Posts

জাওয়া করম /ভাস্করব্রত পতি

Image
পশ্চিমবঙ্গের লৌকিক উৎসব, পর্ব -- ৩৫ জাওয়া করম ভাস্করব্রত পতি "শাঁখলদীক বালিয়ানী জাওয়া পাতা বগঅ  এমন জাওয়া হেলকী উঠে শালগাছেক পারা।  চন্দন কাঠ কাটি কুটি মাচলা বনাব গ অ নিহি খাওলঁ বাসী মাড় নিহি খাওলঁ তাতাগ নিহি খাওলঁ ধুঁড়সা জন্হার পুড়া। সেই মাচলায় জাওয়া বেঢ়বঅ। জাওয়া জেগ দিলে তরহা কবে নিড়ন হেতগ অ একাদশীকে বার করি জাওয়া নিড়াব।" এটি জাওয়া করমের গান। যা কিনা এই পরবের অন্যতম উপচার। গান ছাড়া জাওয়া করম অসফল। ভাদ্রের শুক্লা একাদশী তথা পার্শ্ব একাদশীর দিন সীমান্তবর্তী এলাকায় করম গাছ ডাল প্রতীকে করম রাজার পূজার প্রচলন রয়েছে। মূলতঃ মাহাতো, কুড়মি, ভূমিজ, কোল, দেশওয়ালী, ওঁরাও, ভুক্তা, লোধা, বীর, মাহালী, মাঝি, কোড়া, হড়, খেড়িয়া, ভুঞ্যা, মুণ্ডাদের কাছে এই উৎসব দারুন জনপ্রিয়। তেমনি ডোম, কুমার, বাগাল, গোয়ালা, ঘোড়ই, হাড়ি, বাউরী, কামার, মুচি, তাঁতিদের মধ্যেও প্রচলিত আছে। নায়কে মঙ্গলচন্দ্র সরেনের তাঁর মতে, "সাঁওতাল, কুড়মি, ওঁরাও, খেড়িয়া প্রভৃতি জাতি যেরূপ আড়ম্বরের সঙ্গে পূজা করে, অন্যান্য জাতিরা সেরূপ আড়ম্বরের সঙ্গে পূজা করে না"। মূলতঃ শষ্য উ

তপন বন্দ্যোপাধ্যায় /বিশ্বজিৎ পাণ্ডা

Image
(বাংলা ছোটোগল্পের ইতিহাসের দিকে তাকালে দ্যাখা যাবে, মাঝে মাঝেই বাঁক বদল হয়েছে তার। বিষয়— আঙ্গিক সমস্ত দিক থেকেই বিস্তর পরিবর্তন ঘটেছে। আর এই বদলের সঙ্গে গভীরভাবে সংযোগ রয়েছে সময়ের। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে বিশ শতকের পঞ্চাশের বছরগুলিতে লিখতে আসা গল্পকারদের নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। কিন্তু পঞ্চাশ-পরবর্তী ছোটোগল্প ও গল্পকারদের নিয়ে তেমন আলোচনা আমাদের নজরে আসেনি। কিন্তু এই সময়ে বাংলা ছোটোগল্প বৈভব ও ঐশ্বর্যে ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছে গিয়েছে। এই সময়-পর্বে লিখতে আসা নির্বাচিত লেখকদের চারটি করে গল্প নিয়ে বিন্যস্ত হবে এই আলোচনা। কিন্তু ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় আলোচনা সম্ভব হবে না। বিভিন্ন সংখ্যায় বিভিন্ন সময়ের গল্পকার উঠে আসবেন। এভাবেই বাংলা গল্পের অভিমুখকে চিহ্নিত করবার চেষ্টা করা হবে।) বাংলা গল্পের পালাবদল— ৯ তপন বন্দ্যোপাধ্যায়  বিশ্বজিৎ পাণ্ডা সাহিত্যের আঙিনায় তপন বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্ম-১৯৪৭)-এর আবির্ভাব কবি হিসেবে। কবিতাচর্চার অনেক বছর পরে গদ্য লিখতে এলেন। তবে আজও কবিতা লেখেন। কবিতা তাঁর পিছু ছাড়েনি। তাঁর একাধিক কাব্যগ্রন্থও রয়েছে। কবিতার অনুবাদও করেন। সীতাকান্ত মহাপাত্রর ‘ভারতবর্ষ’ কাব্যটি

কুমীরের কাহিনী /নিশান চ্যাটার্জী

Image
জীবনের গভীরে বিজ্ঞান-১৫ কুমীরের কাহিনী নিশান চ্যাটার্জী কুমীর নামক প্রাণীর প্রতি মানুষের আকর্ষন চিরন্তন। সে ছোট হোক বা বড়ো। আজ এই কুমীর সম্পর্কে কিছু জানা অজানা তথ্য আপনাদের সাথে ভাগ করে নেওয়ার পালা। জানেন কি মিশরে কুমীর কে দেবতার মতো পুজো করা হত। প্রাচীন মিশরে ফারাও রাজাদের আমলে কুমীর দেবতার সম্মানে একটি শহর গড়ে তোলা হয়েছিল। শহরটির নাম ছিল ক্রোকোডিলোপলিস। সেই শহরের হ্রদে এক কুমীর রাজার মতো বাস করত। সে কেক খেত এবং মধু থেকে প্রস্তত একধরনের পানীয় পান করত। তার মৃত্যুর পরে পুরোহিতেরা তাকে মমি করলেন। তারা কুমীরের দেহটাকে শুকিয়ে সুগন্ধি মাখিয়ে কাপড়ের ফালি দিয়ে পেঁচিয়ে নিলেন সংরক্ষণের জন্য। আমেরিকা, আফ্রিকা, এশিয়ার গ্রীষ্ম প্রধান অঞ্চলের হ্রদ এবং নদী গুলির ধারে কুমীর বাস করে। কুমীর এক সরীসৃপ প্রাণী এবং এটি হল পৃথিবীর সবথেকে বড়ো এবং শক্তিশালী সরীসৃপ। মানুষের জন্মের লক্ষ লক্ষ বছর আগে থেকেই কুমীর পৃথিবীতে আছে। কালক্রমে তাদের বিভিন্ন পরিবর্তন হয়েছে। কুমীরের অনেক জাতভাই আছে যেমন  ক্রোকোডাইল,কেইমেন,গাভিয়াল বা ঘড়িয়াল।  এখন ক্রোকোডাইল কী দেখে চেনা যায়? এদের তল

যেতে যেতে পথে-৩৪/রোশেনারা খান

Image
যেতে যেতে পথে রোশেনারা খান পর্ব ৩৪ আজ ৩১ মার্চ, দীপের নাইট ডিউটি। তাই ওরা প্র্যাম কিনতে গেছে। আমি রান্না করতে করতে নানারকম কথা ভাবছি। এখানকার মানুষ, মানে ব্রিটিশরা আমাদের মত রান্না-খাওয়ার পেছনে এত সময় খরচ করে না। কৌটোবন্দি খাবার গরম করে খায়। বাকি অনেক খাবারই তৈরি কিনতে পাওয়া যায়। মাংসের মধ্যে মাখন,  সস, নুন,ইত্যাদি মাখিয়ে বেক করে খেয়ে নেয়। সবজি খায় সেদ্ধ করে মাখন,নুন, স্‌স, ইত্যাদি দিয়ে। কফি, ফ্রুটজুস তো থাকেই। আমাদের দেশের মত রাস্তায় জলের কল নেই। রেস্টুরেন্টে লাইন দিয়ে খাবার নিতে হয়। জলের বোতল কিনে নিতে হয়। আমাদের দেশেও আনেক রেস্টুরেন্টে বোতলবন্দি জল দেয়, কোথাও বা  কিনে নিতে হয়।     এখানে নারী পুরুষের কাজ আলাদা বলে কিছু হয়না। নারী পুরুষ উভয়েই সব রকম কাজ করে থাকেন। পুরুষরা মহিলাদের মত ঘর সামলানো , বাচ্চা সামলানো, খাবার রেডিকরা, ইত্যাদি ইত্যাদি সবই করেন। তেমন মহিলারাও পুরুষের মত  বাস চালাচ্ছেন। নিজেরাই গাড়ি পরিস্কার করছেন। লনে ঘাস ছাঁটছেন। পেট্রলপাম্পে, রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের কাজ করছে্ন, দৈনিক মজুরিতে অন্যের বাড়ি, বাগান পরিস্কার করছেন। যে কাজই করে থাকুন না কেন, এর

আষাঢ়ে গল্পের আল ধরে -৮/তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য।

Image
আষাঢ়ে গল্পের আল ধরে  তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য পর্ব -৮ উপচে পড়া শব্দ ভান্ডার   মনে আছে সেই  গল্পটা? তখন হতে  সরি সরি করছিস বাবু, তাবাদে সরছিস নাই কেনে? আসলে প্রচন্ড  ভিড় বাসে ঝাঁকুনিতে আদিবাসী  এক মহিলার গায়ে ধাক্কা  লেগে যাচ্ছে বারবার  বলে ভদ্রলোক খালি Sorry  sorry  বলছেন।  আমি  ভাবি ছোটবেলায় আমিও  sorry  বলতে শিখলাম যখন, তখন প্রয়োগ  করতে  বেশ ভালোই লাগতো। নিজেকে বেশ বড়োদের মতো মনে হতো।  sorry, thank you, no, yes, okay, weather, Nature, behavior,acutely,  এরকম  বহু  শব্দ শুধু  ইংরেজি  শব্দ বলে আর চিহ্নিত  করা য়ায় না। এ যেন সব দেশের ভাষার আপন ভাষা। যারা লেখাপড়া  জানেনা তারাও এসব বলে। একবার  ট্রেনে চা ওলার পাত্রটা আমার  গায়ে লেগেছিল। আমি  কিছু  বলিনি ও বুঝতে পেরে বললো ছরি ম‍্যাডাম। বই এ তো সারাজীবন  ধরে কতকিছু  পড়েছি তা কী আর সবসময়  ইউজ করি? এই যে use বলে ফেললাম।আমি তো ভাবিনি আমি  ইংরেজি বলছি।  কোনো  দেশের কোনো  ভাষা নিজস্ব শব্দে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। আমাদের  মুখের ভাষা লেখার ভাষা তো এক নয়। চলতি কথায় অনেক পরিযাযী শব্দ আমরা ব‍্যবহার করি অবচেতন ভাবে। যেমন ধরুন দু জনের কথোপকথন " ও

তানসেন - এক অসাধারণ সঙ্গীতশিল্পী /ষষ্ঠ পর্ব /দেবী প্রসাদ ত্রিপাঠী

Image
তানসেন - এক অসাধারণ সঙ্গীতশিল্পী                 ষষ্ঠ পর্ব          দেবী প্রসাদ ত্রিপাঠী সম্রাট হরিদাস স্বামীকে অনুরোধ করে বললেন "প্রভু আপনি আমার সঙ্গে দিল্লীতে গিয়ে যদি শাহী দরবারে সভাগায়কের পদ অলঙ্কৃত করেন তাহলে আমি নিজেকে ধন্য মনে করব"।  সব শোনার পরে হরিদাস স্বামী বললেন "সম্রাট, আমার সমস্ত সংগীত প্রভু শ্রীহরির জন্য। যে যেভাবে শোনে আর ভাবে তিনি সেভাবেই তাদের কাছে ধরা দেন। আমি তো তাঁর দাস, নিমিত্ত মাত্র। আমি তো কারোর রাজদরবারে যেতে অপারগ। বিশ্বপ্রভু শ্রীহরির দরবারের আমি চিরকালের গায়ক। আমার সংগীতের ডালি তো তাঁর চরণেই নিবেদিত। তাঁর সভা ছেড়ে আমার কোথাও যাবার উপায় নেই। আমি তাঁরই প্রেমে বদ্ধ। তিনিই আমার হৃদমাঝারে অনন্তের অধিপতি"।  এই কথা বলে তিনি সম্রাটকে আশীর্বাদ করে বললেন "সকলের মাঝে সেই অনন্তের অধিপতিকে দেখার চেষ্টা করবেন তাহলেই আপনার মনের অহমিকা দূর হয়ে যাবে। সকলকে আপনি সমানভাবে দেখবেন, তাহলেই আপনি যথার্থ ভারত সম্রাট হবেন"। হরিদাস স্বামীর আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে সম্রাট ফিরে যাবেন আগ্রাতে।  এমন সময় হরিদাস স্বামী তানসেনকে একান্তে ডেকে বললেন

ঋষি দাস (সাহিত্যিক, অনুবাদক, গল্পকার, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

Image
মেদিনীপুরের মানুষ রতন, পর্ব -- ১৭ ঋষি দাস (সাহিত্যিক, অনুবাদক, গল্পকার, তমলুক) ভাস্করব্রত পতি তিনি ছিলেন আপাদমস্তক সাহিত্যপ্রেমী। অসাধারণ সাহিত্যরসিক। নিরলস সাহিত্যানুরাগী। অথচ এমন এক মানুষকে চেনেনা দুই মেদিনীপুরের বেশিরভাগ বিদগ্ধ মানুষই। নামই শোনেনি অনেকেই। অনেকটা প্রচারের অন্তরালে থাকা সাহিত্যিক ঋষি দাসকে চেনা দরকার। জানা দরকার। ১৯৫০ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি লিখেছিলেন উইলিয়াম শেক্সপীয়রকে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ জীবনী বিষয়ক বই ‘শেক্সপীয়র’। ওরিয়েন্ট বুক কোম্পানীর প্রহ্লাদ প্রামানিক ছিলেন প্রকাশক। অধ্যাপক নীরেন্দ্রনাথ রায় পুস্তকটির সুদীর্ঘ আলোচনা করেছিলেন। ৩৮৪ পাতার এই বই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হত। পরবর্তীতে বইটির তিনটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়। ১৯৫০, ১৯৬০ এবং ১৯৮০ সালে। মেদিনীপুরের ঋষি দাস ছিলেন সে সময়কার খ্যাতনামা লেখক। অথচ আজ অনেকেরই মনে নেই তাঁর নাম এবং কাজ। ১৯৫২ সালে বাংলাতে ব্রিটিশ সাহিত্যিক শেক্সপীয়ারের চর্চার জন্য গড়ে উঠেছিল ‘শেক্সপীয়র সোসাইটি’। তৎকালীন রাজ্যপাল আচার্য হরেন্দ্রকুমার মুখোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে গঠিত হয় তা। সেই সোসাইটির সভ্য হয়েছিলেন উৎপল দত্ত, ল

বিশু সাপুড়ে /শ্রীজিৎ জানা

Image
বিশু সাপুড়ে শ্রীজিৎ জানা বুড়ো হোয়ে গ্যাছে তেঁতুলগাছটা। সেই কবে থেকে ডালপালা মেলে দাঁড়িয়ে আছে ভিটের পুবদিকে। এত ঘন পাতার ছাউনি যে তার মাথা চুঁইয়ে রোদ গলতে পারে না সহজে। সারাদিন গাছতলাটার কোলে ছায়া হেউঢেউ খেলে।যদিবা ক'বছর গেল একটা মোটা ডাল হঠাৎ মুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। ঝড়ঝাপটা কোত্থাও নেই। পাড়াপড়শির কাছে  দারুণ সুখ্যাতি তার। সবার কাছে সে মিঠানি তেঁতুল নামে কদর পায়। সবাই ডাল ভাঙার খবর পেয়ে ছুটে আসে। দ্যাখে  পোকা লেগে ফোঁপরা হয়ে  গ্যাছে ভিতরে ভিতরে। বাইরে সবুজ পাতার ঝলমলে হাসিটুকু ধরে রেখেছে কোনক্রমে। অনেকটা বিশু দুলের মতো। বুকের খাঁচার ভিতরে ঘুন ধরেছে কবেই। রোগের পোকা নয় অভিমানের পোকায় কুরেকুরে খাচ্ছে তাকে। কঞ্চির চঁচ তুলে ঝুড়ি তৈরী করতে করতে নিজেই নিজে বকে যায, ---দিনকাল কী দেখিটি ভগমান। মানা গুনার কাল কী তবে কপ্পুরের মতো উবে গেল। গাঁয়ের মেইয়া শিকন নাকি। ভাল জিনিসের কদর দিল নি। সব শালা টিবির পোঁদে মুখ গুঁজে রইল।  সামনেই গেঁড়িবুড়ির মেলা। বিশ্বকর্মা পুজাতে মেলা বসে মামুদপুরের গেঁড়িবুড়ির থানে।সাতদিনের মেলায় যেন কালো মাথার ঢেউ আছাড়ে পড়ে। আর পাঁচটা মেলার থেকে আলাদা ভাদ্রের গেঁড়িবুড়

খর্জুর বীথির ধারে-১০/মলয় সরকার

Image
খর্জুর বীথির ধারে মলয় সরকার (১০ম পর্ব ) দশম পর্ব চলেছি রায়েধের গাড়িতে আর  মাঝে মাঝে গাড়ি থেকেই ইন্টার নেটে ফোন করছি, প্রিয়জনদের সাথে। এটাও এক নতুন অভিজ্ঞতা, যেটা আগে কখনও দেখি নি।  পৌঁছালাম, ওয়াদিরাম মরুভূমির ধারে। সেখানে দেখি বেশ কয়েকটি তাঁবু খাটানো রয়েছে আর রয়েছে  সামনে কয়েকটি গাড়ি দাঁড়িয়ে। গাড়িগুলির মধ্যে কিছু চার চাকাওয়ালা মাথা খোলা জীপ। কিছু মাথা ঢাকা বড় গাড়ী। আমাদের সাথে রিয়াধ ওদের পরিচয় করিয়ে দিল। ওরা সবাই দেখলাম, একেবারে পাক্কা বেদুইন, সেই রকমই সাদা টিউনিক, সাদা আলখাল্লা, মাথায় সাদা কাপড় ঢাকা। ওরা দৌড়ে এসে আমাদের অভ্যর্থনা করে তাঁবুর ভিতরে বসাল।তারপর একজনকে আরবীতে কিছু বলল। একটু পরে একজন এসে বলল, চলুন ঐ গাড়ীতে বসুন, সঙ্গে গাইড হিসাবে যাবে এই ছেলেটি। দেখলাম ওরা ভালই ইংরাজী বলতে পারে। পারাই তো উচিত- যারা দিনরাত এত বিদেশী টুরিষ্টকে ঘোরাচ্ছে, তারা হয়ত, শুধু ইংরাজী নয়, অনেক ভাষাই জানে, যেমনটি দেখেছিলাম, ইস্তানবুলের গ্রাণ্ড বাজারে। আমরা একটা চার চাকাওয়ালা মাথা খোলা জীপে উঠে বসতেই জীপ দৌড়ালো বালিয়াড়ির বালির সমুদ্রের মধ্যে দিয়ে।   আগে বলে নিই, এখানকার সম্বন্ধে দু চার কথা। ও

জঙ্গলমহল জেলায় সতীদাহ /সূর্যকান্ত মাহাতো

Image
জঙ্গলমহলের জীবন ও প্রকৃতি পর্ব- ৩৩ জঙ্গলমহল জেলায় সতীদাহ সূর্যকান্ত মাহাতো আজ থেকে দুশো বছর আগের জঙ্গলমহল। আজকের মতো একাধিক জেলা নিয়ে নয়, তখন একটাই জেলা ছিল। নাম "জঙ্গলমহাল" জেলা। দাদা জগমোহনের মৃত্যুর পর রামমোহন রায় তার নিজ বৌদি অলকমঞ্জরী বা অলকমণির সতী হওয়ার যে যন্ত্রনা মাখা বীভৎস কান্না শুনেছিলেন, সেই অমানুষিক চিৎকার তখন জঙ্গলমহলের আকাশে বাতাসে কান পাতলেও শোনা যেত। বাতাসে কেবল শাল সেগুনের গন্ধই ছিল না। সেই নাকে ভেসে আসত ইউরোপিয়ান মহিলা ফেনি পার্কস(Fanny Parks) এর "Wondering of a pilgrim in seach of the picturesque, during four and twenty years in the east with revelations of life in the Zenana" গ্রন্থে ১৮৩০ সালের ৭ই নভেম্বর ঘটিত কানপুর নিবাসী এক ধ্বনি বণিকের স্ত্রীর সতী হওয়ার পোড়া গন্ধের মতো একটা বিকট গন্ধ। সহমরণে যাওয়ার সময় বিধবা নারীদের আগুনে পোড়া জ্বালা যন্ত্রণার চিৎকার ঢাকা দিতে আরও দ্বিগুন জোরে বাজানো হত খোল করতাল। মৃতদেহ সৎকারে আজও সেই খোল করতাল জঙ্গলমহলের শ্মশান ঘাটে বেজে চলে। তবে সেই অভিশপ্ত কান্না চাপা দিতে নয়। সেই কান্না চাপা দিতে

"পরম চেতনার ম্যানিফেষ্টো" জেড(z) প্রজন্মের কবিতা যুগের সূচনা /লেখক-অরুণ দাস /আবীর ভট্টাচার্য

Image
"পরম চেতনার ম্যানিফেষ্টো"  জেড(z) প্রজন্মের কবিতা যুগের সূচনা              লেখক-অরুণদাস আবীর ভট্টাচার্য  আমরা যারা এখনও বইপত্র পড়তে ভালোবাসি,  কোন বিশেষ নামের অথবা কোন বিশেষ বৈশিষ্ট্যময় বই হাতে এসে পড়লে, মনে বেশ রোমাঞ্চ আসে; লৌকিক শতব্যস্ততার মধ্যেও কুহকিনী আকর্ষণে সে ডাকে। সাড়া দিতে বাধ্য হই। তা সে বইটির আয়তন যেমনই হোক না কেন!               বিশেষত এই রোমাঞ্চিত অনুভবই আমায় আচ্ছন্ন করলে, অমিত্রাক্ষর প্রকাশনীর,অরুণ দাস লিখিত          "পরম চেতনার ম্যানিফেষ্টো",     জেড(z) প্রজন্মের কবিতা যুগের সূচনা নামের ক্ষীণদেহী, মাত্র বত্রিশপাতার বইটির পরিচয়পত্র দেখে।  স্বীকার করতে বাধা নেই, প্রথমবার তেমন আকর্ষণ বোধ না করলেও এক নতুন ভাবনার উদ্রেক হলো, আবার পড়লাম, আবার। বারে বারে নতুন নতুন ক্ষেত্র যেন উন্মোচিত হতে লাগলো, আকর্ষণ এবং মুগ্ধতা বাড়লো। বিশেষতঃ যে ক্ষেত্রটি নিয়ে আলোচনা, অর্থাৎ 'জেড প্রজন্মের কবিতা যুগের সূচনা' - বিষয়টির অভিনবত্ব নিয়ে সমসাময়িক কেউ এমন গভীরভাবে ভেবেছেন বলে জানা নেই; যদিও লেখালেখি চলছে নিরন্তর। সাধারণ ভাবে, জেড প্রজন্ম বলতে আম

আস্তিক ও নাস্তিক /মিলি ঘোষ

Image
আর কবে ভাবব!  পর্ব ২  আস্তিক ও নাস্তিক মিলি ঘোষ ছোটবেলায় ঠিক বলব না। ছোটোর থেকে সামান্য একটু বড়ো বেলায় 'নাস্তিক' শব্দটার সঙ্গে প্রথম পরিচয়। এও শুনলাম, যারা ঠাকুর মানে না, তারা হলো নাস্তিক। কার কাছে শুনেছিলাম, মনে নেই। এখন 'ঠাকুর মানে না' কথাটার যে কতরকম মানে হতে পারে, তা বুঝিনি। বোঝার বা ভাবার চেষ্টাও করিনি। শুধু বুঝেছিলাম, এরা বিজাতীয়। ততদিনে বাংলা ব্যাকরণে বিজাতীয় শব্দর সাথে পরিচিত হতে শুরু করেছি। কিন্তু নাস্তিকের যে একটা বিপরীত শব্দ থাকতে পারে এবং সেটা কী, তা জানার কোনও আগ্রহ ছিল না। কারণ, যা ব্যতিক্রম, তা নিয়েই আলোচনা হয়। যা কিছু স্বাভাবিক, তা কখনওই আলোচ্য বিষয় হয় না। সেই হিসেবে 'নাস্তিক' হয়ে গেল আমার চোখে ব্যতিক্রমী শব্দ।  প্রথমে আমার খুব কাছ থেকে দেখা দুই আস্তিক ও নাস্তিকের কথা একটু বলে নিই। তাঁরা হলেন আমার বাবা ও মা। একটু বড়ো হয়ে শুনেছি, বাবা'কে উদ্দেশ্য করে মা'কে বলতে, "তুমি তো নাস্তিক।" বাবা হাসতেন। অদ্ভুত ব্যাপার, এই বাবা'ই কিন্তু কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোয় ঠাকুর কিনে পুজোর যাবতীয় বাজার করে দিতেন। যত্ন করে কলা গাছের খোল