Posts

Showing posts from June, 2020

পল্লব তেওয়ারী

Image
প ল্ল ব  তে ও য়া রী আশ্রয় একটার পর একটা দিন মুছে যায় স্মৃতির পাতা থেকে স্বপ্নের মায়াবী উড়ান আর জীবন্ত অক্ষরে জেগে আছো তুমি। রাস্তার দু'ধার থেকে  নুড়ি আর পাথর কুড়িয়ে তৈরি করেছিলে স্বপ্নের ইমারত, সফেদ মেঘের মাঝে মেলেছি ডানা। নতজানু হয়ে সমর্পণ করেছি ভালোবাসার পায়ে নিজেকে  পারো যদি আর একবার হাত ধরো হৃদয় প্রসারিত হোক পার হয়ে যাই দুজনে  সকল বিঘ্নের পারাবার। রূপনগর আবছা দূরের গাছগুলো শ্রান্ত মানুষের মতো বোঝা মাথায় বাড়ি ফিরছে চালচুলোহীন উঠোনে অপেক্ষারত একদল শিশু- পথ কিছুতেই মসৃণ নয় শিকড়গুলো  অনেক গভীরে সব রাস্তায় পিতাকে ছায়া দ্যায় পুত্র বিবর্ণ বিন্দুগুলো ঝরে পড়ছে রক্তচক্ষু থেকে জীবন্ত শরীরগুলো এভাবেই ভস্মীভূত দেখি সকলের অগোচরে যখনই একা ফিরি মনে শুধু ভেসে ওঠে স্মৃতি-বিস্মৃতির রূপনগর। গচ্ছিত রেখেছি ইচ্ছামৃত্যু সমস্ত রাতের কাছে জমা থাকে অঙ্ক;জীবনের, লাভক্ষতির বিপন্নতার পথে হাঁটতে হাঁটতে হারিয়ে ফেলেছি শক্তি পথচলার, একটি জীবনদায়ী গাছের বাকলের নীচে গচ্ছিত রেখেছি ইচ্ছামৃত্যু-প্রেম সমস্ত ঢেউ যেদিন আছড়ে পড়বে পায়ের নীচে সেদিন নদীর মোহনার মতো আমরা  মিশে যাব বৃহৎ এক অলকানন্দায়।

সৌতিক হাতী

Image
সৌ তি ক  হা তী ট্রাফিক জ্যামে ট্রাফিক জ্যামে আটকে গেলেই ডিওডোরেন্ট মুহূর্তরা ঘিরে ধরে আমি সিগন্যালে দেখি সিঁদুরে মেঘ অগনিত হেলমেটে ঢাকা গৃহপালিত অসুখ গাড়ির কাচে টোকা দেওয়া পথশিশু আমায় একটা বিছিন্ন দ্বীপে নিয়ে যায় জাহাজডুবির পর মৃতপ্রায় লেনিন সেখানে শুয়ে আমি ঘামের সাথে পান্তা ভাতের সম্পর্ক বুঝে নিয়ে ডিওডোরেন্ট ছড়িয়ে দিই ঘেয়ো কুকুরের গায়ে আবহমান ঘামগন্ধ নিয়ে ছুটে চলে পথ বলিরেখা ফুটে ওঠে ট্রাফিক সিগন্যালে বেশ ছিল   অস্থির বিছানা I আধময়লা বেডশীট I খোলা ডায়েরী I ভাবনার এনট্রপি I  বেশ ছিল ৷ তালগাছ ৷ বেশ ছিল । খামোকাই শাখা প্রশাখা I  খামোকাই ৷ একসাথে ম্যারাথন | উচ্ছন্ন বিকেল ৷ সন্ধের অ্যালকোলাহল ।  রেস্তোরাঁ ৷ কেবিন ৷ পার্ক I অন্ধকার গলি । হেডোনিস্ট মেসেঞ্জার I চুলবুলি চড়ুই I উশখুশ আদিম রিপু I বোধ বিক্রির ট্রেলার I চৌরাস্তার মোড়ে নেক্রোম্যানিয়াক I তেলচিটে জিন্স I ক্ষয়াটে স্যান্ডাল I প্রেম I তেলেভাজা I ঝিমিয়ে আসা পকেট I ক্রমশ।  বেশ ছিল I তালগাছ I বেশ ছিল I খামোকাই ... নাস্তিক সিরিজ ১.  ভগবানের   কান মলে দেব, হ্যাঁ দেবই... যতদিন  শোষকের থাবায় ঝরবে রক

সুব্রত দাস

Image
সু ব্র ত  দা স  পরিযায়ী এতকাল শুনে এসেছি পরিযায়ী পাখী হয় আসে ভিন দেশে, স্বদেশেও শ্রমিক পরিযায়ী হয় জানি না কোন বেশে, শ্রমের মূল্যও পায়নি তারা একি নির্মম অবিচার শিক্ষিত সমাজ মালিক শ্রেণীর কি অদ্ভুত আচার। রাজনীতি আজও স্বার্থহীন নয় সদা মনে জাগ্রত ভয় খালি মনে হয় বেঁচে থাকা আর নয় আর নয়। নিরুপায় হয়ে যেতে হবে হেঁটে নিজ গ্রামে নিজ ঘরে শত শত যোজন দূরে, মাথায় বোঝা অবসন্ন পা অন্নহীন পেটে শুখা রুটি আছে কয়খানি তাই খাবে চেটে চেটে বাঁহকে আছে শিশু আছে ঘুমিয়ে টানা ট্রলি ব্যাগে পাটাতনে বসে আছে পোয়াতী মা-- যেতে হবে বেগে। ওরা চলে গেলো অদৃষ্টে এই লেখা ছিল দেহগুলি হল ছিন্ন ভিন্ন পড়ে থাকলো শুখা রুটিসব আর্তনাদে পূর্ণ হলো মাঠ রক্ত শুকিয়ে হলো কাঠ। শুধু থেকে গেলো সাধ দেখা না হওয়ার প্রিয়জনে পরিজনে সে ভীষণ ব্যথা রয়ে গেলো মনে, ফিরে যাওয়া হলো না আর নিজ নিজ নিবাসে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে সব চলে গেলো স্বর্গীয় আবাসে।। দাও আর নাও যেতে যেতে পথ খোঁজে  আবেগঘন মুহুর্ত পথ যেমন বলে তেমন আর কেউ বলে না গাছের ছায়া শ্রান্ত পথিককে ডাকে এসো আমার কাছে বিশ্রাম নাও মা ছাড়া একথা আর কেউ বলে না প্রেয়সী তুমি তখন ডাক

কেশব মেট্যা

Image
কে শ ব  মে ট্যা  আয়না  জল কাঁপলে বেশী কেঁপে ওঠে  গাছ। গাছ নয় গাছের ছায়া। চার  তিন চার বার নয় বানাতে জানলে একবার ফেললেই হয়। চার। চার, মাছেদের চা দোকান। মীর যা জানে  রান্নাঘরের বাসন নাকি কথা বলে! বড্ড বেশীই বলে লকডাউনের সময়। বাড়িতে যখন কথা থাকে না– বাসন একটু জোরে শ্বাস নিলেই বুকটা ছ্যাঁৎ করে! এটাও মীর জানে, যেটা মীর জানে না।   সজনে ডাঁটা  হালকা বাতাসে দোলে না সজনে ডাঁটা। ডাঁটা মানেই, হাড় জিরজিরে  রোগাটে গড়ন ; হাড়মাস চিবিয়ে– ছিবড়ে হলেই, সহজে ছুঁড়ে ফেলা যায়। যেভাবে রাষ্ট্র ফেলে দেয় তার কৃষক...শ্রমিকদের...! বাঙালি ডট কম ১. কে আগে উঠতে পারে নামতে পারে কে আগে মিনিট ফিনিট আর চলে না আজকাল সেকেন্ডেই সব এসপার নয় ওসপার মা কালীর দিব্যি যেন একটা সিট খালি থাকে বেশী ফাঁকা হলে আবার কপালে ভাঁজ জ্যোতিষ বিজ্ঞান ইতিহাস বাসটি গ্রাম থেকে শহরে যায় শহর থেকে গ্রামে আসে বাসটি। ২. লকডাউনে ভয়ে আছে মানুষ লকডাউনে কম ভয়ে নেই পোকা। উচ্চবিত্ত শহুরে থেকে মধ্যবিত্ত ফ্যাশন দুরস্ত মফসসলীয় গেঁয়ো বাবুরা পর্যন্ত আজকাল পোকা খায় ল্যাদ গো ল্যাদ এইসব নিয়ে ভয়ে আছে ল্যাদাপ

৩০ জুন ২০২০

Image
আ জ কে র  দি ন  আজ 30th June, 2020 বাংলায় ১৫ই আষাঢ়, ১৪২৭ আজ, ঐতিহাসিক হুল দিবস। হুল মানে বিদ্রোহ। সিপাহি  বিদ্রোহেরও আগে ১৮৫৫ সালের আজকের দিনে আনুমানিক ত্রিশ হাজার সাঁওতাল  বীরভূমের ভাগনাডিহির মাঠে বিশাল সমাবেশে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। ভারতবর্ষের মাটি সেদিন প্রথম গণ পদযাত্রায় কেঁপে  উঠেছিল। তাঁদের সেই ভূমিকা স্মরণ  রাখতেই আজকে হুল দিবস পালন করা হয়। আজ,  International  Asteroid  Day. 1908 সালে আজকের দিনে রাশিয়ার  টাংগাস্কা নদী তীরবর্তী  বনভুমিতে বিশাল এক উল্কাপিণ্ড এসে পড়ে। ফলস্বরূপ ২১৫০ বর্গ কি.মি বনভূমি ধ্বংস হয়ে যায়। মহাজাগতিক  সর্বনাশ থেকে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ  সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে আজকের দিন astroid  day হিসেবে   উদযাপন  করা হয়। মনীষী উবাচ : আত্মাভিমানের দ্বারা অন্যকে খণ্ডিত করিয়া দেখিলে তাহার দোষত্রুটি বড়ো হইয়া উঠে; ভাবের দ্বারা, প্রেমের দ্বারা সম্পূর্ণ করিয়া  দেখিলে  সে- সমস্ত কোথায় অদৃশ্য  হইয়া যায়!(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) --------------------------------------------------------- সংকলক - রুম্পা প্রতিহার  

প্রভাত মিশ্র

Image
 প্র ভা ত  মি শ্র  শত্রুর বাড়ি  আমাদের শত্রুর বাড়ি গেছিলাম কাল । আমাদের জন্য সে বানাচ্ছে স্বপ্ন-তুবড়ি । তার দু-হাত বারুদমাখা, বারুদের গন্ধে তার ছেলেমেয়ে  ঘুমিয়ে পড়েছে , তার বৌ কলতলায় যেতে যেতে আছড়ে পড়েছে, আমি তার ফাটা মাথা থেকে রক্ত ঝরতে দেখে চমকে উঠলাম , আর তখনই  মনে পড়ল-- শত্রু, শত্রুর বাড়িতে রক্ত থাকবে -- এ আর এমন কি ! তারপর আমাদের শত্রুর সাথে কথা হ'ল । আমাদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য সে তৈরি করছে পরিকল্পনা : আমাদের ভালোর জন্য লোক লাগিয়ে তৈরি করাচ্ছে সে নরম চেয়ার।  তাক লাগিয়ে দেবার মতো একটা ঝকঝকে মুকুট  তার পায়ের তলায় মাথা হেঁট করে হাসছিল।  আমাদের শত্রুর বাড়ি গেছিলাম কাল । ফুলের বাগানে ফুল , শেলফে ব ই , দাঁতের গোড়ায় হাসি-- সব দেখেছি , শুধু হাত দুটো দেখতে ভুলে গেছি ।  শশবিন্দুবাবুর হাসি-হাসিমুখ  আমার এই দিনযাপনের অলক্ষ্যে ডেকে ওঠে কাক -- অশুভ মানি না । আমি হামাগুড়ি দিতে দিতে দাঁড়াবার গান গাই-- কাক কোন সঙ্গীত বোঝে না, ডেকে ওঠে , আর  হেসে ওঠেন এল-আই-সি অফিসের শশবিন্দুবাবু -- শশব্যস্ত তিনি পথে চলেছেন । কাকের চেয়েও তিনি বিরক্ত করেন বেশি। আমি ব

মধুমিতা মহাপাত্র

Image
ম ধু মি তা  ম হা পা ত্র   বাংলা সাহিত্যে নবযুগের দিশারী মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে 'আধুনিকতা' শব্দটি উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যার নাম প্রথমেই মনে আসে তিনি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। ঊনবিংশ শতাব্দীর যুগ প্রভাবকে অন্তরে ধারণ করে সাহিত্যে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সুচারু সমন্বয়ে এক নবদিগন্তের দ্বার উন্মোচন করেন তিনি। মননে তিনি যে ধারণাকে লালন করেছিলেন তা প্রকৃত অর্থেই যুগজীবনকে আধুনিকতার দিশা দেখাতে পেরেছিল। বাংলার ইতিহাসের এক যুগসন্ধিক্ষণে মাইকেল মধুসূদন দত্তের আবির্ভাব। তারিখটা ছিল ১৮২৪ সালের ২৫শে জানুয়ারি। যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত কায়স্থ পরিবারে তাঁর জন্ম। পিতা রাজনারায়ণ দত্ত, মাতা জাহ্নবী দেবী। অতি শৈশবের তাঁর কিছু চারিত্রিক গুণের মধ্যে ভবিষ্যতে সফল হওয়ার সম্ভাবনা লুকিয়ে ছিল, যেমন পড়াশুনায় গভীর আগ্রহ ও কাব্যপ্রীতি। বাল্যকাল থেকে রামায়ণ ও মহাভারতের প্রতি ছিল প্রবল আকর্ষণ যা ভবিষ্যৎ কবি জীবনের ভিতটিকে সুন্দর করে গড়ে দিয়েছিল।গ্রামের পাঠশালায় প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ করে তিনি হিন্দু কলেজের জুনিয়র বিভাগে ভর্তি হন। সেখানেই অধ্য

পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা

Image
পূ র্ণ চ ন্দ্র  ভূ ঞ্যা বিজ্ঞানে ঈশ্বরের চিহ্ন পর্ব - ১   উদ্ভাবনা, না আবিষ্কার ? ঈশ্বর কী বা কে, তিনি আছেন কিনা, থাকলেও তাঁর স্ব‍রূপ কেমন - এমনতর হাজারো জিজ্ঞাসা বা কৌতূহল আমাদের মনে। অতীতে একটা সময় ছিল যখন বিজ্ঞানের ধারণা বা অস্তিত্ব কিছু ছিল না, থাকলেও সমাজে সহজে মান্যতা পেত না। প্রকৃতির সব সত্য ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়া হত ধর্মের মোড়কে, পরমেশ্বর ভগবানের মাহাত্মের নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরে। কিন্তু এখন ? বর্তমানকাল বিজ্ঞান নির্ভর। ঈশ্বরের তত্ত্ব আওড়েও মানুষ বিজ্ঞানের উপরেই বেশি ভরসা রাখেন, সে বিজ্ঞানী হোক বা মন্দিরের পুরোহিত। এতে ভুল নেই। বিজ্ঞান ও ঈশ্বর - হাতে হাত ধরে কুয়াশা ঢাকা সমান্তরাল পথ চলে যেন। বাইরে থেকে কারও উপর সম্পূর্ণ ভরসা করা যেমন চলে না, তেমনি কে বড় বা কার ক্ষমতা বেশি - এ কথা বলাও বাতুলতার সামিল। শেষ অঙ্কে হয়ত বা বিজ্ঞানের দিকে দাঁড়িপাল্লা বেশি ভারী - এ কথা প্রতিপন্ন হয়।  "বিজ্ঞানে ঈশ্বরের চিহ্ন" আসলে প্রকৃতির আবিষ্কৃত বা উদ্ভাবিত সত্য ঘটনায় 'ঈশ্বর' নামক মহাশক্তির সন্ধান, তাঁর অস্তিত্বের স্বপক্ষে যুক্তি খোঁজা। উদ্ভাবনা ( Invention) ও আবিষ্কার ( D

২৯ জুন ২০২০

Image
আ জ কে র  দি ন ------------------------- আজ 29th June, 2020 বাংলায় ১৪ই আষাঢ়, ১৪২৭ আজ, জাতীয় রাশিবিজ্ঞান দিবস। প্রশান্তচন্দ্র মহলানবীশের জন্মদিন। ইনি ভারতে রাশিবিজ্ঞানের প্রচার ও প্রসার করেন। তাই তাঁর কৃতিত্বের কথা স্মরণ করে ২৯ শে জুন জাতীয় রাশিবিজ্ঞান দিবস  হিসেবে পালন করা হয়। আজ, প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ আশুতোষ  মুখোপাধ্যায়  এর জন্মদিন। কর্তব্যপরায়ণ, কর্মপ্রিয়, বিচক্ষণ ও নিষ্কম্প স্বভাবের ছিলেন। 'বাংলার বাঘ' হিসেবে খ্যাত। আজ, কবি-নাট্যকার মাইকেল মধুসূদন  দত্তের মৃত্যু দিন। স্বনামখ্যাত এই কবি বাংলা সাহিত্যে প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রকৃত অর্থে আধুনিকতা। মাত্র ৪৯ বছর  বয়সে কর্পদকহীন অবস্থায় মারা যান। মনীষী  উবাচ:  সকলেরই মধ্যে এক জায়গায় বাস করে থাকে একটা  বোকা, সেইখানে ভালো  করে বোকামি চালাতে পারলে মানুষকে বশ করা সহজ হয়। (রবীন্দ্রনাথ  ঠাকুর) ----------------------------------------------------------- সংকলক - রুম্পা প্রতিহার  

সৌম্যদীপ চক্রবর্ত্তী || পর্ব - ৪

Image
ইংরেজি সাহিত্য: পর্ব বিন্যাস ও রূপরেখা পর্ব- ৪    সৌ ম্য দী প  চ ক্র ব র্ত্তী   ক্যারোলাইন পিরিয়ড এবং দি এইজ অফ রেস্টোরেসন: রানী প্রথম এলিজাবেথের শাসনকালে ইংল্যান্ড খ্যাতির শীর্ষে ওঠে, সাহিত্য-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে রচিত হয় স্বর্ণ যুগI জ্যাকোবিয়ান পিরিয়ডের সাহিত্যে সেই প্রভাব পরিব্যাপ্ত হয়I ঠিক এর পরে, ১৬২৫ সালে প্রথম চার্লস আসীন হন ইংল্যান্ডের সিংহাসনে যা সূচনা করে ক্যারোলাইন পিরিয়ডেরI এসময়ে ইংল্যান্ড এক টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যায়I গোঁড়া পিউরিট্যানদের উত্থান রাজার সাথে প্রত্যক্ষ সংঘাতের ক্ষেত্র তৈরী করেI প্রথম চার্লস ও তাঁর পার্লামেন্টের  প্রয়োগ করা নিয়ম-নীতি ও করের বিরোধিতা করে পিউরিট্যানপন্থী 'রাউন্ডহেড'-রা সরাসরি রাজতন্ত্রের বিলোপসাধনের পথে হাঁটেI কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষদের মনে সাধারণতন্ত্রের আশা জাগিয়ে এই বিরোধিতার আঁচ আরো বাড়িয়ে তোলেন অলিভার ক্রমওয়েলI সমাজ ক্রমশ বিভাজিত হয়ে ওঠে প্রথম চার্লসের অনুগামী তথা 'রয়ালিস্ট' ও রাজতন্ত্রবিরোধী 'রাউন্ডহেড' দের মধ্যেI এই দোলাচলের প্রভাব পড়ে শিল্প-সাহিত্য জগতেI প্রতিবাদের অন্যতম সর্বোত্তম মাধ্যম নাটকের ওপর

শ্যামল জানা || পর্ব -১

Image
আধুনিক চিত্রশিল্পের ইতিহাস -১ শ্যা ম ল  জা না প্রাককথন পেন্টিং বা চিত্রকলার ইতিহাস মানুষের সভ্যতার ইতিহাসের চেয়েও প্রাচীন৷ সেই, ছবি আঁকার প্রথম দিন থেকে, বা সূত্রপাত থেকে, যদি আমরা ধরি, তাহলে, সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত ছবি আঁকার ইতিহাস অন্তত দুশোর বেশি ধাপ পেরিয়ে গেছে৷ এবং, এই প্রতিটি ধাপের একটি নিজস্ব নামও আছে৷ প্রথম নামটি হল— গুহাচিত্র (Cave Painting)৷ পরের ধাপটি হল— আদিম ধ্রুপদচিত্র(Ancient Classical Art)৷ এইভাবে চলতে চলতে প্রায় ৬৪ হাজার বছর অতিক্রম করে, অন্তত পঁয়তাল্লিশটা ধাপ পেরিয়ে আধুনিক চিত্রকলার(Modern Art)সূত্রপাত হয়েছে৷ এই আধুনিক চিত্রকলাই আমাদের আলোচনার বিষয়৷ তবে, হঠাৎ করে ঠিক এইখান থেকেই আলোচনা শুরু করা যায় না! প্রদীপ জ্বালানোর আগে সলতেটা পাকিয়ে নিতেই হয়৷ গুহাচিত্র থেকেই যে পৃথিবীর চিত্রকলার ইতিহাস শুরু হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়৷ কতদিন আগে? ২০১৮ সালের একটি সমীক্ষা থেকে জানা যায় যে, পৃথিবীর সবচেয়ে প্রচীন ছবিটি পাওয়া যায় আইবেরিয়ার একটি গুহার দেওয়ালে৷ যেটি চৌষট্টি হাজার (৬৪,০০০) বছর আগে আইবেরিয়ার গুহার দেওয়ালে এঁকেছিল আজকের মানুষের পূর্বপুরুষ নিয়নডার্থালরা৷ তবে, এ

তুলসীদাস মাইতি || পর্ব - ৬

Image
               চিত্র- তুলসীদাস মাইতি    হাজার বছরের বাংলা গান ।। পর্ব- ৬ তু ল সী দা স  মা ই তি বাংলা কীর্তন গান : পদাবলীকীর্তন, সংকীর্তন ও অন্যান্য  "সাহিত্যের ভূমিতে ওর উৎপত্তি, তার মধ্যেই ওর শিকড়, কিন্তু ও শাখায় প্রশাখায় ফলে ফুলে পল্লবে সংগীতের আকাশে স্বকীয় মহিমা অধিকার করেছে" দিলীপ কুমার রায়কে লেখা বাংলা কীর্তন গান সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঠিক এমনটি বলেছিলেন। সংগীতচিন্তা গ্রন্থে তিনি বলেছেন "বাংলাদেশে কীর্তন গানের উৎপত্তির আদিতে আছে একটি অত্যন্ত সত্যমুলক গভীর এবং দূরব্যাপী হৃদয়াবেগ। এই সত্যকার উদ্দাম বেদনা হিন্দুস্থানী গানের পিঞ্জরের মধ্যে বন্ধন স্বীকার করতে পারলে না…...। অথচ হিন্দুস্থানী সংগীতের রাগ রাগিনীর উপাদান সে বর্জন করেনি, সে সমস্ত নিয়ে সে আপন নূতন সংগীতালোক সৃষ্টি করেছে।" এইভাবেই রবীন্দ্রনাথ তার লেখার নানা সূত্রে বাংলা কীর্তন গানের নিজস্ব রূপটিকে প্রকাশ করেছেন। তার সাথে বাংলা গানের স্বতন্ত্র পরিসরে কীর্তন গানের গুরুত্বটিও বুঝতে সহজ হয়। বাংলা কীর্তন অনেক বড়ো একটি ক্ষেত্র। তার ইতিহাস, বিবর্তন ও নানাবিধ শাখা-প্রশাখা নিয়ে তার ব্যাপ্তি। অল্প পরি

বিশেষ সংখ্যা

সন্দীপ কাঞ্জিলাল || পর্ব-৪

Image
অ্যাঁতেলেকত্যুয়েল বনাম আঁতেল   পর্ব - ৪ স ন্দী প  কা ঞ্জি লা ল আঁতেল মানুষ  একটা গল্প দিয়ে শুরু করি! একজন চাকুরে তার বাড়ীর কাছে ট্রান্সফারের জন্য, অফিসে দরখাস্ত করেন। একদিন রাস্তার ধারে এক বট গাছের তলায় সিঁদুর মাখানো পাথরে দরখাস্তকারী প্রণাম করছিলেন। তখনই ঐ রাস্তা দিয়ে বড় বাবু যাচ্ছিলেন। বড়বাবু ঐ চাকুরেকে জিজ্ঞাসা করলেন, কী ব্যাপার? কিছু না স্যার আমার ট্রান্সফারটা যাতে হয়, তাই ঠাকুরকে বলছিলাম। বড়বাবু চুপ করে চলে গেলেন। অফিসে এসে তার দরখাস্ত নাকচ করে দিলেন। ঐ চাকুরে জিজ্ঞাসা করাতে ঐ বড়বাবু বললেন, - আরে মশাই আপনি নিজেকে চালাক ভাবেন। যে আপনার ট্রান্সফার অর্ডার করবে, তাকে না বলে তৃতীয় পক্ষের কাছে তদ্বির করছেন। তাই আপনার দরখাস্ত  বাতিল করলাম।  এরাই হচ্ছে আঁতেল, যারা নিজেকে চালাক ভাবেন। গায়ে বেশ ফুল ফুল জামা। চোখে গোল্ডেন ফ্রেমের চশমা, ডান হাতে ঘড়ি। কয়েকদিন হল ঘুর ঘুর করছেন এক নেতার পেছনে। নেতাটি মাধ্যমিক। ছেলেটি এম.এ। চা বয়ে দিচ্ছে, মাথায় ছাতা ধরছে, ব্যাপারটা গুরুতর-- একটা চাকরী! নিজস্ব উদ্যোগে বাঙালির গভীর এবং আজন্ম অনীহা! মনে পড়ে রবীন্দ্রনাথের 'বঙ্গমাতা' ক