৫ পাউণ্ড। ১০ পাউণ্ড দিয়ে আমরা দুজনের দুটি টিকিট কেটে নিয়েছি। শহর ছাড়িয়ে বাস ছুটে চলেছে গ্রামের বুক চিরে। রেপসিড কেটে নেওয়াতে দুপাশে নেড়া মাঠ দেখতে পাচ্ছি। এক জায়গায় দেখলাম সবুজ আলুক্ষেতে জল সিঞ্চন করা হচ্ছে অদ্ভুত কায়দায়। স্প্রিং এর সাহায্যে অনেক ওপরে উঠে কুয়াশার মত ছড়িয়ে পড়ছে। মাঝে মাঝে শূকরের ফার্ম, ছোট ছোট গ্রাম ও জঙ্গল দেখতে পাচ্ছি। বাসের প্যাসেঞ্জার যে যার গন্তব্য স্থানে নেমে যাচ্ছেন। আমরা বুঝতে পারছিনা কখন বোতাম টিপব। জানা না থাকলে মুসকিল। কারণ আগের স্টপেজ ছাড়ালেই পরের স্টপেজে নামার জন্য হাতের কাছে থাকা বোতামে চাও দিতে হবে। খান সাহেব পাশের এক ভদ্রমহিলাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানালেন, আরও দুটো স্টপেজের পর। কিন্তু সেই নিগ্রো ছেলেটি ড্রাইভারকে কি জিজ্ঞেস করে পরের স্টপেজে জঙ্গলের মধ্যে নে

তানসেন - এক অসাধারণ সঙ্গীতশিল্পী/ অষ্টাদশ পর্ব /দেবী প্রসাদ ত্রিপাঠী

Image
তানসেন - এক অসাধারণ সঙ্গীতশিল্পী                অষ্টাদশ পর্ব          দেবী প্রসাদ ত্রিপাঠী বিলাসখানি টোড়ি  তানসেনের শেষকৃত্য নিয়ে বেকায়দায় পড়লেন আকবর। তানসেনের শেষকৃত্য নিয়ে দাঙ্গা বেঁধে যাওয়ার উপক্রম। এমন সময়ে তানসেনের মেয়ে সরস্বতী বললেন তার মৃত্যুর পর যে এহেন পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে তা তাঁর পিতা ঠিকই আঁচ করেছিলেন। তাই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা নিয়ে তিনি নিজেই দিয়ে গেছেন বিস্ময়কর নির্দেশ। আর সেই নির্দেশ হল - গান। যে গায়ক তাঁর গানের প্রভাবে তানসেনের মৃত শরীরে সামান্য হলেও প্রাণের সঞ্চার করতে পারবেন, তাঁর ধর্মানুসারেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে আকবরের 'নবরত্নে'র অন্যতম এই 'রত্ন'টির।   অবাক হলেন আকবর নিজেও। এ অসম্ভব কাজ! গান গেয়ে মৃতের শরীরে প্রাণের সঞ্চার? কখনও সম্ভব নাকি?  সরস্বতী বললেন "হ্যাঁ জাহাপনা, তা সম্ভব। কারণ তা সম্ভব না হলে বাবা এরকম নির্দেশ দিয়ে যেতেন না। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের মধ্যেই রয়েছে সেগুলি, দরকার কেবলমাত্র আধ্যাত্মিক সাধনা সুরজ্ঞান ও আন্তরিক পরিবেশনা"।  শেষ পর্যন্ত সরস্বতীর প্রস্তাব আকবর মেনে নিলেন। হিন্দু মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের

ক্ষিতীশ সাঁতরা (গল্পকার, গীতিকার, লোক গবেষক এবং সংগ্রাহক, ভগবানপুর) /ভাস্করব্রত পতি

Image
মেদিনীপুরের মানুষ রতন, পর্ব -- ২৯ ক্ষিতীশ সাঁতরা (গল্পকার, গীতিকার, লোক গবেষক এবং সংগ্রাহক, ভগবানপুর) ভাস্করব্রত পতি "টাকা সঙ্গে যাবেনা, পয়সা সঙ্গে যাবেনা সোনাদানা গয়নাগাটি, একদিন তোর হবে মাটি, এক টুকরো কাপড়ও কেউ, অঙ্গে দেবেনা টাকা সঙ্গে যাবেনা, পয়সা সঙ্গে যাবেনা। অনেক জমা অনেক জমি, কত না দেশ বিদেশ ভূমি তৈজসের গুমর নিয়ে, বারেক বাড়ি বারেক কমি সাড়ে তিন হাত জমির বেশী, কেউ তো দেবেনা। সোনাদানা গয়নাগাটি, একদিন তোর হবে মাটি, এক টুকরো কাপড়ও কেউ, অঙ্গে দেবেনা টাকা সঙ্গে যাবেনা, পয়সা সঙ্গে যাবেনা। পূজ্য পিতা মা জননী, পুত্র কন্যা ভাই ভগিনী মিলে লাখো স্বজন বান্ধব, শুধুই পথের চেনাচিনি। শেষের বান্ধব শুধুই হরি, আর কেউ সঙ্গে হবেনা। সোনাদানা গয়নাগাটি, একদিন তোর হবে মাটি, এক টুকরো কাপড়ও কেউ, অঙ্গে দেবেনা টাকা সঙ্গে যাবেনা, পয়সা সঙ্গে যাবেনা"--- অতি সহজ সরলভাবে আমাদের সমাজের চিরন্তন রূপটি যিনি গানের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন, তিনি মেদিনীপুরের বর্ষীয়ান কবি, গবেষক, গল্পকার ক্ষিতীশ সাঁতরা। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নীরবে নিভৃতে সাহিত্য সেবা করে চলেছেন মেদিনীপুরের মাটিতে।  এই মুহূর্ত

তিনটি কবিতা /স্বপন কুমার দে

Image
তিনটি কবিতা  স্বপন কুমার দে এখনো দুঃশাসন        মহাভারতের দ্যূতসভা, প্রকাশ্য লাম্পট্যের এক ঘৃণিত অধ্যায়। নারীদেহ কামনার এক নির্লজ্জ নগ্নতা। ক্ষমতার আস্ফালনে কৌরবের পাপাচারের গরল উদ্গীরণ। পদানত গুরু,পিতা,পিতামহ বলবীর্যহীন, নপুংসক, মৃতপ্রায়। কৌশলে হস্তগত পাণ্ডবের রাজ্য। অতএব, ---এই তো সময়--- এখন তো পাণ্ডবজায়া দ্রৌপদী বিজয়ীর লুণ্ঠিত সম্পত্তি। পরাভূত, ক্রীতদাস পাণ্ডুপুত্রগণ অস্ত্রহীন,নতজানু,অসহায়। নির্লজ্জ অট্টহাস্যে মুখরিত কৌরবের রাজ্সভা। প্রকাশ্য সভায়,--- চুলের মুঠি ধরে দ্রৌপদীকে নিয়ে আসা হল। দুঃশাসনের পায়ের তলায় লুণ্ঠিতা,অপমানিতা পাঞ্চালি। দুই বিকৃত কামনার কামার্ত পুরুষ, সামনে এক অসহায়া যুবতী। উপস্থিত সভাজন,-- কেউ বা লজ্জায় নতশির কেউ বা উপভোগে মগ্ন । লালসা ভরা দু'জোড়া চোখ যুবতীর সর্বাঙ্গ লেহন করছে। ইঙ্গিতে,ইশারায়, অট্টহাস্যে ভয়ংকর সভাস্থল। পাণ্ডবেরা হতবাক বুঝতে পারছে না -- কী ঘটতে চলেছে ? দুর্যোধন আহ্বান করছে দ্রৌপদীকে তার ঊরুদেশে বসার জন্য। ভীম হঠাৎ নিজের জঙ্ঘাতে আঘাত করলেন। দুর্যোধন প্রকাশ্যে আদেশ করল দুঃশাসনকে দ্রৌপদীকে নগ্ন করার জন্য। দুঃশাসনের নোংরা হা

বাঁদনা পরব - গরয়া পূজা কী ও কেন /সূর্যকান্ত মাহাতো

Image
জঙ্গলমহলের জীবন ও প্রকৃতি পর্ব - ৪৫ বাঁদনা পরব -  গরয়া পূজা কী ও কেন সূর্যকান্ত মাহাতো কার্তিকী অমাবস্যার রাত্রি হল 'জাগরণের' রাত্রি। জিজ্ঞেস করলাম, "'জাগরণ' কেন? 'জাগরণ' মানে তো নিদ্রাহীন ভাবে জেগে থাকা। জেগে থাকা কেন?" বন্ধু বলল, কারণ এই রাত্রে জেগে থাকলে 'লক্ষ্মী' লাভ ঘটে এমনটাই মনে করা হয়। শুধু তাই নয়, এই রাতে জেগে থাকলে 'গো-সম্পদেরও' বৃদ্ধি ঘটে (ঝাড়খণ্ডের লোকসাহিত্য: পৃষ্ঠা১১৯)। সেই সঙ্গে 'ধেনু গাই' লাভের সম্ভাবনার কথা জাগরণের 'অহিরা' গানেও স্পষ্ট। এমন কি 'অমাবস্যা' রাতকেও জাগিয়ে রাখার কথা গানে গানে বলা হয়েছে--- "জাগ মা লক্ষ্মী জাগ মা ভগবতী জাগে ত অমাবস্যার রাইত রে জাগাকে পতিফল দেবে মা লছমী পাঁচপুতায় দশধেনু গাই রে।" বললাম, "কীভাবে সবাই জেগে থাকে?" বন্ধু বলল, "'অহিরা' গানে গানে। ঢোল ধামসা নাগাড়া মাদলের মতো বাদ্যযন্ত্রের বাজ বাজনায়। নেচে নেচে। গানের নাম 'অহিরা' গান হলেও একে 'গোরু জাগানোর গান' বা গোরু 'জাগ্যানা গান' বলেও অভিহিত করা হয়।