Posts

Showing posts from March, 2022

অর্ণব মিত্রের তিনটি কবিতা

Image
অর্ণব মিত্রের তিনটি কবিতা চিত্র- কবি। পায়রা দুটো  পায়রা দুটো ঘরে ঢোকার চেষ্টা করছে  জানলার কার্নিশের কাছে এসে-মুখ বাড়িয়ে তাকিয়ে আছে,  আমার শাসনের অপেক্ষায়।   আমি বসে আছি ঘরের ছায়ায়  আরাম-চেয়ারের সাচ্ছন্দে,  দেখছি জানলা দিয়ে বাইরের আকাশ,  ফাল্গুনের রোদে ঝলমলে লাল মাটির পথ,  দেখা যায় একফালি পুকুর ও তার জলে হাওয়ার নকশা,  পাতায় ফাঁকে ফাঁকে ফুলের খেলা ও  দূরে লাল মাটির গলিতে জবাফুলের অবনত ভঙ্গী, দেখছি আমের শাখায় বকুল এসেছে, তার থেকে ভেসে আসে ককিলের গান , একটি কিশোর আদিবাসী ছেলে চলেছে তার মহিষের সাথে  পুকুরের দিকে। মনে মনে ভাবি ,  পায়রা দুটোকে ঘরে ঢুকতে দিলে ভাল হতো ওরাও দেখত ছায়ায় বসে উজ্জ্বল আলোর জীবন।  ফিরে আসা  বৈদ্যুতিক আলোর সীমানা পার হয়ে অন্ধকারের ভিতর ঢুকছিলাম ঢুকছিলাম স্বপ্নের ভিতর,  বাস থেকে নেমে হালকা জ্যস্নায় দেখি লালমাটির পথ চলে গেছে দূরে, গাছের জ্যস্নাছায়ায় ছোট ছোট দোকান দুপাশে, ঝিঁঝিঁর শব্দ ভেসে আসে নিচু জমি থেকে, বাঁদিকে দেখি- সেই মাটির সিনেমা হল, স্নিগ্ধ সান্ধ্য হাওয়ার সাথে সাথে যার থেকে ভেসে আসত কত গান, আরও কিছুটা গেলে বাঁদিকে বেঁকে গেছে মাটির পথ। জ্

ভাবনা/পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায়

Image
ভাবনা পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন ভাবে লিখলে  তবে কবিতা বলে লোকে। তেমন ধারা ভাবনাগুলো আমার আসে, শোকে। মানিনা আমি শোকের সাথী কবিতা পাশাপাশি। তাই, না লিখে কেবল কথা বলতে ভালবাসি। কথায় বহু রঙের ছটা ছটায় বড় ধাঁধা। কখনও ফিরে ধূসর তাতে হাত পা সবই বাঁধা। সেই কারণে নেই কথাতে  শেখানো কোনও বুলি। কখনও চুপ, কখনও তাতে ঝড়ের সুর তুলি। ঝড় আমাকে সঙ্গী করে আবার করে পরও। তবুও মানি ,ঝড়ের স্থিতি মনের থেকে বড়। মন আমাকে মুক্তি দিলে ঝড়, সে টানে কাছে। মন বোঝালে, নিঃস্ব আমি ঝড় বলে, সে আছে। যখন ঝড় হাওয়ার বেশে আমাকে বলে ,শ্বাস- চির টা কাল বাঁচায় তোকে এ কর বিশ্বাস। সে আশ্বাসে মিথ্যে ভেবে সাক্ষী করি নদী। নদীর বুকে স্রোতের সাথে চলতে নিরবধি। স্রোত তা দেখে হেসেই মরে, 'বলিস খ্যাপা কী যে! আমার বুকে কি  ব্যথা আছে বুঝি কি আমি নিজে? তবুও তোর সঙ্গ আশা? এ তবে তোর দোষ। যে হাসি তোকে শান্তি দিলো আমাকে দেয় রোষ। স্রোতকে আমি বাহবা দেব? সে বুঝি সব জানে? সে বোঝে, রাত ভোরকে খোঁজে মুক্ত ঝরা গানে? কি করি? তাতে নীরব থাকি নীরব  প্রিয় বড়। কথার সাথে বিবাদ করে হয়না জড়সড়। অথচ দেখ, মানুষ ভাবে কথার দামই যত। কথার কাছে চুপকথারা কেবলই

শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ উপমামৃত-২৩/সুদর্শন নন্দী

Image
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ উপমামৃত    পর্ব-২৩ সুদর্শন নন্দী  ২২শে অক্টোবর, ১৮৮৫ খ্রীষ্টাব্দ (৭ই কার্তিক, ১২৯২, শুক্লা চতুর্দশী)। শ্যামপুকুরে শ্রীরামকৃষ্ণ — দুতলা ঘরের মধ্যে। ডাক্তার সরকার শ্রীযুক্ত ঈশানচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ও ভক্তেরা রয়েছেন।সাকার নিরাকার বিষয়ে বোঝাতে একের পর এক উপমা দিচ্ছেন।  উপমা হিসেবে এবার একটি গল্প বললেন ঠাকুর। একজন বাহ্যে গিছিল — দেখলে, গাছের উপর একটি সুন্দর জানোয়ার রয়েছে। সে ক্রমে আর একজনকে বললে, ‘ভাই! অমুক গাছে আমি একটি লাল রঙের জানোয়ার দেখে এলুম।’ সে লোকটি বললে, ‘আমিও দেখেছি, তা সে লাল রঙ হতে যাবে কেন? সে যে সবুজ রঙ।’ আর একজন বললে, না, না; সে সবুজ হতে যাবে কেন, কালো ইত্যাদি। শেষে ঝগড়া। তখন তারা গাছতলায় গিয়ে দেখে একজন লোক বসে। জিজ্ঞাসা করায়, সে বললে, ‘আমি এই গাছতলায় থাকি, আমি সে জানোয়ারটিকে বেশ জানি। তোমারা যা যা বলছো সব সত্য, সে কখনও লাল, কখনও সবুজ, কখনও হলদে, কখনও নীল আরও সব কত কি হয়। আবার কখনও দেখি কোন রঙই নাই!’ এবার ব্যখ্যা করে বোঝালেন তিনি-যে ব্যক্তি সদাসর্বদা ঈশ্বরচিন্তা করে, সেই জানতে পারে, তাঁর স্বরূপ কি। সে ব্যক্তিই জানে যে ঈশ্বর নানারূপে দেখা দেন। নানাভ

গওহরজান- এক বিস্মৃত অধ্যায় - ২/দেবী প্রসাদ ত্রিপাঠী

Image
গওহরজান- এক বিস্মৃত অধ্যায়    পর্ব - ২                                                                                                          দেবী প্রসাদ ত্রিপাঠী      গত পর্বে যে বিখ্যাত বাঈজীর কথা উল্লেখ করেছিলাম তিনি হলেন উনবিংশ শতাব্দীর বিখ্যাত বাঈজী গওহরজান। তাঁর আমলে তিনি তার রূপের জৌলুসে, বুদ্ধিদীপ্ত কথাবার্তায়, কন্ঠে সুরের মায়াজাল বিস্তার করে এবং সর্বোপরি বিভিন্ন ভাষার গানে পারঙ্গম হওয়ার সুবাদে যেমন শ্রোতা-দর্শকদের মনের মনিকোঠায় স্থান করে নিতে পেরেছিলেন, অনুরূপভাবে তিনি ভীষণ দেমাকীও ছিলেন। কতগুলি ভাষায় তিনি যে গান গাইতে পারতেন কলকাতায় তাঁর একবারের অনুষ্ঠানের গায়কীতে তিনি তা পরিস্ফুট করেছিলেন। সেই ঘটনার কথা এখানে উল্লেখ করছি।  কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত মল্লিক ভবনে ১৯১৩ সালে মতিলাল মল্লিকের বড় ছেলে মুরারিমোহন মল্লিকের বিবাহ অনুষ্ঠানে এক সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইংরেজ, বাঙালী, মাড়োয়ারী, রাজস্থানী ও পাঞ্জাবী সম্প্রদায়ের লোকজন। অনুষ্ঠান শুরুর আগে গওহরজান উদ্যোক্তাদের অনুরোধ করেছিলেন ভাষার ভিত্তিতে যেন দর্শকদের বসার

অশোক মহান্তীর কবিতা : জীবন ভাঙা পথে ঈশ্বরের গান- ৪দিলীপ মহান্তী

Image
অশোক মহান্তীর কবিতা : জীবন ভাঙা পথে ঈশ্বরের গান- ৪ দিলীপ মহান্তী                                                                    অশোক মহান্তীর দ্বিতীয় কবিতার বই 'ধৃতরাষ্ট্রের মা'। এই সময়ের  'ধৃতরাষ্ট্রের মা',  'মদনভস্ম', 'কুমারী গর্ভ' ইত্যাদি অনেক কবিতা মিথনির্ভর। এই ধারা পরে আরো এগিয়ে গেছে ও শক্তিশালী হয়েছে 'কুরুক্ষেত্রের শ্বেতপত্র', 'উত্তর কুরুক্ষেত্র', 'রাষ্ট্রনীতি' প্রভৃতি অসামান্য শিল্পসার্থক কবিতার মাধ্যমে। সমকালকে, রাজনীতিকে, ব্যক্তিগত জ্বালা-যন্ত্রণাকে মিথের বর্মের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। শিল্পের আয়নায় যা কখনো অসঙ্গত নয়। পাশাপাশি সরাসরি সমকাল নির্ভর উল্লেখযোগ্য কবিতাও অনেক। যেখানে তেমন কোনো আড়াল নেই। যেমন 'গর্ভপাত ১', 'গর্ভপাত ২'-এর কথা বলতেই হয়। এখানে সমস্ত সভ্যতার বেদনা কবিতার পংক্তিমালায় ঝরে পড়েছে। এই গ্রন্থে তিনি ব্যক্তি যন্ত্রণার পরিধি বাড়িয়ে সভ্যতার সংকটকে ধরলেন। আর সেই মহাকাশকে আগুনে পুড়ে যেতে দেখলাম। এই বিষয়টি আরো জোরালো ভাবে ফুটে উঠলো 'দ্বিতীয় সঙ্কেত' কাব্যগ্রন্থে। '

ডাবর /শ্রীজিৎ জানা

Image
ডাবর শ্রীজিৎ জানা বাজারের উত্তর কোণটায় ভিড় দেখে সাইকেল থামিয়ে দ্যায় সুরঞ্জন। চারদিকে লোকজন কাউকে যেন ঘিরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। একধরনের ধাতব গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে বাজারময়। সাইকেলটা স্ট্যান্ড করে  ভিড়ের দিকে সে  হাঁটা দ্যায়। গ্রাম থেকে কয়েক কিমি দূরে জেলাশহরগামী পিচ সড়কের পাশে গড়ে ওঠা বাজার। ক্রমে মারাত্মক জৌলুস বেড়েছে তার। গুচ্ছের দোকানপাট। খাবারদাবার, সাজপোশাক, ঘরগেরস্থের হাবিজাবি জিনিসপাতির সম্ভারে নজরকাড়া তাদের লোভনীয় আমান্ত্রণ! বাহারি নামের হোর্ডিং লাগানো সামনে। চা দোকানের নাম টি এন্ড টক অথবা চায়ে পে চর্চা। ফাস্টফুডের নামে হ্যাংলা, খাইখাই অথবা পেটুক। কসমেটিক অথবা বিউটি পার্লার মানেই রূপলাগি,সাইন এন্ড সাইন ইত্যাদি কত নাম! রাতে বাজার দুধসাদা আলোয় থইথই করে। দোকানের মুখমণ্ডল রঙিন আলোর বিচ্ছুরণে আরো মোহময়ী সাজে প্রলুব্ধতা ছড়ায়।  বাজারের চেহারাতে যত চেকনাই এসেছে, লাগোয়া জায়গার দরদাম বেড়েছে হু হু করে। সামনেই বিষ্ণুপ্রিয়া উচ্চ বিদ্যালয়। পিঠোপিঠি একটা প্রাইমারি স্কুল আর একটা বেসরকারি ইংলিশ মিডিয়ম স্কুল। কয়েক পা হাঁটা দিলেই অঞ্চল অফিস। গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র। ধানিজমি গিলে খাচ্ছে কংক্রিট দে

স্বীকারোক্তি /অর্বাচীন পন্ডিত

Image
স্বীকারোক্তি  অর্বাচীন পন্ডিত  ১ . তোমাকে বিরক্ত করতে না চেয়েও  অনিবার্য ভাবে তোমার কাছে ছুটে যাই  বারবার। বুকের কষ্টেরও নিজের ইচ্ছে থাকে তাকে কী করে শাসন করি বল ,কী করে শান্তির আশ্বাস থেকে দিতে পারি নির্বাসন।  সে যে দেখে সব রক্তে তার রক্ত মিশে আছে বগটুই ,লখীমপুর সব মিলেমিশে একাকার  ঝালদা হাঁসখালি কাছাকাছি চলে আসে মানুষ পোড়ার গন্ধে পুড়তে থাকে সে সেই কী ঘাতক নয়,নির্ভেজাল সরীসৃপ তার হাত আছে শুধু পেতে রাখার জন্য তার মুখ আছে অথচ একেবারে বোবা  তুমি ছাড়া তার আর  কোন বিকল্প নেই শান্তির সঙ্গে তুমি শক্তি দিও সমভাবে তাকে এক কাপুরুষ ছিঁড়ে বেরোক সত্যিকারের পুরুষ লালায়িত মুখের কৃত্রিম উজ্জ্বলতা  ধুয়ে যে সোচ্চারে আকাশে তুলবে মুষ্টিবদ্ধ হাত। ২ . ভারী গলাতেই  জানাই মৃত্যু সততই  দুঃখের  তবু বলি যারা সামান্য গোলাগুলি লাঠিসোটা থেকে নিজেদের বাঁচাতে পারে  না তারা কী সমান দায়ি নয়?অস্ত্র ক্ষমতা আজকের  না কি তবু তার মধ্যে বেঁচে আছি দিব্যি খোসহালে  প্রতিটি সকালে উঠে প্রথমেই বুঝে নিতে হয় হাওয়ার  মুখ কোন দিকে , কোন দিকে প্রবাহ তারপর লেখাজোখা আঁকাআঁকি গানবাজনা ইত্যাদি  পোঁটলাপুঁটলি সহ ভেসে

তুর্কী নাচন--১৩/ মলয় সরকার

Image
তুর্কী নাচন  মলয় সরকার পর্ব- ১৩ (পূর্ব প্রকাশিতের পর) এই সেতুর উপর দিয়ে যখন ফিরে ছিলাম, তখন এক অদ্ভুত জিনিস লক্ষ্য করেছিলাম। ব্রীজের উপর থেকে সমুদ্রের জলে ছিপে মাছ ধরা। সেতুর এ মাথা থেকে অন্য মাথা পর্যন্ত মানুষ দাঁড়িয়ে আছে ধারের রেলিঙে ভর দিয়ে চোখ নীচের জলের দিকে। আর প্রত্যেকের সামনে একটা নয়, বেশ কয়েকটা করে ছিপ । অনেক নীচে সমুদ্রের অত আলোড়িত জলে মাছ ধরার কায়দাটা কি, তা আর জানা হয় নি। তবে এত লোকের এক জায়গায় মাছ ধরার দৃশ্য আমি আগে কোথাও দেখি নি বলে ব্যাপারটা তুচ্ছ হলেও মাথায় গেঁথে আছে। ব্রীজ পার হয়ে ওপারে গিয়ে দেখলাম, স্থাপত্য বা মানুষের হাবভাবেও যেন কিছুটা তফাত রয়েছে, সেটা যেন মনে হল এশিয়া আর ইউরোপের তফাতের ফল।আবার কিছুটা আমার নিজের মনের ধারণা কি না জানি না, যেমন অনেকেই কন্যাকুমারিকার নীল সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে ভৌগোলিক সীমারেখার জন্য তিনটে সমুদ্রের তফাত নাকি বুঝতে পারেন।( যদিও এর কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই)  আমরা পৌঁছালাম একটি জাহাজ ঘাটায়। আসলে জাহাজ নয়, বড় লঞ্চ বা ক্রুজের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আমরা ,অনেক যাত্রীর সঙ্গেই অপেক্ষা করতে থাকলাম। এখানেও বেশ কিছু মানুষ ছিপ ফেলে মাছ ধর

জঙ্গলমহলের জীবন ও প্রকৃতি-১৩ /সূর্যকান্ত মাহাতো

Image
জঙ্গলমহলের জীবন ও প্রকৃতি পর্ব - ১৩ সূর্যকান্ত মাহাতো শাল মহুল ও কেঁদের বনে ওরা পাতা তুলে। শাল পাতা। কেঁদ পাতা। বসন্ত এখন বিদায়ের মুখে।  গ্রীষ্ম তাই কড়া নাড়ছে দরজায়। দিন দিন গরমের তাপমাত্রা যেভাবে বাড়ছে সেটা অনুভব করলেই বোঝা যাচ্ছে। এই সময়টা পাতা তোলার মরসুম। শীতে পাতা ঝরিয়ে উলঙ্গ শাল ও কেঁদ গাছগুলো সেজে উঠেছে নতুন পোশাকে। নবজাত কিশলয়গুলো সকালের নরম আলোয় বেশ ঝলমল করছে। জঙ্গলমহলের মানুষের কাছে পাতাগুলো হীরকদ্যুতির মতো। কারণ সেগুলো যে হীরের মতোই মূল্যবান। সেই প্রাচীনকাল থেকে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষগুলোকে অর্থের যোগান দিয়ে চলেছে পাতাগুলো। এই পাতা শিল্প কত কত পরিবারের একমাত্র রুজি-রোজগার। পাতা তোলার কাজটা মোটেও সহজ কাজ নয়। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে শহরবাসী যখন এসি-র তলায় স্বস্তি বোধ করছেন, জঙ্গলমহলের এইসব আদিবাসী ও  নিম্ন শ্রেণীর মা-বোনেরা তখন গভীর জঙ্গলে ঘুরে ঘুরে শাল পাতা সংগ্রহ করে চলেছে। পাতাগুলোকে বস্তায় ভরে, নয় তো বেশ গুছিয়ে গুছিয়ে বৃত্তাকার ভাবে পাকিয়ে বোঝা বাঁধে। সেই বোঝা মাথায় করে তারা বাড়ি ফেরে। কোনও কোনও দিন ফিরতে ফিরতে দুপুর গড়িয়ে যায়। সূর্যম

কবি নবীনচন্দ্র : একশো পঁচাত্তর বছর /সুগত ত্রিপাঠী

Image
কবি নবীনচন্দ্র : একশো পঁচাত্তর বছর সুগত ত্রিপাঠী ২৩ জানুয়ারি কেবল নেতাজির জন্মদিবস নয়, অপর এক কৃতি বাঙালির প্রয়াণ দিবস-ও। তিনি নবীনচন্দ্র সেন। রবীন্দ্র-পূর্ববর্তী তথা রবীন্দ্র-সমসাময়িক যুগের অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য কবি তিনি।         তাঁর ছাত্রজীবন ছিল খুবই উজ্জ্বল। পরাধীন ভারতবর্ষে চাকুরী জীবনেও ছিলেন সুপ্রতিষ্ঠিত। হয়ে ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। কিন্তু ইংরেজের চাকরী করলেও মনেপ্রাণে খাঁটি স্বদেশী ছিলেন মানুষটি। ছিলেন অসম্ভব তেজস্বী। ইংরেজ-শাসনের কঠোর সমালোচক। তারই ফলশ্রুতি তাঁর অসামান্য কাব্যগ্রন্থ 'পলাশীর যুদ্ধ'। হয়তো আবেগের কিছু বাড়াবাড়ি আছে এ কাব্যে, কিন্তু এ আবেগ যে তাঁর নিখাদ স্বদেশপ্রেম থেকে উৎসারিত, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। নবীনচন্দ্র সেনের কাব্য গীতিধর্মী, বর্ণনাবহুল। —"সামান্য বণিক এই শত্রুগণ নয়। দেখিবে তাদের হায়। রাজা-রাজ্য, ব্যবসায়, বিপণি, সমরক্ষেত্র, অস্ত্র-বিনিময়"— ভয়ানক ইংরেজ সম্পর্কে সিরাজ-সেনাপতি মোহনলালের মুখ দিয়ে ভারতবাসীকে তিনি এই ভাবে সতর্ক করে দিয়েছেন। এর ফলও অবশ্য ভুগতে হয়েছিল তাঁকে। ইংরেজ সরকারের রোষানলে পড়েছিলেন কবি।

গ্রামের শহুরে রূপকথা--১৩/সুরশ্রী ঘোষ সাহা

Image
গ্রামের শহুরে রূপকথা  ত্রয়োদশ পর্ব : একান্নবর্তীতা সুরশ্রী ঘোষ সাহা  সাদা মৌরী ফুলে ক্ষেত ভরে আছে। একটা হাল্কা মিষ্টি গন্ধ বাতাসের গায়ে নাছোড়বান্দার মত সেঁটে রয়েছে। বিকেলবেলায় একটু হাঁটতে বেরিয়েছি। পিছন থেকে কে যেন আমার নাম ধরে ডাকল। দাঁড়িয়ে পড়ে পিছন ফিরতেই দেখি, পারুল। বহু বছর পর পারুলকে দেখলাম। সেই আগের মতোই আছে। গায়ে একটা ছাপা সুতি শাড়ি। আঁচলটা ডান কাঁধ দিয়ে উঠে মাথায় ঘোমটা হয়ে বাম কাঁধে নেতিয়ে পড়ে আছে। গায়ের রঙটা অনেক চেপে গেছে। তবে মুখের হাসি সেই আগের মতোই। এগিয়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরল। আমার অস্বস্তি হচ্ছিল, অতিমারীর সময়ের কথা ভেবে। কিন্তু ও দেখলাম, ভ্রুক্ষেপহীন। ওর অমন ভালবেসে জড়িয়ে ধরায় আমিও ওর পিঠে হাত রাখলাম। পর পর প্রশ্ন করে গেল... কবে এলাম, কদিন থাকব, বাড়ির সবাই কেমন আছে, কোথায় বিয়ে হয়েছে, আর ছেলেপুলে কটা?   আমি হেসে ফেললাম। বললাম, তুই তো একই আছিস, পারুল? একসাথে পাঁচটা প্রশ্ন করলি আমায়।   দুই বন্ধু মিলে সামনের কুন্তী নদীর পারে গিয়ে বসলাম। আমাকে বলল, বেশিক্ষণ থাকতে পারব না, বুঝলি।   ছোট্টবেলা থেকে যখনই গ্রামের বাড়িতে যেতাম, মেয়ে বন্ধু বলতে