জ্বলদর্চি

যে অন্ধকারে শব্দ জ্বলে ওঠে : আমি কেন লিখি/বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়

যে অন্ধকারে শব্দ জ্বলে ওঠে : আমি কেন লিখি

বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় 

অনেকবার ভেবেছি, কেন  লিখি, সত্যিই তো  আমি কেন লিখি। এই প্রশ্নটি আমাকে বাইরে থেকে কেউ যতবার করেছে, তার চেয়ে অনেক বেশি করেছে আমার নিজের নীরবতা। কখনও গভীর রাতে, যখন সমস্ত বাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছে এবং টেবিলের উপর একমাত্র জেগে আছে একটি হলদে আলো; কখনও শীতের সকালে, জানলার কাচে জমে থাকা কুয়াশার ভিতর দিয়ে দূরের গাছগুলিকে মৃত মানুষের মতো স্থির দেখায়; কখনও কোনও প্রিয় মানুষের চলে যাওয়ার পর, যখন মনে হয় পৃথিবীর সমস্ত শব্দ হঠাৎ অর্থহীন হয়ে গেছে—সেইসব মুহূর্তে আমি নিজের কাছেই ফিরে এসেছি  এই প্রশ্ন নিয়ে : কেন লিখি? কী এমন আছে এই লেখার মধ্যে, যার কাছে আমি বারবার ফিরে যাই? কেন একটি বাক্য আমাকে এতখানি আলোড়িত করে? কেন একটি গল্পের অসমাপ্ত চরিত্র আমার ঘুমে এসে দাঁড়ায়? কেন আমি জীবনের সবচেয়ে ব্যক্তিগত, সবচেয়ে অসহনীয়, সবচেয়ে লুকোনো যন্ত্রণাগুলিকেও শেষ পর্যন্ত ভাষার কাছে নিয়ে আসতে চাই?
এর কোনও একরৈখিক উত্তর নেই। বরং মনে হয়, আমি যত লিখেছি, তত এই প্রশ্নের উত্তর আরও জটিল হয়েছে। আমি লিখি—কারণ আমার ভিতরে অনেক অন্ধকার আছে, আর সেই অন্ধকারে শব্দ না জ্বালালে আমি পথ হারিয়ে ফেলি। আমি লিখি—কারণ আমার স্মৃতি কখনও আমাকে একা থাকতে দেয় না। আমি লিখি কারণ যে মানুষগুলো হারিয়ে গেছে, তারা আমার ভিতরে এখনও ঘুরে বেড়ায়, আর তাদের জন্য কোনও আশ্রয় না বানালে তারা আমাকে ঘুমোতে দেয় না। আমি লিখি—কারণ জীবনের অনেক সত্য মুখে বলা যায় না; তা কেবল গল্প, গদ্য, কবিতা, নীরব বাক্যের ভিতর দিয়েই উচ্চারিত হতে পারে। 
লেখা আমার কাছে কখনও কেবলমাত্র সাহিত্যচর্চা নয়। এটি আমার আত্মরক্ষার এক গোপন কৌশল। জীবনে আমরা যতটা বাঁচি, তার চেয়ে কম উচ্চারণ করি। অনেক অপমান আমরা মুখ বুজে সয়ে নিই, অনেক শোককে সামাজিক শালীনতার আড়ালে রেখে দিই, অনেক ভালোবাসাকে নাম দিই না, অনেক হাহাকারকে স্বাভাবিকতার পোশাক পরিয়ে রাখি। বাইরে থেকে মানুষ ভাবে, আমরা খুব স্বাভাবিক আছি—কাজ করছি, কথা বলছি, হেসে উঠছি, বাজারে যাচ্ছি, উৎসবে যাচ্ছি, খবরের কাগজ পড়ছি। কিন্তু ভিতরে ভিতরে কত কথা যে জমে থাকে! কত না-বলা বাক্য, কত না-কাঁদা কান্না, কত অপরাধবোধ, কত অভিমান, কত অনুতাপ, কত লজ্জা—সব মিলিয়ে মানুষের ভিতর এক বিশাল নীরব ধ্বংসস্তূপ তৈরি হয়। আমি লিখি, কারণ সেই ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে আমাকে নিজের জন্য কিছু ইট, কিছু কাঠ, কিছু ভাঙা জানলা, কিছু অবশিষ্ট আলো কুড়িয়ে তুলতে হয়। লেখা না হলে আমি হয়তো সেই ভাঙাচোরা স্তূপের নীচেই চাপা পড়ে যেতাম।
আমার মনে হয়, আমি লিখতে শুরু করেছিলাম পৃথিবীকে বোঝার জন্য নয়, বরং পৃথিবীর হাতে আহত হয়ে ওঠার পরে নিজের রক্তের ভাষা খুঁজে পাওয়ার জন্য। মানুষের জীবনে এমন অনেক ক্ষত থাকে, যা দৃশ্যমান নয়। তারা রক্তাক্ত হয় না, ডাক্তার ডেকে ব্যান্ডেজ বাঁধা যায় না, এক্স-রে-তে ধরা পড়ে না। কিন্তু তারা থেকে যায়—কথার ভিতরে, নীরবতার ভিতরে, কারও মুখ দেখলেই হঠাৎ বুকের ভিতর কেঁপে ওঠার মধ্যে, বহুদিন পরে কোনও পুরোনো গন্ধ পেয়ে চোখ জলে ভরে ওঠার মধ্যে। আমি লিখি, কারণ এই অদৃশ্য ক্ষতগুলির একটি মানচিত্র দরকার। গল্প সেই মানচিত্র আঁকে। গদ্য সেই ক্ষতের চারপাশে ধীরে ধীরে আলোর বৃত্ত তৈরি করে। আমি যা সরাসরি বলতে পারি না, তা লিখতে পারি। আমি যে মানুষটিকে হারিয়েছি, তাকে চরিত্র করে ফিরিয়ে আনতে পারি। আমি যে অন্যায় সহ্য করেছি, তাকে কোনও দৃশ্যের ভিতরে এমনভাবে রেখে দিতে পারি যে, সে আর কেবল ব্যক্তিগত থাকে না—সে হয়ে ওঠে সময়ের দলিল।
কিন্তু শুধু এই কারণেই কি লিখি? না। আমি লিখি কারণ আমার চারপাশের মানুষরা আমাকে তাড়া করে। তাদের জীবন, তাদের নীরবতা, তাদের মুখের ক্লান্তি, তাদের অব্যক্ত হাসি, তাদের লুকোনো ক্ষুধা, তাদের অদ্ভুত বেঁচে থাকা—এসব আমাকে ছেড়ে যায় না। আমি রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে অনেক মুখ দেখি, কিন্তু সব মুখ সমানভাবে মনে থাকে না। কিছু মুখ ভিতরে এসে বসে যায়। কোনও বৃদ্ধ মানুষের হাঁটার ভঙ্গি, কোনও কিশোরীর হঠাৎ মুখ ঘুরিয়ে নেওয়া, কোনও রিকশাওয়ালার চোখের ক্লান্ত জল, কোনও মায়ের দীর্ঘশ্বাস, কোনও শ্রমিকের ফাটা স্যান্ডেল—এসবই আমার ভিতরে জমতে থাকে। আমি জানি, তারা প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব জীবন নিয়ে ব্যস্ত; তারা জানেও না যে আমি তাদের দেখেছি। কিন্তু আমার ভেতরে তারা থেকে যায়। যেন কেউ আমাকে বলে—দেখেছ যখন, আমাদের হারিয়ে যেতে দিও না। আমাদের নীরবতাকে শুধু নীরবতা থাকতে দিও না। আমাদেরও একটি ভাষা দাও। আমি লিখি, কারণ মানুষের এই নীরব অনুরোধ আমি অগ্রাহ্য করতে পারি না।
অনেক সময় মনে হয়, আমি আসলে স্মৃতির দায়ে লিখি। স্মৃতি আমার কাছে কখনও অতীতের সুশোভিত অ্যালবাম নয়; বরং এক ধরনের গোপন ভৌতিক বাড়ি, যেখানে বন্ধ ঘরগুলির ভিতরেও শব্দ হয়। আমি যখন লিখতে বসি, তখন দেখি বহুদিন আগের একটি দুপুর এসে টেবিলের পাশে বসেছে। কোনও মৃত মানুষের গলা ভেসে আসছে। কোনও পুরোনো বাড়ির ভাঙা বারান্দা হঠাৎ কাগজের উপর ছায়া ফেলছে। আমার শৈশবের উঠোন, কেরোসিনের আলো, মায়ের ডাকা, বাবার নীরব মুখ, দূরের মাইকের ভাঙা গান, কুয়াশার ভিতর হারিয়ে যাওয়া স্টেশন—সব একসঙ্গে জেগে ওঠে। তখন মনে হয়, আমি যদি না লিখি, এইসব কিছু একদিন সত্যিই মুছে যাবে। শুধু আমার জীবন থেকে নয়, ভাষা থেকেও। লেখা তাই অনেক সময় আমার কাছে বিস্মৃতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর উপায়। আমি লিখি, কারণ হারিয়ে-যাওয়া সময়কে অন্তত শব্দের ভিতরে কিছুক্ষণ বাঁচিয়ে রাখতে চাই।
আমি লিখি কারণ বাস্তব আমাকে কখনও সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট করতে পারেনি। চোখের সামনে যে পৃথিবী দেখি, তার ভিতরে সবসময়ই আর-একটি অদৃশ্য পৃথিবীর উপস্থিতি টের পাই। একটি ঘর শুধু ঘর নয়—তার দেওয়ালে ঘুমিয়ে থাকে বহুদিনের কান্না। একটি জানলা শুধু জানলা নয়—তার কাচে আটকে থাকে অনুচ্চারিত বিদায়। একটি পুরোনো কাপড়ের আলমারি শুধু কাঠের তৈরি আসবাব নয়—তার ভিতরে জমে থাকে মৃত মানুষের গায়ের গন্ধ। একটি নির্জন দুপুর কেবল দিনের একটি সময় নয়—সে আসলে বহু অসমাপ্ত কথার অভিভাবক। আমি লিখি, কারণ এই অদৃশ্য স্তরগুলোকে না লিখলে বাস্তব আমার কাছে অসম্পূর্ণ থেকে যায়। সুররিয়েল বলি, স্বপ্ন বলি, অন্তর্জাগতিক বলি—নাম যাই হোক, আমি জানি মানুষের জীবনের দৃশ্যমান পৃষ্ঠের নীচে আর-একটি স্পন্দন থাকে। লেখাই আমাকে সেই স্পন্দনের কাছে নিয়ে যায়।
আরও একটি কারণ আছে। আমি লিখি কারণ ভাষার ভিতর দিয়ে নিজেকে নতুন করে চিনতে পারি। আমরা সারাদিন নিজের সঙ্গে থাকি, অথচ নিজের সম্পর্কে সবচেয়ে কম জানি। কী আমাকে আহত করে, কোন দৃশ্য আমাকে ভিতর থেকে নেড়ে দেয়, কোন মানুষের মুখ আমি ভুলতে পারি না, কেন একটি সামান্য সংলাপ আমার ঘুম কেড়ে নেয়, কেন কোনও ভাঙা বাড়ি দেখলে আমার মনে হয় সেখানে এখনও কেউ বসে আছে—এসব প্রশ্নের উত্তর আমি সবসময় জীবনে পাই না। কিন্তু লিখতে বসলে পাই। একটি চরিত্রের ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে, একটি দৃশ্যের বর্ণনা করতে করতে, একটি শোককে বাক্যে পরিণত করতে করতে হঠাৎ নিজেরই মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যাই। বুঝতে পারি, আমি কোথায় ভেঙে গেছি, কোথায় এখনও ক্ষমা করতে পারিনি, কোথায় আমি অতিরিক্ত কোমল, কোথায় নির্মম, কোথায় ভীরু, কোথায় আশ্চর্যভাবে দৃঢ়। লেখা আমার কাছে তাই আত্মদর্শনের আয়নাও। আমি লিখি, কারণ লিখতে লিখতেই নিজের অন্ধকারের আকৃতি চিনতে পারি।
তবু এ-ও সত্যি যে, লেখা সবসময় আমাকে রক্ষা করে না; কখনও কখনও আরও বেশি বিপন্ন করে। একটি সত্যিকারের লেখা মিথ্যে সহ্য করে না। সে সাজানো দুঃখ, ধার করা আবেগ, অলঙ্কারের কৃত্রিম চকচকে ভাষা—এসব ভেদ করে সত্যের কাছে পৌঁছতে চায়। আর সত্য সবসময় আরামদায়ক নয়। অনেক সময় আমি লিখতে বসে এমন স্মৃতির সামনে দাঁড়িয়েছি, যাকে এড়িয়ে যাওয়াই সহজ ছিল। এমন মানুষের মুখ লিখেছি, যাদের কথা ভাবলেই ভিতরে কষ্টের ধাতব শব্দ উঠত। এমন ভালোবাসার কথা লিখেছি, যা উচ্চারণ করলেই মনে হত বুকের ভিতর কেউ পুরোনো দরজা খুলছে। তবু লিখেছি। কারণ বুঝেছি, যে-কষ্ট ভাষা পায় না, সে কেবল পচে যায়; যে-কষ্ট ভাষা পায়, সে ধীরে ধীরে অর্থে রূপান্তরিত হয়। আমি লিখি, কারণ অর্থহীন যন্ত্রণার চেয়ে অর্থময় যন্ত্রণা আমার কাছে বেশি সহনীয়।
আরও লিখি এই জন্য যে, আমি বিশ্বাস করি মানুষের জীবন তার দৃশ্যমান ঘটনাগুলোর চেয়ে অনেক বেশি গভীর। একজন মানুষ কেবল তার পেশা নয়, তার সামাজিক পরিচয় নয়, তার সফলতা বা ব্যর্থতার তালিকাও নয়। তার ভিতরে আছে এমন সব নদী, যাদের প্রবাহ বাইরে থেকে বোঝা যায় না। একটি গল্প, একটি গদ্য, একটি কবিতা—এইসবই আমাকে সেই অদৃশ্য নদীগুলোর কাছে নিয়ে যায়। আমি লিখি, কারণ মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোর এটাই আমার উপায়। আমি হয়তো কোনও বৃহৎ পরিবর্তন ঘটাতে পারব না, কিন্তু আমি অন্তত একটি নীরব মানুষকে ভাষা দিতে পারি; একটি অবহেলিত জীবনকে স্মরণীয় করে রাখতে পারি; একটি ব্যর্থতাকে শুধু ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে তার ভিতরের মানবিক দীপ্তিটুকু উদ্ধার করতে পারি। এও এক ধরনের দায়, এও এক ধরনের প্রেম।
লেখার মধ্যে তাই আমার কাছে আনন্দ আছে, কিন্তু তার চেয়েও বেশি আছে প্রয়োজন। যেমন শ্বাস নেওয়া প্রয়োজন, যেমন দীর্ঘ অন্ধকারের পরে একটু আলো প্রয়োজন, যেমন শোকের পরে কারও কাঁধ প্রয়োজন—তেমনই আমার কাছে লেখা প্রয়োজন। আমি লিখি, কারণ না লিখলে আমার ভিতরের ভিড় অসহনীয় হয়ে ওঠে। আমি লিখি, কারণ কিছু কিছু রাত আছে, যখন মনে হয় পৃথিবীতে আর কোনও ভাষা অবশিষ্ট নেই—সেইসব রাতেই একটি বাক্য এসে আমার পাশে বসে। আমি লিখি, কারণ যে মানুষগুলোকে হারিয়েছি, তারা আমার লেখার মধ্যে এখনও হেঁটে বেড়ায়। আমি লিখি, কারণ আমি জানি, জীবনের সমস্ত সত্য যুক্তিতে ধরা পড়ে না; কিছু সত্য কেবল গল্প হয়ে, কিছু সত্য কেবল রূপক হয়ে, কিছু সত্য কেবল সুররিয়েল আলোর ভিতর দিয়েই প্রকাশিত হতে পারে। আমি লিখি, কারণ ভাষা আমার কাছে শুধু প্রকাশের মাধ্যম নয়, বেঁচে থাকার উপায়।
শেষ পর্যন্ত যদি একেবারে ব্যক্তিগতভাবে বলি, আমি লিখি কারণ লেখাই আমাকে আমার ভাঙা অংশগুলিকে একত্র করতে সাহায্য করে। জীবন আমাকে বারবার ছড়িয়ে দেয়—দায়িত্বে, ক্ষতিতে, বিচ্ছেদে, অপমানে, ক্লান্তিতে, নৈঃশব্দ্যে। লেখা আমাকে আবার কুড়িয়ে আনে। একটি বাক্য, একটি অনুচ্ছেদ, একটি গল্প, একটি দীর্ঘ গদ্য—এসবের ভিতর দিয়ে আমি যেন নিজেকেই নতুন করে গড়ে তুলি। সেই গড়ে তোলা কখনও সম্পূর্ণ হয় না, কখনও স্থায়ীও নয়; তবু প্রতিবারই মনে হয়, আমি একটু বাঁচলাম, একটু বুঝলাম, একটু সহ্য করতে শিখলাম।
এইজন্যই আমি লিখি। কোনও প্রতিষ্ঠার জন্য নয়, কেবল পাঠকের বাহবা পাওয়ার জন্যও নয়, এমনকি শুধু সাহিত্যিক পরিচয়ের জন্যও নয়। আমি লিখি, কারণ আমার ভিতরে যে অন্ধকার আছে, সেখানে শব্দ না জ্বালালে আমি নিজেকেই হারিয়ে ফেলব। আমি লিখি, কারণ হারিয়ে-যাওয়া মুখগুলোর জন্য আমার ভিতরে এখনও জায়গা আছে। আমি লিখি, কারণ পৃথিবীর দৃশ্যমান অংশের নীচে যে অদৃশ্য জলস্রোত বয়ে যায়, তার শব্দ আমি শুনতে পাই। আমি লিখি, কারণ মানুষের দুঃখ আমাকে ছেড়ে যায় না। আমি লিখি, কারণ কিছু ভালোবাসা কেবল লেখাতেই বাঁচে। আমি লিখি, কারণ নীরবতা সবসময় মহৎ নয়—অনেক সময় তা অসহায়। আমি লিখি, কারণ ভাষা আমাকে সেই অসহায়তার ভিতর থেকেও একটি ক্ষুদ্র আলোর দিকে নিয়ে যায়।
তাই “আমি কেন লিখি”—এই প্রশ্নের উত্তর শেষ পর্যন্ত হয়তো খুব সামান্য: আমি লিখি বেঁচে থাকার জন্য। কিন্তু এই ‘বেঁচে থাকা’ কেবল শরীর টিকিয়ে রাখার বেঁচে থাকা নয়; এটি স্মৃতি, অনুভব, সহমর্মিতা, ক্ষত, স্বপ্ন, পরাজয়, প্রেম, অনুতাপ, মানুষের প্রতি দায়—সব মিলিয়ে সম্পূর্ণ মানুষ হয়ে থাকার বেঁচে থাকা। আমি লিখি, কারণ লেখা আমাকে সেই মানুষটিকে হারাতে দেয় না।
🍂

Post a Comment

5 Comments

  1. AnonymousJuly 09, 2026

    অন্ধকারে জ্বলে ওঠা আলোয় অনেকটা আত্মপথ দেখা গেল।

    ReplyDelete
  2. কমলিকাJuly 09, 2026

    ভালো লাগলো।
    মানুষের নীরব অনুরোধ আপনি শোনেন,লেখেন জেনে।🙏

    ReplyDelete
  3. AnonymousJuly 09, 2026

    খুব ভালো লাগলো।🙏

    ReplyDelete
  4. AnonymousJuly 09, 2026

    খুব ভালো লাগলো।

    ReplyDelete
  5. AnonymousJuly 09, 2026

    মনের আলো জ্বেলে লেখা

    ReplyDelete