Posts

Showing posts from April, 2022

নাস্তিকের ধর্মাধর্ম - পর্ব- (৫০)/সন্দীপ কাঞ্জিলাল

Image
নাস্তিকের ধর্মাধর্ম  পর্ব- ৫০ সন্দীপ কাঞ্জিলাল ভারতবর্ষ ও ধর্ম মানদণ্ডের নিরিখে একদিকে চৈতন্যের সর্বোচ্চস্তরে মানুষ, অন্যদিকে রয়েছে 'উদ্ভিদ জগৎ', স্থাবর বস্তুজগতের যাবতীয় আবির্ভাব। গৌতমবুদ্ধ ঈশ্বরীয় কোনো সত্তায় অবিশ্বাসী ছিলেন, কারণ তা অনুমান নির্ভর। ঈশ্বর আছে কি নেই- এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি নিরব থাকতেন। তাঁর সময়ে মানুষের নৈতিকতার দিকটি উল্লেখযোগ্যভাবে চর্চিত হত এবং নশ্বরতা, সদাপরিবর্তনশীলতা এবং আত্মার অস্তিত্বহীনতা, এই সবই বিচারের বিষয় ছিল। সুকর্ম সাধন শ্রেষ্ঠ পথ বলে বিবেচিত হত।    সাংখ্যদর্শনে দুটি চিরন্তন মৌলিক বা আদি বাস্তব সত্যের স্বীকৃতি আছে। একটি হল বাস্তব প্রকৃতি যা নির্জ্ঞানের সম্পদ, অপরটি পুরুষ যা সজ্ঞানের বা সচেতনতার ধন। প্রকৃতি পুরুষের সংসর্গে এসে বিশ্বসংসারের ক্রিয়ায় লিপ্ত। এই সংযোগটি কিভাবে ঘটেছে বা ঘটে- এ ব্যাপারে সাংখ্য নিরব। পতঞ্জলি দর্শন এই সংযোগের পিছনে অবিদ্যা এবং ঈশ্বরের ভূমিকাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। যোগদর্শনের ব্যাখ্যা হল, ঈশ্বরের সংসর্গ ব্যতীত এই সংযোগ সম্ভব নয়। ন্যায় বৈশেষিক দর্শনের মত হল- ঈশ্বর এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, যার কোনো পরিবর্ত

সাহিত্য/ বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়

Image
সাহিত্য   বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় আমি তখন দার্জিলিং -এ । আমার বয়স তখন ২৩+ মাত্র । চাকরি করতে এসেছি শ্রী রামকৃষ্ণ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে । সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদে। বলা বাহুল্য এতো অল্প বয়সে এহেন উচ্চপদে আসীন হয়ে আমার মনে বেশ একটা গর্ব ভাবও চলে এসেছিলো । স্কুলটি শ্রী রামকৃষ্ণ বেদান্ত মঠের কর্তৃত্বের অধীন । মঠের অধ্যক্ষ তখন স্বামী ভবেশানন্দ মহারাজ । স্বামীজী আমাদের খুবই ভালোবাসতেন। আমরাও দু বেলাই তাঁর কাছে যেতাম। তাঁর মুখের কথা শুনে খুবই আনন্দ পেতাম। আমরা বলতে আমি ও মৃণাল কান্তি সিংহ। আমরা একই সঙ্গে বাণীপুরে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম।আমরা একেবারে হরিহর আত্ম ছিলাম দুই জনে । বয়স কম থাকায় আমরা খুবই উৎসাহের সঙ্গে কাজ করতাম । আর অচিরেই স্থানীয় অভিভাবক ও ছাত্র ছাত্রীদের কাছে আমরা খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলাম। একবার স্থানীয় সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বড়ুয়া সাহেব আমাকে তাঁদের স্কুলে সাহিত্য বিষয়ে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানালেন । শ্রোতারা হবে নবম হতে একাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছাত্রীরা । তিনটে ভাষায় বলতে হবে বাংলা,ইংরেজি এবং নেপালি । আমি নেপালি ভাষায় তেমন ভাবে বলতে পারবো ন

থেরি - দ্বৈত সত্তায় থালাপতির ধুন্ধুমার! /রাকেশ সিংহ দেব

Image
থেরি - দ্বৈত সত্তায় থালাপতির ধুন্ধুমার! রাকেশ সিংহ দেব পরিচালক - এটলি কুমার অভিনয় - বিজয়, সামান্থা রুথ প্রভু, প্রভু, অ্যামি জ্যাকসন।  মুক্তি - ১৪ এপ্রিল ২০১৬  রেটিং - 3/5 বর্তমান সময়ে নানান ওটিটি প্ল্যাটফর্মের রমরমায় মুঠোর স্মার্টফোন যেন হয়ে উঠেছে পার্সোনাল মুভি থিয়েটার। থিয়েটার মাল্টিপ্লেক্সের ছায়া না মাড়িয়েও যেকোনও জায়গায় যেকোনও সময় দর্শক তার পছন্দমত ভাষায় উপভোগ করতে পারেন মুভির মজা।   তবে এই পেইড ওটিটি প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি YouTube যে মুভি প্রেমিদের জন্য রত্নভাণ্ডার হয়ে উঠতে পারে তা বোধহয় অনেকে ভুলে যান। মুভি রিভিউতে এবার থেকে YouTube এ বিনামূল্যে দেখা যাবে এমন কিছু মুভির আলোচনা করা হবে। হতে পারে সেইসব মুভি বেশ পুরোনো তবে তাদের আবেদন আজও সমান। থালাপতি বিজয় অভিনীত 'থেরি' মুভিটি এমনই এক মাস এন্টারটেইনিং মুভি। মুভিতে দেখা যায় কেরালা প্রদেশে বাস করা এক সাধারণ ব্যক্তি, নাম জোসেফ, পেশায় বেকারি বিক্রেতা। তার একটি মেয়ে আছে, যার নাম নিভি। সেই নিভির স্কুলের এক শিক্ষিকার সাথে নিভির বাবা জোসেফের পরিচয় হয়। জোসেফ সবসময় মারামারি, দাঙ্গা হাঙ্গামা এড়িয়ে চলে। কিন্তু

যেতে যেতে পথে--১৭/রোশেনারা খান

Image
যেতে যেতে পথে রোশেনারা খান পর্ব  ১৭ ধিরে ধিরে গ্রাম বদলাতে শুরু করেছে। গড়বেতার ময়রাকাটা থেকে মঙ্গলাপোতা হাইস্কুল পর্যন্ত কাঁচা রাস্তায় পিচ ঢালা হয়েছে কয়েক বছর পূর্বে। ব্যাঙ্ক, অফিস ইত্যাদিও হয়েছে। কাছারি বাড়ির সামনে বাসস্ট্যান্ড হলেও নাম খড়কুশমা  বাসস্ট্যান্ড। বাজারের ভেতরের  রাস্তা ঘিঞ্জি হওয়ার কারণে বড় বাস ঢুকতে পারেনা। আগে তো ছোট মোটরগাড়ি চলত।  সেই গাড়ির পিছনে হ্যান্ডেল দিয়ে  স্টার্ট দিতে হত। হেল্পারা কাজটি করত। তখন একটা মাত্র বাস আমলাগুড়া স্টেশন থেকা খড়কুশমা বাজার দুবেলা যাতায়াত করত। হেল্পার ছিল ডোম পাড়ার নিবারণ কাকা। নিবারণ কাকার স্ত্রীকে কোনদিন দেখিনি, একমাত্র ছেলেকে নিয়ে থাকত। অন্য সময় বাঁশের ঝুড়ি, কুলো ইত্যাদি বানিয়ে বিক্রি করত। ফুল চাষের খুব শখ ছিল, শীতকালে উঠোন আলোকরে ফুটে থাকত গাঁদা চন্দ্রমল্লিকা, মোরগঝুটি নানারকম মরশুমি ফুল।     রাস্তায় পিচঢালার পরে পরেই ওই রাস্তা ধরে বিদ্যুৎ এসে গেছল খড়কুশমায় ।বিয়ের পর একবছরের মধ্যে স্বামী, সংসার, মা বাবা হওয়ার রহস্য সবই প্রায় জানা হয়ে গেছে। আগেই বলেছি উনি এলে আমরা দু’জনে জঙ্গলে, নদীর ধারে বেড়াতে যাই। সেদিনও গেছলাম, ফিরে এসে সন

চিরকুটে রাশিয়া : ট্রেন / বিজন সাহা

Image
চিরকুটে রাশিয়া  ট্রেন / বিজন সাহা  ট্রেনের প্রতি আমার বরাবরই এক ধরণের দুর্বলতা আছে। আমাদের এলাকায় ট্রেন নেই। প্রথম ট্রেনের সাথে পরিচয় ছবিতে। পরে মির্জাপুর মামা বাড়ি যেতে রাস্তায় ট্রেন দেখি। প্রথম ট্রেনে চড়ি ১৯৬৯ সালে কোলকাতা বেড়াতে গেলে। সেটা ছিল বনগাঁ থেকে শিয়ালদা। তারপর বোকারো, হিন্দ মোটর, গুপ্তিপাড়া, বহরমপুর – অনেক জায়গায়ই ট্রেনে যাতায়াত দাদা, দাদু, মামা, মাসীদের ওখানে। সব সময়ই মনে পশ্ন জাগত ট্রেন কীভাবে ঘোরায়। এমনকি এখনও মনে মনে ট্রেন ঘুরছে সেটা কল্পনা করে শিহরিত হই। সোভিয়েত ইউনিয়নে এসে ট্রেনের সাথে নতুন করে বন্ধুত্ব হয়। ট্রেন মানেই লম্বা জার্নি। অনেক অনেক বন্ধু বান্ধব। কয়েকদিন ব্যাপি বাংলাদেশী ছাত্রছাত্রীদের মিলন মেলা। এমনকি এখনও বাড়ির পাশ দিয়ে যখন ট্রেন যায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখি। কী এক শিশুসুলভ আনন্দ পেয়ে বসে আমাকে। আজ সেই ট্রেন নিয়েই কিছু গল্প করব জীবনের পাতা থেকে।    ১৯৬৯ সাল। প্রথম বারের মত গেলাম ইন্ডিয়া। কিছুদিন বেহালায় দাদাদের ওখানে থেকে গেলাম দাদু বাড়ি – কোতরং। সেখান থেকে যাব পুরী। দাদুর বাসার ভাড়া থাকতেন রাম মামা। খুব আদর করতেন আমাকে। আমার তখন সবে ৫ বছর চলছে। ঠ

গওহরজান - এক বিস্মৃত অধ্যায়- ৬ /দেবী প্রসাদ ত্রিপাঠী

Image
গওহরজান - এক বিস্মৃত অধ্যায়  পর্ব - ৬                                দেবী প্রসাদ ত্রিপাঠী      তবে কালে খানের ঘটনাটি সেই সময় কালে হিন্দুস্তানি সংগীত শিক্ষার জগতে একটি সাধারণ ও প্রত্যাশিত ঘটনা ছিল। প্রখ্যাত গায়িকা বেগম আখতারের মত কিংবদন্তি গায়িকাও তাঁর লেখনীতে উল্লেখ করেছেন শিল্পী ও ছাত্রীদের প্রতি পুরুষ উস্তাদদের শারীরিক নিগ্রহ ও শারীরিক ঘনিষ্ঠতা প্রার্থনা করা। বাঈজী ছাত্রীদের প্রতি উস্তাদদের অমনোযোগের সাথে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যাপারটির সাথে এই বিশেষ দিকটির যোগ ছিল। উস্তাদদের এই মনোভাবের বিষয়টি মির্জা হাদি রুসওয়া তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস 'উমরাও জান'-এ তুলে ধরেছেন যা হিন্দি সিনেমা জগতের একটি বিখ্যাত চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়েছিল ১৯৮১ সালে।  হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের পরিবেশনা এবং প্রবহমানতার ক্ষেত্রে যেখানে লিঙ্গ ও সামাজিক পরিচয় ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত, সেই সময়ে গওহরজান ও অন্যান্য বিখ্যাত মহিলা শিল্পীরা সমস্ত প্রকার বাধা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে নিজেরাও যেমন অসামান্য সাফল্য লাভ করেছিলেন অনুরূপভাবে নবীন শিক্ষার্থীদের তারা খোলা মনে প্রশিক্ষণ দিতেন। যার

বটুদা এন্ড কোং/শ্রীজিৎ জানা

Image
বটুদা এন্ড কোং শ্রীজিৎ জানা সব পাড়ায় একজন করে দাদা থাকে।আজকাল হোয়েছে ভারী ঝক্কিঝামেলার ব্যাপার। দাদা বল্লেই সেইসব দাদাদের কথা সকলে ভাবতে শুরু করে দেবে। যাদের কথায় দেয়ালের টিকটিকিরা পর্যন্ত ইচ্ছেমতো টকটকাটক শব্দ বের করতে ভয় পায়। কিন্তু সেই প্রাণীটি যে তার স্বাভাবিক কর্মটি করতে পারলো না। মানে মোক্ষম সময়ে টকটকাটক করে অন্যের যাত্রায় ব্যাগড়া দিয়ে অপার আনন্দ লাভ করতে পারলো না তার দায় কে নেবে? তবে  অনেক সময় শাপে বর লাভ হয়। ভয়ে-দ্বিধায় কিছুক্ষণ থমকে পা ঘষতে থাকে। কেউ কেউ অশুভ ঈঙ্গিত ভেবে গমন পথের আগে পূর্ণছেদ বসিয়ে দেয়।দেখা যায় ব্যাক্তিটি গেল না বলে আপদ টলে গেল। নইলে মহা ফ্যাসাদ ঘটত।   বোস পাড়ার দাদা তেমন দাদা নয়। ওই যে মিত্তির বাবুদের পাড়ায় ঘনাদা ছিলেন। কিম্বা ধরুন গাঙ্গুলীবাবুদের পাড়ায় থাকতেন টেনিদা। বটুদা তেমনি আমাদের পাড়ার দাদা। উচ্চতা পাঁচ ফুট ছয়। গায়ের রঙ শ্যামলা। গড়ন পাতলা।মানে একখানা হাড়-পাঁজরার কাঠামোর উপর পাতলা  চামড়ার চাদর যেন টানটান করে জড়িয়ে দেওয়া হোয়েছে।পা থেকে কোমর পর্যন্ত সোজা এসে ঈষৎ বাঁক নিয়ে পুনরায় মেরুদন্ড সটান হোয়েছে।  হয়তো আচমকাই বলে ফেল্লুম, ---বুঝলে বটুদা এক

অশোক মহান্তীর কবিতা : জীবন ভাঙা পথে ঈশ্বরের গান -৮/দিলীপ মহান্তী

Image
অশোক মহান্তীর কবিতা : জীবন ভাঙা পথে ঈশ্বরের গান  দিলীপ মহান্তী                     ।৮। রাইনের মারিয়া রিলকে ঈশ্বরকে খুঁজে পেয়েছিলেন রাশিয়ায়। যে ঈশ্বর আলাদা আলাদা রূপে ছড়িয়ে আছেন টলস্টয় ও দস্তয়েভস্কির উপন্যাসের পাতায় পাতায়, পংক্তিতে পংক্তিতে। অশোক মহান্তীও ঈশ্বরকে খুঁজে পেয়েছেন জীবনের ক্ষণে ক্ষণে আর প্রকৃতির শূন্যতা ও পূর্ণতায়। কালকূটের মতো তাঁরও জিজ্ঞাসা ছিল: কোথায় পাবো তারে? প্রকৃতির মধ্যে, মানুষের মধ্যে নাকি যাবতীয় সৃষ্টির মধ্যে? সেই জিজ্ঞাসা থেকেই কখনো তিনি দেখেছেন ঈশ্বর ভাতের হাঁড়ির মধ্যে অবাধে ফুটছেন আর কখনো চৈত্রের বাতাস হয়ে ঝরিয়ে দিচ্ছেন সব পাতা আবার কখনো ফুল হয়ে গাছকে ভরিয়ে দিচ্ছেন সৌন্দর্যের কানায় কানায়। সকল নিয়মের মধ্যে ঈশ্বর আছেন এবং তিনিই হয়তো নিয়ম। যাবতীয় জ্বালা যন্ত্রণা, উত্থান পতন, সৃষ্টি ও ধ্বংসের মধ্যে নিয়ম হয়েই নিয়ম করেই ঈশ্বর আছেন। ঈশ্বরের নাম গানেই বাতাসে বয় ক্ষত নিরাময়ের ওষুধ। বুকে যে হাহাকার বাসা বাঁধে তার সঙ্গে লড়াই করার অবলম্বন। জ্বলে পুড়ে যাওয়া মাটিতে এক পশলা শ্রাবণ। এজন্যই বার বার জল আর আগুন হয়ে শব্দরা আসে। সেটা একেবারে প্রথম পর্যায় থেকেই:   ‘মধ্যরা

প্রথম মহিলা বাঙালি-বৈজ্ঞানিক ড: অসীমা চট্টোপাধ্যায় ― ০৫/পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা

Image
বিজ্ঞানের অন্তরালে বিজ্ঞানী ।। পর্ব ― ৬০ প্রথম মহিলা বাঙালি-বৈজ্ঞানিক ড: অসীমা চট্টোপাধ্যায় ― ০৫ পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা (১) গবেষণা ছেড়ে শিক্ষকতা! মানতে পারেননি আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়। ছাত্রীর এ হেন আচরণে যারপরনাই বিস্মিত তিনি। সবেমাত্র গবেষণার চৌহদ্দির মধ্যে ছাত্রীর অবাধ প্রবেশ ঘটেছে। অনেক টালবাহানার পরে জুটেছে বৃত্তি। তাহলে হঠাৎ এই ছন্দপতন কেন? ভেতরে ভেতরে ছাত্রীও বেশ আহত। তাঁর মনের ভেতরেও একটা তীব্র দ্বন্দ্ব! স্নায়বিক লড়াই! অসম যুদ্ধ! ডিসিশন নেবার অস্থিরতা। অবশ্য তাঁর মনের ইচ্ছা খানিকটা পরিস্কার। গবেষণা চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর তিনি। হৃদয়ের গোপনে সযত্নে লালিত এ তাঁর দৃঢ় প্রত্যয়। আদৌ তাঁর সে-সংকল্প, বাসনার সফল বাস্তবায়ন ঘটবে কি? পায়ের তলায় মাটিটা ক্রমশ কাঁপছে।   সালটা ১৯৪০। সে-বছর কলকাতার লেডি ব্রেবোর্ন কলেজে শিক্ষিকা হিসাবে নির্বাচিত তিনি। তাঁর লেকচারার অ্যাপয়মেন্টে সিলমোহর পড়ে গেল। অথচ দোদুল্যমান মন! পেণ্ডুলামের মতো দুলছে তাঁর গবেষণার ভাগ্য। নাহ! আর কোনও উপায় নেই। অধ্যাপনার কাজে শেষমেশ তাঁকে যোগদান করতেই হল।   সমস্যা অন্যত্র― অধ্যাপনার কাজে মনোনিবেশ করলে তাঁর শখের গবেষণার কী

তুর্কী নাচন--১৭/মলয় সরকার

Image
তুর্কী নাচন মলয় সরকার পর্ব- ১৭ (পূর্ব প্রকাশিতের পর) এতক্ষণ এত রাজঐশ্বর্য, দামী জিনিষের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে মন যেন কেমন ক্লান্ত হয়ে পড়ছিল। বুঝতে পারলাম, ক্রমাগত ঐশ্বর্যেও একটা ক্লান্তি আসে, তখন মন চায় সেই প্রকৃতির নিজের হাতে গড়া সবুজ ঘাসের গালিচা, ঘন নীল জলের সৌন্দর্য।বাইরে বেরিয়ে এলাম।আমি সাধারণ মাটির মানুষ।  ছেলেবেলা থেকে রাজা মহারাজার গল্প, রূপকথার গল্প অনেক শুনেছি।এখন মনে হচ্ছে, সেগুলো গল্পেই ভাল আমার জন্য, বাস্তবে নয়। এখানে এসে যেন মন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল।   আমাদের এখানে ছেড়ে দিয়ে গাইড ছেলেটি বলল, এখানে আপনারা যতক্ষণ ভাল লাগে দেখুন। আমি যাই। কাল সকালে আসব দেখতে নিয়ে যাব এখানকার বিখ্যাত গ্রাণ্ড বাজার। বললাম, ঠিক আছে, যাও। বেলাও অনেকখানি ঢলে এসেছিল। শরীরও ক্লান্ত হয়ে পড়ছিল। এখান থেকে বেরিয়ে আমরা দুজনে পড়ন্ত বেলায় একটা বেঞ্চে বসলাম সামনের মানুষজনকে দেখব বলে। বসতেই বুলবুল বলল, আজ বসব এককাপ বেদানার রস নিয়ে। ভাবলাম , যাই নিয়ে আসি।  সেই বেদানার রসে চুমুক দিতে দিতে বুলবুল গেয়ে উঠল, ‘ বেদনায় ভরে গিয়েছে পেয়ালা, নিয়ো হে নিয়ো, হৃদয় বিদারি হয়ে গেল ঢালা, পিয়ো হে পিয়ো–’ আমি সঙ্গে সঙ্গে ব

জঙ্গলমহলের প্রান্তিক শ্রেণীর নারী সমাজ/সূর্যকান্ত মাহাতো

Image
জঙ্গলমহলের জীবন ও প্রকৃতি পর্ব - ১৭ জঙ্গলমহলের প্রান্তিক শ্রেণীর নারী সমাজ সূর্যকান্ত মাহাতো ওরা অপাংক্তেয়। ওরা ব্রাত্য। ওদের নিয়ে কাব্য কবিতা রচিত হয় না। ওদের নিয়ে কারুর তেমন উৎসাহ নেই। ওদের বীরত্ব গাথা রচিত হয় না। ওদের কথা শোনার কারও  আগ্রহ নেই। ধৈর্যও নেই। সেসব নিয়ে ওদেরও আক্ষেপ নেই। এটা ওদের অভ্যাস হয়ে গেছে। নিজেদের মতো করে বেঁচে থাকাটাই ওদের কাছে সব। বিলাসিতা ওদের কাছে স্বপ্ন। বরং লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর উক্তিটিই ওদের মূল মন্ত্র। "আরাম হারাম হ্যা।" সারাদিন মাঠে ঘাটে হাটে পরিশ্রম করেই ওরা দিনাতিপাত করে। হ্যাঁ, ওরা হল মিনতি, মালতি, ললিতা, শুক্লা, যমুনার মতো জঙ্গলমহলের অন্ত্যজ শ্রেণীর নারী সমাজ। সমগ্র জঙ্গলমহলের ৮০ শতাংশ মহিলা এরাই। চার দেওয়ালে ওরা বন্দি নয়। খোলা আকাশের নিচেই ওদের কর্মব্যস্ত দিন যাপন। পুরুষদের সঙ্গে সমান ভাবে ওরাও কাজ করে চলে। কেমন সেই দিন লিপি? অনেক বেলা অব্দি ঘুমানোর অভ্যাস নেই ওদের। কাকভোরে ঘুম থেকে উঠে পড়তে হয়। কারণ ওদের যে অনেক কাজ। ঘরের মরদগুলো বরং গায়ে রোদ না পড়লে উঠে না। কিন্তু ওদের সেটা চলবে না। ঘুম থেকে উঠলেই তো হাজারটা ঘরের