Posts

Showing posts from 2020

২০২১ নতুন বছর নতুন লেখা (তিনটি অণুগল্প)/ অভিজিৎ সাউ

Image
২০২১ নতুন বছর নতুন লেখা  তিনটি অণুগল্প  অভিজিৎ সাউ   দুর্ভোগ  রোজকার মতো অমিত আজও টিউশনি পড়িয়ে লোকাল ট্রেনে করে নিজের মেসে ফিরছিল। উস্কোখুস্কো চেহারা, একগাল দাড়ি, আধ-ময়লা ঘামে ভেজা জামা দেখে বোঝার উপায় নেই ছেলেটি ইংরেজিতে এম.এ, বি.এড পাস করেছে। গন্তব্যের আগের ষ্টেশন আসতেই সিট ছেড়ে উঠে গেটের কাছে স্যুট-বুট পরা অফিস ফেরত  বাবুদের পাশে এসে দাঁড়ালো। ওকে দেখে অনেকেই নাক সিঁটকে একটু দূরে যাওয়ার চেষ্টা করলো কিন্তু ভিড় ট্রেনে সে উপায় ছিলনা। একজন অবজ্ঞার সুরে বললো "এই যে ভাই, একটু এগিয়ে দাঁড়াও তো"। আবার একজন বললো "এই যে, আপনি হাতটা উপরে তুলুন"। কী জানি লোকটা বোধহয় তাকে পকেটমার ভাবছিল। ষ্টেশন আসতেই সে নেমে গিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। শিক্ষকের অবদান  রোজকার মতো একটি সরকারি স্কুলের গণিত শিক্ষক অমলেন্দু বাবু ট্রেনে করে বাড়ি ফিরছিলেন; এমনসময় তাঁর কম্পার্টমেন্টের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের আলোচনার মুখ্য বিষয় ছিল সবচেয়ে সুখের চাকরি কোনটি? সংখ্যা গরিষ্ঠের মতানুসারে শিক্ষকতার পেশা সবচেয়ে সুখের। কারণ শিক্ষকদের ডিউটি টাইম অনেক কম, ক্লাসে ছা

পারিপার্শ্বিক, পরিবেশ ও সাহিত্যে প্রভাব/অগ্নিমিত্র

Image
২০২১ নতুন বছর নতুন লেখা পারিপার্শ্বিক, পরিবেশ ও সাহিত্যে প্রভাব    অগ্নিমিত্র    সাহিত্য হলো আপনার মনের কথা । বা বলা যায় লেখকের অনুভবের বা অভিজ্ঞতার কথা । সাহিত্যকে মনের আয়না বলা যায় । লেখকের পারিপার্শ্বিক বা পরিবেশ তাই অবশ্যই যেকোন সাহিত্য রচনা করার ক্ষেত্রে বিরাট প্রভাব ফেলে। তার কারণ লেখকের মনোভাব বা মননের উপর সেই পারিপার্শ্বিকের একটা বড় প্রভাব পড়ে । মানুষ আর প্রকৃতি ও পরিবেশ তো ভিন্ন নয়; যদিও মানুষ তা সব সময়ে মনে রাখে না।     কেউ  যদি এমন পরিবেশে  থাকে যেখানে নিত্যনৈমিত্তিক ঝগড়া, মারামারি, রাহাজানি, শঠতা, প্রবঞ্চনা ইত্যাদি হয়েই চলে, তাহলে সে হয় লিখতেই পারবে না, নয়তো তার লেখায় সেই সব ঘটনারই একটা প্রভাব থাকবে। তখন স্বাভাবিকভাবেই তাঁর কলম থেকে নেতিবাচক বা বিয়োগান্তক লেখা তৈরী হবে । শহরের ইঁট কাঠ কংক্রিটের জঙ্গলে থেকে সাহিত্য রচনা করলে নাগরিক জীবনের সংগ্রামের প্রতিফলনই ঘটবে তার লেখায়। এটাই মোটামুটি স্বতঃসিদ্ধ ও স্বাভাবিক । স্বাধীনতার সময় ও তার পরবর্তী অশান্ত সময়ের প্রভাব তাই ভালোভাবে দেখা যায় কল্লোল গোষ্ঠীর লেখকদের লেখায়।   আবার কেউ যদি শান্ত, ছায়াসুনিবিড় গ্রাম্য পরিবেশে থা

যে ব্যক্তি কবি হওয়ার জন্য কবিতা লেখে, সে আসলে কবি নয়/সন্দীপ কাঞ্জিলাল

Image
২০২১ নতুন বছর নতুন লেখা  যে ব্যক্তি কবি হওয়ার জন্য কবিতা লেখে, সে আসলে কবি নয় সন্দীপ কাঞ্জিলাল কবিতা কেন লিখি- এই প্রশ্নের উত্তরে রবীন্দ্রনাথের একটি উক্তি স্মরণযোগ্য। ১৯০৪ সালে কবি অনুরুদ্ধ হয়েছিলেন, তাঁর নিজের জীবনবৃত্তান্ত লেখার জন্য। তাতে তিনি এক জায়গায় লিখলেন, "আমার জীবনের বিস্তারিত বর্ণনায় কাহারও কোনো লাভ দেখি না। সেই জন্য এ স্থলে আমার জীবনবৃত্তান্ত থেকে বৃত্তান্তটা বাদ দিলাম। কেবল, কাব্যের মধ্য দিয়া আমার কাছে আমার জীবন যেভাবে প্রকাশ পাইয়াছে, তাহাই যথেষ্ট সংক্ষেপে লিখিবার চেষ্টা করিব।" বোঝা গেল, রবীন্দ্রনাথ তাহার কাব্য ও জীবন সম্পৃক্ত বলিয়া মনে করিতেন। সত্যি তো কবিরা লেখে জীবন সম্বন্ধে তাদের টুকরো অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করিবার জন্য। আর সেই সব অনুভূতি ছন্দে শব্দে অন্যান্যদের জীবনের সঙ্গে মিশে গেলে, মানুষ তা উপলব্ধির জন্য পড়তে থাকে যুগের পর যুগ।    বাংলা ভাষায় একটা প্রবাদ আছে 'পাগলে কিনা বলে.....।' তেমনি যারা বিষয়ী লোক, তারা মনে করেন কবিরা কি- না বকে। তাই যারা কবি হওয়ার জন্য কবিতা লেখেন,তাদেরকে কবি বলে স্বীকার করতে কষ্ট হয়।    "কবি শব্দই বিদ্রোহবাচক,

টেস্ট ব্যাটসম্যানগণের তালিকায় বছর শেষে শীর্ষ স্থানে কেন্ উইলিয়ামসন!

Image
টেস্ট ব্যাটসম্যানগণের তালিকায় বছর শেষে শীর্ষ স্থানে  কেন্ উইলিয়ামসন!  ৩১ ডিসেম্বর'২০২০ ১) Central Board of Direct Taxes(CBDT)-এর তরফে জানানো হয়েছে যে ২০১৯-'২০ অর্থবর্ষের জন্য আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে একুশের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত! তথ্য অনুযায়ী ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে ৪.৪৫ কোটি টাকা আয়কর জমা পড়েছে!  ২) প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের তথ্য অনুযায়ী আগামী ৩১ জানুয়ারি বেলা ১টায় টেট্ নেওয়া হবে, সময় আড়াই ঘন্টা এবং ফুল মার্কস ১৫০ ! ৩) করোনা-র জেরে স্থগিত রাখা হল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের অষ্ট্রেলিয়া সফর!  ৪) টেস্ট ব্যাটসম্যানগণের তালিকায় বছর শেষে শীর্ষ স্থানে থাকলেন নিউজিল্যান্ড-এর অধিনায়ক কেন্ উইলিয়ামসন!  ৫) টোল প্লাজা অতিক্রমের জন্য এখনই বাধ্যতামূলক হচ্ছে না FASTag . ১লা জানুয়ারি থেকে নয়, ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বাধ্যতামূলক করা হবে FASTag.  ৬) CBSE-র দশম ও দ্বাদশের লিখিত পরীক্ষা একুশের ৪ মে থেকে ১০ জুন পর্যন্ত হবে! প্রাক্টিকাল পরীক্ষা ১ মার্চ থেকে শুরু হবে! ফল প্রকাশিত হবে ১৫ জুলাই-এর মধ্যে! অনলাইনে নয়, পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হবে।  ৭) ২০২৩ সালে জাপান মহাকা

২০২১ নতুন বছর নতুন লেখা (কর্নাটক থেকে 'ফিরে দেখা')/বন্দনা সেনগুপ্ত

Image
২০২১ নতুন বছর নতুন লেখা  বন্দনা সেনগুপ্ত কর্নাটক থেকে ফিরে দেখা ফেব্রুয়ারির প্রথম থেকেই যখন করোনার কথা শুনেছিলাম, তখন দুটো জিনিস লক্ষ্য করছিলাম। সাধারণ মানুষ যেন দুটো ভাগে ভাগ হয়ে গেছেন। একদল, ভীষণ ভয় পেয়ে গেলেন যেন এখুনি সবাই মারা যাবে, আর কিছুই করার নেই। আরেক দল সব সতর্ক বার্তাকে উড়িয়ে  দিতে ব্যস্ত। তবে সবাই নানান রকম ভাল মন্দ আলোচনাও করে চলেছেন।  সংকট ক্রমশ গভীর হতে লাগল। অনেকে প্রাণ হারালেন, এখনও সে যাত্রা বন্ধ করা যায়নি। আরও অনেকেই হারালেন রুজি রোজগারের রাস্তা, প্রাণ হারানোর চাইতেও বোধহয় তা বেশি কষ্টের। আমরা দেখলাম পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশা। দেখলাম সামগ্রিক অর্থনৈতিক অরাজকতা। আর, সরকারের অপ্রস্তুত অবস্থা।  এই কোভিড কালে, কিছু ভাগ্যবান বাদে, আমাদের অনেকেই কম বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেকে হয়ত নিজেরা অত বেশি প্রভাবিত হননি কিন্তু পারিপার্শ্বিক তাঁদের আরও অনেক দরদী করে তুলেছে। অনেক দরদী ও মরমী ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মী নিজের জীবন বাজি রেখে রোগীর প্রাণ বাঁচিয়েছেন, তেমনি আবার অনেকে কাজ করতে করতেই প্রাণ হারিয়েছেন।   সরকার খুব তাড়াতাড়িই সবার সাহায্যের জন

একুশে স্মরণ, উনিশে এবং বিশে এত নীরব কেন?/ দুর্গাপদ মাসান্ত

Image
২০২১ নতুন বছর নতুন লেখা  একুশে স্মরণ, উনিশে এবং বিশে এত নীরব কেন? দুর্গাপদ মাসান্ত ২১ ফ্রেব্রুয়ারি ঠিক যতটা উদ্দীপনার সঙ্গে ভাষাদিবস পালন করা হয়, ১৯ মে ঠিক ততটাই অন্ধকারে। বাংলা ভাষার জন্য অসমের বরাক উপত্যকার বাঙালিদের আত্মত্যাগ কোনমতেই ভোলার নয়। অসমের দক্ষিণ সীমান্ত কাছার, করিমগঞ্জ এবং হাইলাকান্দি-এই তিন জেলা নিয়ে বরাক উপত্যকা। এখানে বাংলাভাষীদের সংখ্যাধিক্য।  ১৯৬০ সালের শেষ দিকে অসমের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিমল প্রসাদ চালিহারের তৎপরতায় বিধানসভায় একটি বিল পাশ হয়। ওই বিলে বাংলাভাষা, সরকারি ভাষার মর্যাদা হারায়। এর বিরোধিতা করে করিমগঞ্জের বিধায়ক রণেন্দ্র মোহন দাস বলেন, তাহলে  রাজ‍্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষাকে অস্বীকার করা হবে? এতে বরাক উপত্যকার বাঙালিরাও নিজেদের ভাষার অপমান মুখ বুজে মেনে নেননি। শুরু হয় বাংলা ভাষার স্বীকৃতির দাবিতে আন্দোলন।        ১৯৬১ সালের ১৯ মে  এই  দাবিতে শিলচর স্টেশনে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান কমলা ভট্টাচার্য সহ ১১ জন ভাষাসৈনিক। শহিদরা হলেন- কমলা ভট্টাচার্য, সুনীল সরকার, তরণী দেবনাথ, কানাইলাল নিয়োগী, চণ্ডীচরণ সূত্রধর, হীতেশ বিশ্বাস, সত‍্যেন্দ্র

২০২১ নতুন বছর নতুন লেখা (অণুগল্প) /অন্তরা ঘোষ

Image
২০২১ নতুন বছর নতুন লেখা  পাঁচটি অণুগল্প   অন্তরা ঘোষ নিথর ঢেউ                   ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে বহুক্ষণ ধরে গঙ্গার ঢেউয়ের তোলপাড় দেখছিলো ঋতম। একটা সময় পর স্থির গঙ্গার রূপ এলো সামনে। চাঁদের অদ্ভুত আলো পড়ে জলের মধ্যে মাঝে মাঝে মায়ের মুখ আঁকা হয়ে যাচ্ছে। অয়ন আর ঋদ্ধিমার ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবিটা কুটিকুটি করে ছুঁড়ে দিলো জলের মধ্যে। সিদ্ধান্ত বদলে বাড়ির দিকে পা বাড়ালো সে। তোলপাড় সৃষ্টি যতই হোক, সব ঢেউই একসময় নিথর হয়। হতে বাধ্য।   আলো আর আলেয়া                       মিথ্যে মায়াবী আলোতে রঙ মাখতে গিয়ে অন্ধকারে হারিয়ে গিয়েছিল রোশনি। মডেলিং করবে বলে স্বামী ও সন্তানকে নির্দ্বিধায় ছেড়ে চলে যেতে তার কোথাও বাধেনি। কিন্তু আলো আর আলেয়ার তফাৎ বুঝতে তার অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। তারপর থেকে হাতবদল হতে হতে সাতবছর পর ফের স্বামীর ঘরেই ফিরলো সে । নিজের ছেড়ে যাওয়া সন্তানের আয়া হিসেবে। গাছ                         গড়ে ওঠা নতুন পাড়াটা একজোট হয়ে ঘিরে ধরলো মানুষটিকে। আজ নিয়ে তেরোদিন তারা তাকে মোড়ের ছাতিম গাছের নিচে বসে থাকা অবস্থায় দেখছে। রাত দশটা থেকে বারোটা। তাকে ঘিরে ধরে কটূক্তি, হুমকি, ঘেরাও, থানা পুল

২০২১ নতুন বছর নতুন লেখা (গুচ্ছ কবিতা)/বিশ্বজিৎ বিশ্বাস বাপ্পী

Image
২০২১ নতুন বছর নতুন লেখা  গুচ্ছ কবিতা  বিশ্বজিৎ বিশ্বাস বাপ্পী ঠিকানা তুমি মনুষ্য গাও গান মানবতার স্ব-প্রজাতির অস্তিত্ব বিলিনে ভীষণ ব্যস্ত ঠিকানাহীন থেকে ঠিকানা নিয়ে ভীষণ মত্ত করছো দম্ভ;মৃত্তিকায় ঘুমিয়ে আকাশে উড়ো! এক একটি মানুষই এক একটি উড়ন্ত বিহঙ্গ। ঠিকানা-ঠিকানা করে বেড়ায়, জীবন ঘুছে গেলে ঠিকানা হারায়। বিহঙ্গরা গায় সুখের কাকলি স্বজাতির অস্তিত্বে সংঘবদ্ধ-সজাগ ঠিকানাহীন উড়ে অনন্ত-আকাশে। মনুষ্য কিংবা বিহঙ্গ সবই ঠিকানাহীন শুধু নীড়ের ঠিকানা অনন্ত অব্দি বয়ে রয়। একই প্রবাহ থেকে উৎপত্তি স্থান ভেদে  নদ-নদীর নাম ভিন্ন।ভিন্ন-ভিন্ন নামের একই জল প্রবাহ শুধু অর্ণবে হয় ধাবিত। অবেলার দুঃস্বপ্ন  হাওর ঘেঁষে হাওর বয়ে বেড়ায় কিনারা বিভক্ত করে সীমানা ও নাম গ্রামগুলো রাশি রাশি জলে বেড়ায় ভেসে কালো কালো নৌকো সাদা সাদা রাশিতে একই গন্তব্যে ছুটে যায়... নৌকোর'পর দিয়ে চলে যাচ্ছে ঢেউ একটুও টলছে না! গাছের ছায়া ডাকে— তবু আমরা পিছু তাকাবার নই; চাঁদের জোৎস্না স্নানের জন্য নয়। খসে যাওয়া ধ্রুব তারা টা'র পড়ার স্থান নেই। চারপাশ জলের সাগরে ভাসমান, কিন্তু মন্দিরের দেবীর অর্ঘ জলশূন্য। ধ্রুপদী নৃত্যের তামাশা

২০২১ নতুন বছর নতুন লেখা (ধুলোমাটির দিন)/ বিশ্বজিৎ অধিকারী

Image
২০২১ নতুন বছর নতুন লেখা  মুক্তগদ্য ধুলোমাটির দিন বিশ্বজিৎ অধিকারী কবি অজয়কুমার নাগের বাড়ি গ্রামীণ খড়গপুর থানার চমকা গ্রামে, পোষ্টঅফিস মাদপুর। রেলস্টেশন থেকে দক্ষিণে প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তা পেরোলে তবে সেই গ্রাম। অজয়বাবু যৌবনে “ধুলোমাটি” নামে একটি ছোটোকাগজ সম্পাদনা করতেন। ছোটোকাগজ ঠিকই, তবে তাতে বহু বড়ো-বড়ো লেখকই লিখেছেন। ছোটোকাগজ লেখা হল কারণ ‘লিটল ম্যাগাজিন’ কথাটা তখনও তেমন জনপ্রিয় হয়নি, অন্তত গ্রামদেশে। তো বলার কথা হল—এই লেখা অজয়বাবুর সেই কাগজ নিয়ে নয়। সুতরাং নামের ব্যাপারে শুরুতেই ঋণস্বীকার। এ লেখা আক্ষরিক অর্থেই ধুলো এবং মাটি নিয়ে। শহর-বাজারের ধুলোবালি নয়, একেবারে আদি অকৃত্রিম গ্রামবাংলার ধুলোমাটি।      আগের দিনের গল্প-উপন্যাসে গেঁয়ো পথচারীর কথা থাকলে অবশ্যই তার ধূলিধূসর পদযুগলের বর্ণনা থাকত। কিন্তু কিছু ব্যতিক্রম ছেড়ে দিলে, আজ আর তেমনটি হওয়ার জো নেই। কেননা গাঁ-গঞ্জে ধুলোবালি আজকাল কম। শহর থেকে গ্রামে যাওয়ার প্রধান পথগুলি প্রায় সমস্তই বাঁধানো, পিচ কিংবা কংক্রিট দিয়ে। অন্তঃগ্রাম রাস্তাঘাটও ইদানিং বালি-পাথর দিয়ে ঢালাই করা হচ্ছে। নিদেনপক্ষে মোরামের আস্তরণ তো আছেই। মোরামও একপ্রকা

২০২১ নতুন বছর নতুন লেখা (দুটি অণুগল্প) /সন্দীপ দত্ত

Image
২০২১ নতুন বছর নতুন লেখা  দুটি অণুগল্প  সন্দীপ দত্ত ভুল রাস্তা ড্রাইভার গাড়ির কাচ তুলে দিতেই পল্লবের দিকে তাকালেন অমরেন্দ্র। দু'চোখে উৎকন্ঠা নিয়ে বললেন, "আমরা ঠিক সময় পৌঁছোতে পারবতো? ঘন্টা খানেকের বেশি লাগবার তো কথা নয়! আমার একটা হিসেব থাকে। অলরেডি পনেরো মিনিট লেট হয়ে গেছে। ওখানকার মানুষগুলো অধৈর্য হয়ে গেছে বোধহয়।" ড্রাইভার গাড়ি চালাতে চালাতে বলল, "রাস্তার ওপর দিয়ে মোষের লম্বা লাইন চলে গেলে দেরি তো একটু হবেই স্যার। আমি তো ওদের বুকের ওপর দিয়ে গাড়ি চালাতে পারিনা। ওরা অবলা।" শার্সিতে ড্রাইভারকে বিরক্তমুখে এক পলক দেখে পল্লবের দিকে তাকালেন অমরেন্দ্র। "কি ব্যাপার পল্লব, এ পথে তো মোষ থাকার কথা নয়! আজ তিন মাস ধরে এ রাস্তার কাজ হচ্ছে। এই পথ ঝকঝকে তকতকে তো অনেকদিন ধরে। সেটা একমাত্র আমরাই জানি, আর কেউ নয়। মানুষ অতো বোঝেনা। ওরা ভেবেছে রাস্তা'টা নতুন তৈরি করেছি। তারই উদ্বোধনে আসছি এখানে। কিন্তু  সেটা তো শুধুমাত্র আমাদের পার্টির ভেতরের লোকগুলো জানবে। বাইরে আউট হবেনা। তাই বলছিলাম, এই মোষগুলো কেন? রাস্তার খাতে খরচ করার পুরো টাকাটাই তো আমি তোমাদের সকলের মধ্যে

২০২১ নতুন বছর নতুন লেখা (গুচ্ছ কবিতা)/ তাপস সাঁতরা

Image
২০২১ নতুন বছর নতুন লেখা  গুচ্ছকবিতা কৃষক বিদ্রোহ ২০২০ তাপস সাঁতরা এগিয়ে যাওয়ার গান   সামনে পথ এগিয়ে চল  তোকে হাঁটতে হবে...... হাঁটতে হবে অনেকটা পথ পথের মাঝে সঙ্গী হবে  যত সর্বহারার দল। শাসকের জল কামান  পাথর ছড়ানো পথ, কাঁটার প্রাচীর ভাঙ্গতে হবে ভাঙ্গতে হবে....... উত্তাল জন সমুদ্রের ঢেউ , জন জোয়ার দুকূল ছাপিয়ে আছড়ে পড়েছে রাজ পথে । এগিয়ে তোদের যেতে হবে  যেতেই হবে.......  রোদে পুড়ে ঘাম ঝরিয়ে  লাঙল ধরা শক্ত হাতে, দশের খুধা মেটায় যারা   কার অত শক্তি আছে  ভাঙ্গবে তোদের মনের বল । লাঙল কাঁধে এগিয়ে চল  দিল্লীর পথ হোক সরব। আগুন ঝরানো রাজ পথ  যেন করতে না পারে তোদের পথ পিছল । ও ভাই রে ভাই  আর সময় নাই  কাঁধের জুয়াল শক্ত করে ধর, যত কৃষক জোয়ান মজদুরে দের দল  এগিয়ে চল.......... এই তো সময়  আনতে হবে এক নতুন ভোর , পথের মাঝে সঙ্গী হবে যত সর্বহারার দল এগিয়ে চল......... সংগ্রাম আজিকে মহাসংগ্রামের প্রস্তুতি এগিয়ে চল.........। আন্দোলনই এনেছে যত জয়          বন্ধ হোক পথ ,         খুলবে দুয়ার          আসবে তবে জয়  ।          শান্তির বাণী           শায়িত কবরে,          অশান্তি ব

২০২১ নতুন বছর নতুন লেখা (গুচ্ছ কবিতা)/আবীর ভট্টাচার্য্য

Image
২০২১ নতুন বছর নতুন লেখা  গুচ্ছ কবিতা আবীর ভট্টাচার্য্য সীতায়ন তারায় তারায় দীপ্তশিখা জ্বলে, তোমায় ঘিরে , চিরন্তন আসা-যাওয়ার পথের ধারে ধারে; এক কবোষ্ণ আত্মতৃপ্তি তোমায় অভ্যর্থনা করে! তুমি নারী!তুমি সীতা!সবংসহা! নাকাবন্দী পৌরুষ রামের,সে মহাকাব্যের ফের; সাধ্য বা সাধনায়, সম্ভোগের বা বৈরাগ্যের, তোমায় জড়িয়ে নিয়ে যে জীবন সৌভাগ্যের পাওয়া তো হয়না তাই ; নর-নারায়নের! প্রতিদিন আগুনের দাহ,প্রাত্যহিকতার ঘূর্ণতায়, অনিশ্চয় তোমার অমৃত অগ্নিপরীক্ষার অপেক্ষায়; কি করে বোঝাই সজনী!সোনার হরিণ অবাস্তব রাবন,সূর্পনখা,মন্থরা ;এরা সব নাটকের কুশীলব  শুধুমাত্র ছেলেভুলানো মিষ্টি গল্পলতা...... আধিপত্য বিস্তারেই আসলে পৌরুষের অন্তিম সার্থকতা। নারী, তাই তুমি কালে বা আকালে যথার্থই সীতা।                        অহল্যা-উবাচ ঐ শুনি যেন চরণধ্বনি,অস্ফুট দেবোপম স্বর..... কে এলো গো?আলোকিত বনপথে নবীন কিশোর!  বিশ্বামিত্র-ইচ্ছায় পাদস্পর্শ অভিশপ্ত প্রস্থরে, যুগান্তের বিড়াম্বনা শেষ,জাগে প্রাণ,শরীর শিহরে! বহুদিন ছিলাম একাকী,শুধুমাত্র নিয়ে নারীসাজ..... ফুলতোলা,পতিসেবা, অপরাপর নিত্য গৃহকাজ তারও বাইরে যে জীব

২০২১ নতুন বছর নতুন লেখা (গুচ্ছ কবিতা)/ রঞ্জন চৌধুরী

Image
২০২১ নতুন বছর নতুন লেখা  গুচ্ছ কবিতা রঞ্জন চৌধুরী আমি গাঁয়ের ছেলে নই  আমি কি গাঁয়ের ছেলে? না।  আমি শহরের জলবাতাসে বড় হওয়া শহুরে নাগরিক।  যে ক্ষেত ও কৃষকের ঘামে ভেজা কান্না কখন শোনেনি।  যে ঘুটে ও গোয়ালের সম্পর্ক জানেনা।  পুকুরের জলে সাঁতার কাটেনি।  এঁটেল-ধুলো মাটি কখন মারায়নি। যে গাছ বলতে বোঝে বনসাই আর পাখি বলতে খাঁচায় পোরা লাভিং বার্ড।  না, আমি গাঁয়ের ছেলে নই, শহুরে। তবুও যখন পেটে ক্ষিধে নিয়ে ভাত খেতে বসি ফুলো ফুলো সাদা ভাতের ঘ্রাণে  কেমন যেন সুদূর থেকে ভেসে আসা গাঁয়ের মাটির গন্ধ পাই।             যেখানে একদা একটা নদী ছিল  স্কুল পাঠ্যে যেখানে একটা নদী ছিল  সেখানা আজ পৌঁছালাম — কিন্তু কোথায় নদী! কোথায় তার সুরধ্বনি! শায়িত হয়ে আছে তার কেবল জীবাশ্ম।  মাটির গ্রন্থে যেন শান্ত ঘুমিয়ে আছে এক প্রত্নতাত্মিক ইতিহাস যাকে অধ্যায়ন করতে হয়তো আগামীতে আসবে অনেক যুবক-যুবতী কাটাছেঁড়া হবে তার বুক আর হয়তো আসবে কীছু স্মৃতিভূক নাবিক।  যেখানে একসময় জলের বাহার ছিল, কল্লোল ছিল, নৌকো ছিল, বিলাস ছিল, প্রেমপিরিত ছিল সেখানে আত্মাহীনা হয়ে আছে যেন সভ্যতার হারহিমহিম নিষ্ঠুর কন্কাল।  যেখ