Posts

স্বনির্বাচিত কবিতাগুচ্ছ : তিন

Image
সৈয়দ কওসর জামাল   https://jaladarchi.blogspot.com/2020/05/blog-post_89.html বিকাশ গায়েন           https://jaladarchi.blogspot.com/2020/05/blog-post_28.html রবীন বসু                 https://jaladarchi.blogspot.com/2020/05/blog-post_17.html তাপস ওঝা               https://jaladarchi.blogspot.com/2020/05/blog-post_51.html সুকান্ত সিংহ                https://jaladarchi.blogspot.com/2020/05/blog-post_19.html স্বর্ণেন্দু সেনগুপ্ত           https://jaladarchi.blogspot.com/2020/05/blog-post_38.html নরেন হালদার            https://jaladarchi.blogspot.com/2020/05/blog-post_68.html মৃণালকান্তি সামন্ত         https://jaladarchi.blogspot.com/2020/05/blog-post_30.html রাজকুমার আচার্য       https://jaladarchi.blogspot.com/2020/05/blog-post_73.html তাপস কুমার দত্ত         https://jaladarchi.blogspot.com/2020/05/blog-post_37.html

মুহম্মদ মতিউল্লাহ্

Image
মু হ ম্ম দ  ম তি উ ল্লা হ্   তোমার পিতা অনেক দূরে দাঁড়িয়ে আছেন তোমার পিতা তাঁর সমস্ত উচ্চারণ তুমি শুনতে পাচ্ছ,                                               উচ্চারণের মগ্নতা প্রতিটি উচ্চারণের ভেতর এক একটি                                              দুপুরবেলার ইতিবৃত্ত তোমার পিতার স্তোত্রবচন, দুপুর বলছে আনন্দের ভেতর  গোপন  আর্তির ভেতর  তুমি দূরে দাঁড়িয়ে দেখে নিচ্ছ  সমস্ত দুপুরভরা সহজ পাঠ তোমার জন্য জানালা খোলা। উন্মুক্ত আকাশ তোমার জন্য রোদ আর অন্ধকার ডিঙিয়ে  সুবর্ণরেখা নদী তোমার পিতা দাঁড়িয়ে আছেন অনেক দূরে সবুজ শাসন...   দূরের রিকশা একটি রিকশা চলে গেল দূরের রাস্তায় আমি তার ঘন্টাধ্বনি তোমাকে শোনাবো, ভাবি রাস্তা কত ধূসর.. নিস্তব্ধতা যাত্রীর অস্পষ্ট মুখে গ্রীষ্মের রুমাল জ্বলে সেই সব নিস্তব্ধ দুপুর আমাদের ধর্মগ্রন্থের পাতায় বিবর্ণ কারুকাজ, মনে পড়ে? এসবের ভেতর দিয়ে দূরের রিকশা চলে গেল। বোগেনভিলিয়া ফুলকে চৈত্রের রোদচশমায় তোমার আলোকচিত্র ফুটে উঠলে নীরক্ত কুসুমবন্ধু আমি পান্তাভাতের শীতে লুকোতে চাই। আবার কয়েক হাজার দিন  হাহাকার পোড়ানো শূন্যদুপুর, সখি, উত্তর দক্ষিণ সব জান

সুজিত দাস

Image
 সু জি ত  দা স  আনপ্লাগড্‌/৫৫ অক্সব্লাড রঙের শাড়ি কতদিন বলেছি তোমাকে, অক্সব্লাড রঙের শাড়ি পরবে না। এমনিতেই শাড়ি খুব জটিল ছায়া। কোথাও পড়ে, কোথাও পড়ে না। শিফন যে কীভাবে ঋতুচক্র পালটে দিচ্ছে, 'ধরতেও পারবে না'। তার ওপর এই রক্ত রঙের প্রহেলিকা! এই তো জীবন আমার, খুন করে বাড়িতে গেলেও বাহবা পাবে না। নান্‌হা সা জান। মারতে হলে টর্ন জিন্সে মারো, টিউব টবে মারো, কালো থং-এ মারো। আবার শাড়ি কেন? অ্যাম্ফিথিয়েটারে কত লোক বসে আছে, জানো! এই প্রকাশ্য গোধূলিতে আমাকে এভাবে নক্‌ আউট করে দেবে? দোহাই, অক্স ব্লাড রঙের শাড়ি অঙ্গে জড়িও না। হাড়ে সুই বিঁধে যায়। কিংবা মাঘের রাত। কতদিন বলেছি, বৃষ্টির দিনে জঙ্গলে যেও না। এক একটা দুশ্চরিত্র পুরুষ ময়ুর পেখম তুলে টিজ করবে তোমাকে। ময়ূরের পালকে সহস্র চোখ। দেখে ফেলবে আদিগন্ত। অরণ্য এক গোপন সিকিউরিটি চেক। না বলেকয়ে খুঁজে নেবে কনুইয়ের কালো, ব্যক্তিগত লাল এবং নিজস্ব ঘ্রাণ। যে ঝিঁঝিঁ ডাককে তুমি শুদ্ধ আত্মা বলে ভাবো, সেও আসলে এক কাউন্টার এসপিওনেজ। এখনও সতর্ক হও। কতদিন বলেছি, প্রিয় আয়নাকেও তেমন বিশ্বাস কোরো না। আয়নায় নিজেক

খুকু ভূঞ্যা

Image
খু কু  ভূ ঞ্যা মায়াগাছ জীবন নয়, আশ্চর্য মায়াগাছ, যার পাতা কালো, ফুল নীল শিকড়ে বাঁধা বেড়ি জন্মকাল। ইচ্ছে তার পাখি হতে চায়, বিছিয়ে দেবার সাধ নক্ষত্র  তপোবনে সন্ন্যাস ডানা পেল না। ঘুমের ঘোরে আসে অশ্বিনী কুমার, আলোর কৃষিকাজ সারারাত, দুচোখে সেরে ওঠা ভোর কাকের আওয়াজ পেল যেই, ফিরে গেল সে। লাল চিতার ভেতর থেকে উঠে আসছে ক্লান্ত ছায়া, শোক নেই, অশ্রু নেই বাঁচা আর বাঁচানোর দায় স্বীকার,মুঠো ভর্তি ছাই-- ঋতু সন্ধ্যা এ যেন আশ্চর্য চমক, সুপ্ত শামুকের ভেতর থেকে আস্তে আস্তে জেগে উঠছে আগুন, সেই সঙ্গে জন্ম নিল লক্ষ্মণরেখা। মায়ের বাজ পাখি চোখ,নজর বন্দী গামছা শরীর। পুকুর ঝাপটানো, আম কুড়ানো,চু কিতকিত খেলার সাথী ভয়। প্রথম লাল রঙ দেখে কেঁদে ফেলা; শরীরী চিহ্নের পাহারায় নিজেকে নিজের কাছে রাখা, অদ্ভুত-- এতো রাবণ যোগী বনে বাদাড়ে, এতো দুঃশাসনের ছায়া লাজু মেয়েটি তেরোয় চিতা। ঋতু গন্ধে মাংসাশী সময় চায় কুঁড়ি নদীর রক্ত! আমি তখন মায়ের ঘুনসি বন্দী কড়ি লাজুর পুড়ে যাওয়ার শব্দ শুনি-- ছায়াদহ মাঠ ধরব না চোখে, যদিও নুইয়ে পড়েছে ধানশিষ, চৌকাঠ পেরোনো বধূর মতো বাতাস মুক্ত আবেগে ছুঁয়

কার্তিক মাইতি

Image
কা র্তি ক   মা ই তি  মেয়েটি শাল পাতা বেচে যে-মেয়েটি সংসার টানে তার নাম জাসনি বাস্কে বয়স ষোলো, সাকিন খড়িকামাথানি বাবা নিরুদ্দেশ, পঙ্গু মা, এক ভাই দুই বোন। আলাপ পঁচিশ ডিসেম্বর দু হাজার সুবর্ণরেখার চরে বসে সে শুধু একটাই কথা বলে ছিল বারবার :       'হামাকে একটা কাজ করিঞ দেন না' মনে মনে আমি একদিন তার খোঁপায় শালফুল গুঁজে বলেছিলাম:       ' তুই আমার ঘর হবি রে' আমরা আবার স্বপ্ন দেখছি না তো তারপর কেটে গেল দশটা বছর একদিন কাগজে দেখি এ কে ফরটি সেভেন হাতে বুড়িশোলের গভীর অরণ্যে পড়ে আছে তার রক্ত মাখা দেহ সুবর্ণচরে হাঁটতে হাঁটতে আমরা আবার অরণ্যে হারিয়ে যাই কথাকলি অবিরত বৃষ্টির মতো অশ্রু ঝরছে সাদা পাতার উপর ঘুমন্ত স্ত্রীর আঁচলে বাঁধা সংসারের চাবি বাস্তবপুর থেকে যেতে হবে মায়াগ্ৰাম যেখানে পাগল শিশু মাথা নাড়ে মৃদঙ্গ গানের তালে জ্যোৎস্না রঙিন সংবাদ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আকাশবাণী। বিন্দুবাসিনীর মতো তুমিও যেতে পারো ঝরাপাতার দেশে। ভূর্জপত্রে লিখে রেখে যেয়ো ঈশ্বরীর জার্নাল তোমার না-বলা  বেদনাই আমার উপহার সমাবর্তন প্রকৃতি সাগরে ভাসিয়ে দাও পোড়ামাটির কবিতা ওই আকাশ

শ্যামলশুভা ভঞ্জ পণ্ডিত

Image
শ্যা ম ল শু ভা  ভ ঞ্জ  প ণ্ডি ত  রাত নামছে রোদ্দুর  তার ডানা গুটিয়েছে অনেকক্ষণ। পায়রাদের এখন ঘরে ফেরার তাড়া  রাত নামছে। ব্যালকনির খাঁজকাটা  আলো অন্ধকারে চুঁইয়ে পড়ছে চাঁদ  বিষণ্ণ কবিতার মতো। জমাট অন্ধকারে শিকারের খোঁজে ডানা জাপটাচ্ছে  জ্যোৎস্নার দল। নগ্ন মাঠ পড়ে আছে একা। ওকে খবর দিতে হবে। রাত নামছে । তীক্ষ্ম থাবা সবজেটে চোখ আর  লোলুপ ঠোঁট নিয়ে ওত পেতে আছে রাত। পা চালাও তোমরা। জোরে আরও জোরে এখন নক্ষত্রের আলোয় ঘরে ফিরতে হবে । ডাক           নির্মম মেঘ এক,বৃষ্টি পদানত নতজানু দেহ তবু বাতাস উদ্ধত  পিচগলা যৌবনে রাজপথ জানে - ছুটে চলা মিছিলের বলিষ্ঠ গানে মুখরিত হবে জানি প্রতিবাদী সুর মিশে যাবে দিগন্তে দূর বহুদূর  সহস্র শ্রুতি পাবে সহস্র মুখ  অনাদি জীবনের অনন্ত সুখ সহস্র অক্ষরা হবে সেই এক স্বর  পৌছবে মহাব্যোমে অব্যক্ত অক্ষর  আনন্দময়ী সেই অমৃতা বাক্ অগণিত মানুষের প্রতিবাদী ডাক ।। জীবিত  যদি হঠাৎ  একদিন ঘুম থেকে উঠে মনে হয়  বুকের বাঁ দিকটায় চিনচিনে ব্যাথা । অকারণ অভিমানে চোখ ভরে উঠেছে মাঝরাতে । কিংবা হঠাৎ সন্ধের কুয়াশামাখা রাস্তায় কোনো অচেনা অজানা আধো অন্ধকার গলির দিকে  তাকি

শম্ভুনাথ শাসমল

Image
শ ম্ভু না থ  শা স ম ল  সে আসবে না আর ভোরের কুয়াশার বুকে চিরে ঝমঝম করে চলে গেল ট্রেন টি চাকায় নিয়ে রক্তের দাগ সে দাগ কি মুছবে কোনদিন অনীশের বুক থেকে?  গত রাতে মোবাইলটা বেজে উঠেছিল যখন বার্তা শুনে স্নেহার খুশির ঠিকানা ছিল না আর ইচ্ছে করছিল বাকি রাতটাকে ঠেলে সরিয়ে দরজায় এসে দাঁড়াবে নতুন সকাল এনে রাত্রি শেষ হতে তখনো অনেক বাকি সাজগোজ সেরে স্নেহা স্টেশনে এসে দেখে তার ট্রেন প্লাটফর্মে দাঁড়য়ে ওভার ব্রিজে যখন ও ট্রেন চলতে শুরু করে  স্নেহা দৌড়ে উঠতে গিয়ে চলে যায় চাকার তলে যীশুর জন্মদিনে হয়তো স্নেহার বার্থডে পার্টি হয় না কিন্তু অনীশ কেক আনে অনীশের কথামতো এবার সে শাড়ি পরেই বেরিয়েছিল সাগরবেলায় ঝিনুক খুঁটে নিয়ে অনীশের  বুকে হারিয়ে যাওয়ার কথা ছিল তার। ওরা কাজ করে যায় নিঃশব্দ দুপুরের নীরবতা ভেঙে দূরে ঐ তপ্ত পথে হেঁকে যায় ন্যূব্জ দেহে ক্ষীণতম উদরের জঠর জ্বালায় পায়ে তার ফোসকার দাগ সারা শরীরে লুনীর জোয়ার দৃষ্টি না চলা ছেদহীন শ্রাবনধারা দামিনীর নিদারুণ মেতে ওঠা খেলা মাঝ মাঠের মেয়েটি অনুভব করে অন্য রসে হাঁটু করে তোলা হেটো শাড়ি আটাশি বিধবার লজ্জা ঢাকতে বাধ্য

গৌতম হাজরা

Image
গৌ ত ম  হা জ রা শীত জুড়ে শীত জুড়ে পড়ে থাকে ঐ বর্ণমালা ছায়ার অক্ষরে লিখি বনের আদিম তুহিন পাথরে কাটি দম্ভের চূড়া হিম আশ্লেষে মৃতদের হাড় কী অসীম দৃষ্টি তার শ‍্যেনপাখি যেন রক্তের বাঁধনে খোলে ভগ্ন দেওয়াল পাতালে গর্জন তোলে আন্তর্মহাদেশ কম্পিউটারে ওঠে গণনা তাহার সাজিয়ে বদল করি অসম বিন‍্যাস বরফে আতান্তরে ক্রান্তদর্শী ওঝা তাহাদের কথা লিখি খ্রিস্টীয় মঠে মানুষের উত্থানের আর কিছু দেরি আছে জলপ্লাবনের দশা আকাশে স্পুৎনিকে ভূমিগর্ভ চিরে দেখি কেটেছে বাংকার কামান বন্দুক সব নিমজ্জিত দেশে তবু হই-হুল্লোড় ওঠে বানাই ক্রিসমাস কাঁধের ওপর থেকে সরে যায় বিকেলের মায়া শ্বেতকায়া আইভরি ওই জ‍্যোৎস্নাও কল্পভাগ করে নিই লভ্যাংশ শেয়ারে প্রতীচ‍্যেও নড়ে ওঠে শেষ গ্লেসিয়ার ! সার্কাসের খেলা কিছু কি মুঠিতে আছে স্বপ্নের বজ্র বিদ‍্যুৎ কেবলি আসে যায়, আনাগোনা ভয়ের মুখোশ দেরাজের প্রান্তদেশে সাঁতারের পুরানো পোশাক তোরা তো বলেছিলি, পাখি ওড়ে পাখি ধরে দিবি। আমি তো অন্ধকার বিলে লক্ষ‍্যহীন বন্দুক বারুদে টোটা সাজিয়ে রেখে অকারণে তির ধনুক খেলি কিছুই হয় না জানি, ক্রমান্বয়ে তবু শব্দ হয় ধর়া দিবি বলে কেন দূরে সরে গেলি? সময় পেরিয়ে যায়

কৌশিক গুড়িয়া

Image
কৌ শি ক  গু ড়ি য়া আউটসাইডার বুড়ো হয়ে গেলে লেখা আসে না         চুল পেকে গেলে         গোঁফ সাদা হয়ে গেলে লেখা আসে না যৌবনে তো কিছুতেই নয় সে বয়সে প্রেম আসে, কবিতার মতো ! তবে লেখা আসে কখন ? কবিতা আসে অনুশোচনায়, বৃষ্টিতে উদোম                                                                                           ভিজে এসে, কাদা পায়… লেখা আসে, যে রাস্তা চলে গেছে উঠোন পেরিয়ে                           খিড়কির দিকে মিথ  একটি সাবলীল কবিতা পড়ার পর যে রকম হয় একজন কামুক যেভাবে শরীর থেকে শরীর তুলতে চায় না একজন সরদিয়া যেমন ব্রম্ভান্ড ভুলে         নেভানো মঞ্চের মধ্যে আভা হয়ে ওঠেন সেভাবেই স্মৃতির গায়ে গুঁজে রেখেছি সমস্ত লেখা ! কোনও দিন হয়তো ঘুম ভেঙে দেখব পাপোশের তলায়  নিহত একটি প্রজাপতিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে  সারিবদ্ধ ক'টা কালো পিঁপড়ে ...  মেটিরিয়া মেডিকা কোনো কোনো বাড়িতে পুরনো  তক্তপোশ থেকে যায় নাতি-নাতনিদের নিয়ে পা দুলিয়ে                         গল্প করেন বৃদ্ধ বাবা-মা কোনো কোনো বাড়িতে বাতিল জামাকাপড়ের পুঁটলি জোলো বাতাসে লোল হয়ে যাওয়া তবলা কিংবা রিড ভাঙা হারমোনিয়াম           

কুমারেশ তেওয়ারী

Image
কু মা রে শ  তে ও য়া রী পাথর ভাস্কর্য নির্মাণে যুবক ভাস্কর, সামনে মডেল, নারী সমস্ত শরীর ঘিরে যার উদাসীন কোলাজের ঢেউ ভাস্কর জানেন উদাসীনতার থেকে কীভাবে নিখুঁত  পেড়ে নিতে হয় আগুনের শিখা, বরফীয়া নদীটির গান পেড়ে নিতে হয় ঘন উপত্যকাটির বুকে  একই সঙ্গে ফুটে থাকা ক্রিশেন্থিমাম এবং  অর্কিডের বুকে ফোটা ছান্দিক কবিতা  ছেনি ভাবছে, হাতুড়ির ঘা যেন ঠিকঠাক পড়ে  নতুবা বাঁকের ভেতরে জমে উঠবে খুব উলটপুরাণ বাঁকনির্মাণটি এমন হবে, যেন নাবিক কাছে গেলে  মনে পড়ে যায় তার নৌকাটির কথা   ভাস্কর চেয়ে আছেন আকাশের দিকে, ছেনি ও হাতুড়িও একটা পাখি উড়ে গেলে তার ডাক শোনা গেল, রভস রভস! পাথর ও নারী মুখোমুখি বসে কিছুটা কৌণিক   পাথর ভাবছে শুধু কে বেশি পাথর ছুঁচসুতো সেলাইয়ের পাঠ নিয়ে ব্যস্ত থাকি যেখানে যা ছেঁড়াফাটা দেখি  আনাড়ি আঙুলে রাখি শিক্ষানবিসি আলোর পর্দার যে ফাটা অংশ দিয়ে  ঢুকে আসে অন্ধকার কাল স্রোত হয়ে সেখানে সেলাই দিই তড়িঘড়ি হাতে ছুঁচের ছিদ্রের পথে সুতো পরাবার কালে দেখি,  ওইপারে অভিসার, বৃন্দাবন আর বিনোদিনি রাই গোপন হাঁড়িতে রাঁধে ভাতের সুঘ্রাণ বিত্রস্ত আলোকে বিভঙ্গের সামান্য বদল  টেরিকাটা শ্যাম দেয় ফুঁ,  এখন

সিদ্ধার্থ সাঁতরা

Image
সি দ্ধা র্থ  সাঁ ত রা  কন্ট্রোল-ই এক আরব্য দুপুর  রাত ছাপিয়ে অন্ধকার দুপুর দেখি  রেলগাড়ির নিঃশব্দতা চোখের ভেতর তার মৌচাক গড়া  বিশ্বাস সহস্র হুল কেবলি কথার কথা l পৃথিবী জয়ের লোভ একঘেয়ে বড়ো  শর্ত বাড়িয়ে যায় বিকল্প দুপুর  তুমি, আমি আর সে  চৌঠা নভেম্বর ওই গগনচুম্বী ফ্ল্যাটে  বন্ধ ঘর জানালায় পর্দা টেনে  স্বাদ নেয় অসুখী আখরোট শরীর  হাই তোলে আরব্য দুপুর  মদের বোতল গেল হেঁটে হেঁটে  যেন বাংলা সিরিয়াল কোনো  চোখের মাত্রাবোধ খুব গাঢ়  সিঁড়িকে বলছিনা আমি, উঠে এসো  বরং ভুলতে চাওয়াই এখন ভালো... ঝুমি নদী  অন্যমনে একা হেঁটে ঝুমি নদীটির সবুজ পাড়ে  জ্যোৎস্নাগন্ধ স্বপ্নগুলি চলে গেছে আমায় ছেড়ে l লোককথা, জলজ শরীর, সর্বাঙ্গে জ্বলছে জোনাকি  জনশ্রুতির গল্পগাথায় এখন জেনো খুব মজেছি..  এ সময়  রাত্রি গাঢ় হয়ে এলে খেই হারায় ভোর  নিভৃত নির্জনে জ্বলে ওঠে চিতা বুকের ভেতর  আগুনের ফুলকির মতো ওড়ে হিংস্র ভাবনাগুলি  টানা-পোড়েনের এসময় মনের দখল নেয় ধর্মের দলাদলি.. পশ্চিম বোধহয় বাংলা হবে  এখন একা থাকতে বাধ্য জীবন  এত চালাকি চারপাশে  দমবন্ধ মন নির্জনতা খোঁজে l পরিবর্তন এখন ইউরোপে  জেনেও বোঝেনা কেউ  হতাশায়

শঙ্খশুভ্র পাত্র

Image
শ ঙ্খ শু ভ্র  পা ত্র সময়, সীবন ফেসবুকে বেশ সুখে থাকা দায় ৷ কেন না ইমেল কবিতা আহ্বান করে ৷ ছাপা হলে দিতে অপারগ প্রিয় সৌজন্যসংখ্যাটি ৷ এমন হিসেবী সম্পাদক আমি ভূ-ভারতে দেখি নাই, প্রভু ৷ ফলত হিমেল, এই হেমন্ত-হাওয়ায় ''মা ফলেষু কদাচন" স্থির।  প্ররোচনা ভুলে আমি রচনাকে করজোড়ে ডাকি : সে কি আসে ? নিজের ভিতরে এক আচাভূয়া পাখি সম্পাদনা-বেদনায় হয়ে ওঠে আলোকিত তীর ৷ তিরবিদ্ধ হলে মন —সৌজন্য-শ্রীসুজনেষু, খাঁটি ৷ লেখাটি পাঠাই আর একা-একা হিমকুয়াশায় শিশিরপাতের মতো — কোনও এক অচিন আশায় বসে থাকি নিঝ্ ঝুম... যেমন আঁধার জুড়ে মাটি ৷ ফেসবুকে বেশ সুখে থাকা দায় — কেন না জীবন নকশি কাঁথার মতো — দাবি করে সময়, সীবন... অপারগ সৌজন্যের দিকে তাকিয়ে থাকি আজকাল ৷ সে কেমন কুণ্ঠিত ! ধূল্যবলুণ্ঠিত জানে না ৷ বেলা যায় ৷ লণ্ঠনের দিকে আমাদের সম্মোহন ফুরোয় না ৷ স্মৃতি-ভারাতুর... নামহীন সতত প্রস্তুত এই মন —একটি প্রণামের দিকে ঝুঁকে থাকে আজীবন কায়মনোবাক্যসংশ্লেষে ৷ রগ-ছেঁড়া যন্ত্রণার কথা তুমি বুঝবে না অপারগ মেয়ে ? লিখিত আকারে লিখিত আকারে সব রেখে যাব মধুবাক্যগুলি ৷ অসূয়া কখনও নয় — বালখিল্য স্বভাবের 

প্রতাপ সিংহ

Image
 প্র তা প সিং হ  ধ্বংসের উপর    পাখি রক্ষা হল না ফুল রক্ষা হল না  রক্ষা হল না জল,পুকুর, নদী, জলাশয় -- নির্বংশ  হয়ে গেল গাছ,লতাগুল্ম,  পাহাড় পর্বত, মস্ত মস্ত জনপদ,  হাজার হাজার কুঠার জ্বলতে লাগল হাজার হাজার আগুনের শিখা       জড়িয়ে ধরল তোমাকে আমাকে  একটি বাঁজা অপুষ্পক প্রকৃতির মধ্যে         আমরা ঘুরতে লাগলাম দিনের পর দিন নিরবয়ব ছায়ার মতো হাহাকার করতে লাগলাম একদিন দেখতে দেখতে                   লুপ্ত হয়ে গেল সব ঐতিহ্য,  প্রেম, অঙ্গীকার -- স্তব্ধ হয়ে গেল একদিন সভ্যতার স্রোত  আমাদের ধ্বংসের উপর জেগে উঠল একেকটা                শূন্য, ফাঁকা, অশরীরী ইমারত।  তোমার প্রতিমা                  কেউ -বা তোমাকে পাতার মতন ভাবে  কেউ -বা ভেবেছে ফুলের অহংকার  দুঃখী কবিটি কী আর করতে পারে -- তোমাকে প্রতিমা সাজিয়েছে বারবার।  মেঘে বর্ষণে ভরে গেছে দু'টি চোখ  রৌদ্রের রঙে এঁকেছে তোমার মুখ  দুঃখী কবিটি কী আর করতে পারে -- তোমার বিষয়ে এখনো সমুৎসুক। লেখার টেবিলে নদীর টুকরো জুড়ে  সাজিয়ে দিয়েছে দুরন্ত কবিতায়  তোমার প্রতিমা চুরি হয়ে গেছে কাল অঙ্গাভরণ পড়ে আছে  জ্যোৎস্নায়! গান গলা ছেড়ে কেউ গান গা

অসীম ভুঁইয়া

Image
অ সী ম ভুঁ ই য়া  বৃষ্টি বৃষ্টি নামল মেঘের গর্ভ ফুঁড়ে                  যেন অবৈধ সঙ্গম... বহুদিন বাদে এল রূপসার এসএমএস  তৃষ্ণায় কাতর নদী কপালেশ্বরী  যেন এক ফোঁটা কান্নাকেই খুঁজছে  আকাশের তৃতীয় নয়ন মেঘ আজ তাই প্রসন্না দেবী । বৃষ্টি থামল, এসএমএস পড়া শেষ  বৃদ্ধ যোগীর মতো স্থির দুটি হাতের তালুতে  খসে পড়ল একটি নীলপদ্ম । স্মৃতিকথা  ভুলের রাত - গভীরে নক্ষত্রের আনাগোনা  হাতের আঙ্গুলে ভেঙেছে ঘুমপাতা   ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসে সমস্ত স্মৃতিকথা প্রতিবন্ধন  ভাঙাচোরা কুবাই ব্রিজের ধারে শুয়ে আছি কতকাল - শুয়ে শুয়ে নদীটির স্বপ্ন হওয়া দেখি দেখি এলোমেলো আগাছাদের জালিকাকার শিরান্যাস  অনেক ধুলোবালি বুকে জন্মের পরিক্রমা করে ব্রিজটি। কংক্রিটের খোঁচায় প্রতিবাদী সরগম ঢেউ হয়ে যায়  এগিয়ে দেয় নদীটিকে সঙ্গম- সুখে ।  আমার শুয়ে থাকা মানে প্রতিবন্ধী হতে থাকা ... গভীর রাত্রির নিঃসঙ্গতাও নাভি  সয়ে যায়  শিখে যাই বেঁচে ওঠার যন্ত্রনাময় শিল্পকলা । এভাবে রাত দিনের মুহূর্তগুলি কুচিকুচি কেটে  জুড়ে দিই নিজের অজান্তে ...  ভয়ে নেমে আসে গাছ পাতাদের ফাঁক - ফোঁকরে   আমি শুয়ে থাকি আরো  আরো গ