Posts

Showing posts from July, 2020

দিনের শেষে

Image
                      দি নে র শে ষে   ৩১/৭/২০২০ ১) দেশের কোন্ স্তরের মানুষের মধ্যে  প্রথম করোনা-ভ্যাকসিন বিতরণ করা হবে, তা' নিয়ে কেন্দ্রীয় স্তরে আলোচনা শুরু হল।  ২) রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯১১ সা‌লে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে মোহনবাগান ক্লাবের ঐতিহাসিক IFA শিল্ড জয়ের কাহিনী এবার পড়ানো হবে ৮ম শ্রেণীর পাঠক্রমে!  ৩) এই প্রথম ১৫ আগস্টে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ লাইভ দেখবে পাক সীমান্তের শেষ গ্রাম।  ৪) লন্ডনে ৮৬ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন সৌরভ গাঙ্গুলী-র প্রথম প্রশিক্ষক অশোক মুস্তাফি!  ৫) আমেরিকার সেনসাস বিভাগের সাপ্তাহিক পালস্ সার্ভে অনুযায়ী সেই দেশের ২ কোটি ৩৯ লক্ষ মানুষের সপ্তাহের কোন একটা সময় ঘরে পর্যাপ্ত খাবার ছিল না ! ৬) করোনা-র বীভৎসতায় দুবাইতে হতে চলা জনপ্রিয় " রাগবি সেভেন প্রতিযোগিতা" বাতিল করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল বিশ্ব রাগবি সংস্থা!  ৭) স্পেশাল সুইশ প্রসিকিউটর স্টেফান কেলার বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা " ফিফা"-র প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফাস্তিনো-র বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করলেন!  ৮) সদ্য সমাপ্ত লা-লিগায় " ড্রিবলিং কি

ইয়ারা / রাকেশ সিংহদেব

Image
' ইয়ারা' - দেশী লেবেলে বিদেশী মদ পরিচালক - তিমাংশু ধুলিয়া অভিনয় - বিদ্যুৎ জামওয়াল, অমিত সাদ, বিজয় ভার্মা, কেনি বসুমাতারি, শ্রুতি হাসান, সুধীর মিশ্র।  মানুষের জীবন আসলে এক কর্মচক্র। পাপ, পুণ্য, প্রেম, বন্ধুত্ব, লোভ, ক্ষোভ  সমস্ত কিছুই প্রতিনিয়ত চক্রাকারে আবর্তিত হয়ে চলে মানব জীবন জুড়ে। জাগতিক চাওয়া-পাওয়ার বৃত্ত সম্পূর্ণ হলে ঘটে ইহ জীবনের স্বর্গবাস নাকি পরিসমাপ্তি?  ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ZEE 5 এ ৩০ জুলাই মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা 'ইয়ারা' এরকমই এক আবর্তের গল্প বলে, যার কেন্দ্রে রয়েছে বন্ধুত্ব। চার অভিন্ন হৃদয় বন্ধু এবং তাদের জীবনের নানা ওঠাপড়ার কাহিনী।  বিভিন্ন সামাজিক স্তর থেকে উঠে আসা চার কিশোর ফাগুন (বিদ্যুৎ জামওয়াল), মিতবা (অমিত সাদ), রিজওয়ান ( বিজয় ভার্মা), বাহাদুর (কেনি বসুমাতারি) ভাগ্যের ফেরে মিলিত হয় ইন্দো নেপাল সীমান্তের এক স্মাগলারের ডেরায়। সেখান থেকে অপরাধ জগতে হাতেখড়ি এবং চারবন্ধুর 'চাকৌরি গ্যাং' এর দ্রুত এগিয়ে চলা অন্ধকার জগতের কানাগলিতে। একসময় অতীত জীবন পেছনে ফেলে জেলফেরত তিনবন্ধু ফিরে আসে স্বাভাবিক জীবনে। হারিয়ে যায় মিতবা। ক

উপন্যাসের আয়নায় -৩

Image
উপন্যাসের আয়নায় পর্ব -৩    প্র শা ন্ত  ভৌ মি ক  হুমায়ূন আহমেদ : যুক্তিবাদী মিসির আলি হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্ট অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র মিসির আলি। হিমু যেমন যুক্তিহীনভাবে সব ব্যাপার দেখে, মিসির আলি ঠিক তার উল্টো। প্রতিটি ব্যাপারকেই যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ করেন তিনি। মিসির আলির মতে, পৃথিবীতে যুক্তি ছাড়া কোন কিছু ঘটতে পারে না। হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্ট মিসির আলি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।  মিসির আলি সিরিজের প্রথম বই 'দেবী' প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে। শেষ বই 'যখন নামিবে আঁধার' প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে। এই সাতাশ বছরের পথ পরিক্রমায় মিসির আলি বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনাকে যুক্তি দিয়ে সমাধান করার চেষ্টা করেছেন। মিসির আলি ছিলেন প্যারানরমাল সাইকোলজির শিক্ষক৷ মনোজগতের জটিল ক্রিয়াকে সরল করে তুলে ধরতেন, ব্যাখ্যার অতীত বিষয়বস্তুকেও ব্যাখার মাধ্যমে স্পষ্ট করতেন তিনি।  হুমায়ূন আহমেদ 'মিসির আলির কথা' শিরোনামের লেখায় মিসির আলি সম্বন্ধে লিখেছেন- "মিসির আলি এমন একজন মানুষ, যিনি দেখার চেষ্টা করেন চোখ বন্ধ করে। যে পৃথিবীতে চোখ খুলেই কেউ দেখে না, সেখানে চোখ বন্ধ করে দেখার এক ফলবতী চেষ্টা

৩১ জুলাই ২০২০

Image
আ জ কে র  দি ন  31 July 2020 বাংলায় -- ১৫ শ্রাবণ১৪২৭ শুক্রবার  আজ, জীবনবাদী সাহিত্যিক মুন্সী প্রেমচাঁদের জন্মদিন । প্রকৃত নাম ধনপত রায়। ভারতীয়  উপমহাদেশের সফল কথাসাহিত্যিক। সাহিত্যের সব শাখায় পদচারণা করেছেন। সত্যজিৎ রায় মুন্সী প্রেমচাঁদের ছোটগল্প 'শতরঞ্জ কে খিলাড়ী'  অবলম্বনে এই নামেই একটি সিনেমা তৈরি  করেছিলেন। আজ, হ্যারি পটারের  জন্মদাত্রী  জে.কে রাউলিং-এর জন্মদিন। পুরো নাম জোয়ান ক্যাথলিন রাউলিং। এ পর্যন্ত হ্যারি পটার সিরিজের সাতটি বই বেরিয়েছে। প্রথম ছটি বই ৬৪ টিরও অধিক ভাষায় অনূদিত ও বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৫ কোটি কপি বিক্রি  হয়েছে। জন্মদিনে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। আজ, নবারুণ ভট্টাচার্য -এর প্রয়াণ দিবস।  নাট্যকার বিজন ভট্টাচার্য  ও কথাসাহিত্যিক  মহাশ্বেতা দেবীর সন্তান। ১৯৯৩ সালে হারবার্ট উপন্যাসের  জন্য সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার পান। তাঁর  উল্লেখযোগ্য লেখাগুলোর মধ্যে ' কাঙাল মালসাট' বিশেষভাবে  উল্লেখযোগ্য।  ১৬৫৮ সালে আজকের দিনে মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব সিংহাসনে বসেন। কথিত আছে, আজকের দিনে কলম্বাস ত্রিনিদাদ দ্বীপটি আবিষ্কার  করেন।  মনীষী উবাচ : ছেলে যদি মানুষ করিতে চ

দিনের শেষে ৩০ জুলাই ২০২০

Image
দি নে র  শে ষে  ৩০/৭/২০২০ ১) রাশিয়ার স্বাস্থ্যসচিব কিরলি দিমিদ্রিত আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন-" ঐতিহাসিক এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে  রাশিয়া, ১০ আগস্ট থেকে করোনা ভ্যাকসিন বাজারে আনার যাবতীয় প্রয়াস অব্যাহত!  ২) আগামিকাল জি-বাংলায় শেষ হতে চলেছে জনপ্রিয় বাংলা ধারাবাহিক "নেতাজি"! ৩) পয়লা আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ তারাপীঠ মন্দির!  ৪) আই সি সি'র সাম্প্রতিক ঘোষণা :- এইবার থেকে ক্রিকেটের নো-বল ডাকার সিদ্ধান্ত নেবেন থার্ড আম্পায়ার!  ৫) আগামী মরশুমে ইস্টবেঙ্গল ফুটবল দলের প্রশিক্ষক হলেন গোয়া'র ফ্রান্সিসকো ব্রুটো দ্য কস্টা!  ৬) কেরলের কালিকট বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত বুকার পুরস্কার বিজয়িনী সাহিত্যিক অরুন্ধতী রায়ের এক বক্তৃতার  অংশ "কাম্ সেপ্টেম্বর" - এর উপর ধর্মীয় উন্মাদনার আঘাত!  ৭) প্রয়াত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি, প্রাক্তন বিধায়ক ও সাংসদ সোমেন মিত্র-র শেষকৃত্য সম্পন্ন হল নিমতলা মহাশ্মশান ঘাটে!  ৮) দু'বার অস্কারজয়ী ফরাসী অভিনেত্রী অলিভিয়া দ্য হ্যাভিল্যান্ড ১০৪ বছরে প্রয়াত হলেন।   ( বিঃদ্রঃ আমাদের দা

জামরঙের পুরুষ / লক্ষীকান্ত মণ্ডল

Image
নীল রঙের বোধেরা অনন্ত খুঁজতে থাকে নি মা ই  জা না রাত্রির পদচারণায় কবিতা সর্বংসহা দেবীর কাজল মুখ হয়ে যায়। প্রতিটি বৈদিক মন্ত্রের কাছে জাম রং মানুষ এক আলো-আঁধারির মায়াবী চোখ, যে চোখে নক্ষত্রেরা উপুড় হয়ে সমর্পণ করে সকল অস্তিত্বকে। অস্তিত্ব মানে এক জাম রঙের পুরুষ। জাম রং মানে নিষ্কলুষ এক আঁধার। কবি লক্ষ্মীকান্ত মন্ডল এমনই এক পুরোহিত , যিনি প্রতিদিন সূর্যকে প্রণাম করে বসে পড়েন মন্ত্রপূতঃ আসনের উপর। আজান ধ্বনি অথবা আলোর মত তরঙ্গে স্নান করিয়ে শূন্য অথবা অসীম রোদকে খুঁজতে থাকেন অসুখের ভিতর। আলো কি কখনো অবৈধ্য সঙ্গমের তৃষ্ণা বোঝে ? কুয়াশার চাদরে নেতানো স্তনে প্রজাপতি এসে বসলে নদী হয়ে যায় চারিদিক। কবিতার মুহূর্তগুলো বানডাকার মতো বিপন্নতা মুক্তি নিয়ে উড়ে যায় ব্রহ্মলোকে। কবি খুঁজে নেন গুঁড়ো গুঁড়ো প্রজাপতির রেনু----- "ওড়াতে চাইছে বিপন্ন প্রজাপতি"। বোল মুখ অথবা বরদা নামক অস্তিত্বের ভিতর কিভাবে জেগে থাকে ঈশ্বর। ঈশ্বর কে ঘুমিয়ে রাখে মানত বেলপাতা। আসলে প্রতিটি কবিতায় মাটির গন্ধ অথবা হিজল গাছের মাঝরাতে যে মহাজগৎ থেকে আলোর রেখা উড়ে আসে, তাতে অদ্ভুত মায়াঘোর ছড়িয

জ্বলদর্চি-র কোলাজ

Image

মেদিনীপুরের বিজ্ঞানবিষয়ক পত্রপত্রিকা

Image
মেদিনীপুরের বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রপত্রিকা ভা স্ক র ব্র ত  প তি অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলা মূলত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জেলা। আন্দোলনের জেলা। সেই ব্রিটিশ সময়কাল থেকে আজ পর্যন্ত সেই ট্র্যাডিশান চলছে। ফলে এখান থেকে প্রকাশিত পত্র পত্রিকাগুলিতে তারই ছাপ পড়ে। স্বাধীনােত্তর সময়কালে বিপ্লবীদের কথা কিংবা বর্তমানের নন্দীগ্রাম, লালগড়ের কথাই প্রাধান্য পায় কাগজে। সেখানে বিজ্ঞানের ঠাঁই নেই। আর যেটুকু পাই তাও হাতেগোনা। বিজ্ঞান মানে স্বাস্থ্য, পরিবেশ, চিকিৎসা, কলা বিজ্ঞান, জনপ্রিয় বিজ্ঞান, পরিবার কল্যাণ, কৃষি সবকিছু বােঝায়। এইসব বিষয় নিয়েই কেবল পৃথক পত্রিকার হদিশ মেদিনীপুর তথা পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং  পশ্চিম মেদিনীপুরে বেশ কম। আপাতত ২০ টি এরকম পত্র পত্রিকার হদিশ মিলেছে। যদিও এগুলির বেশিরভাগই ইতিহাস হয়ে গেছে। যেগুলি চলছে তাও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। প্রায় বন্ধ হওয়ার মুখে। পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ এবং স্টুডেন্টস হেল্থ হােম-এর উদ্যোগে জেলা জুড়ে বিজ্ঞান বিষয়ক নানা কর্মশালা, সচেতনতা বৃদ্ধিও হয়। কিছু ক্লাব, নানা রাজনৈতিক সংগঠন,এন.জি.ও.র প্রচেষ্টায় অবশ্য তা করে থাকে। মাঝেমধ্যে স্মরণিকা প

উপস্থাপনার সাতকাহন - ২

Image
উপস্থাপনার সাতকাহন || দ্বিতীয় পর্ব পৌ লো মী  ভ ট্টা চা র্য্য   " দু কথা বলি যদি কানে তার" সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায় একবার খেদ করে বলেছিলেন, বাঙালির বড় সমস্যা হল কিছুতেই নিজেকে প্রকাশ করতে পারে না। সত্যিই এখানেই বোধহয় আমাদের কমবেশি সকলের অপারগতা। একের পিঠে এক, আবার এক দশ এক.... দুটোই  কিন্তু এগারোকে সামনে আনে। অথচ বলা দুটো আলাদা। পরেরটা বিজ্ঞানসম্মত, প্রথমটা শিশুসুলভ। আমরা শিশুপনাটাকেই চট করে নিয়ে নিই। এবার প্রশ্ন কোন সময় আমরা কতটা শিশুপনা করব! কারণ নিক্তি ওজনের মাপে কিন্তু জীবনের সব কটা পাতা উল্টানো যায় না। এসেই পড়ে সেই সমস্যা.... কি করে বলবো! আগেই বলেছি প্রফেশনাল শব্দটার বিতিকিচ্ছিরি ঝুট-ঝামেলাকে কাঁধ থেকে নামিয়ে আমরা একটু বেশি চেনা আল ধরে হাটি। ফ্রয়েড সাহেবকে পেন্নাম জানিয়ে ঢুকে পড়ি একটু চেনা একটু ছোঁয়াতে। স্কুল জীবন, তারপর কলেজ, চাকরি সব জায়গায় ঘাপটি মেরে থাকে, সে। আপনি টের পান একশো ভাগ। কিন্তু, উপস্থাপনাতে কাঁচকলা! এখানে উপস্থাপনা বলতে একবারও কিন্তু আমি জামাকাপড় পড়ে, ঘাড়ে পাউডার মেখে, আপনার প্রেজেন্টেশন এর কথা বলছি না। বলছি না, ঠিক শব্দ,

হিমালয়ের পথে চলতে চলতে - ৮

Image
হিমালয়ের পথে চলতে চলতে ||   অষ্টম পর্ব দে ব ব্র ত  ভ ট্টা চা র্য্য           কেদারনাথ দর্শন                 যেদিন কেদারনাথ দর্শনের আকাঙ্ক্ষা হৃদয়ে জ্বেলে ছিলাম -সেদিনই পবিত্রতার প্রলেপ পড়া শুরু হয়েছিল অন্তরের পরতে পরতে। আজ কেদারনাথ ধামে এসে দাঁড়িয়েছি। এখনও মন্দিরের চূড়া চোখে পড়েনি। কিন্তু এ মাটীতে পা দেওয়ার সাথে সাথে প্রতিটি রোমকূপে অনিন্দ্যের স্পর্শসুখ অনুভব করলাম।      হীরু-জাবরুদের কর্তব্য শেষ। আমাদের ফিরে যাওয়ার কোন নির্দিষ্ট সময় সূচী নেই। এখানে রাতে থেকেও যেতে পারি। তবে এই দুপুরে যা ঠাণ্ডা ,রাত্রিতে কি এখানে থাকা সম্ভব হবে? যাই হোক হীরুদের সঙ্গে সহযাত্রা এখানেই শেষ। হীরুর পিঠে হাত রাখলাম। গভীর মমতায় মন ভরে গেল। ও তো আজকালকার ছেলে। বয়সে তরুণ, ছটপটে। কিন্তু কত মার্জিত রুচিবোধ, শ্রদ্ধাশীল। বর্তমান প্রজন্মের প্রতি মানুষের যে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরী হয়েছে, হীরু যেন তার বাস্তব প্রতিবাদ। হীরু আমার লাঠি ফিরিয়ে দিল। যেন মনে মনে বলল, - -এ হ'ল আপনার বর্তমান সাহারা। শক্ত করে ধরুন। ভাববেন আমিই পাশে আছি এখনও।         সামনে তাকিয়ে দেখলাম -শ'য়ে শ'য়ে ঘোড়া দাঁড়িয়ে আছে গায়ে

দিল্লি দর্পণ - ৩

Image
দিল্লি দর্পন || ৩য় পর্ব  কা লী প দ  চ ক্র ব র্ত্তী  রাজধানী দিল্লি  ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে নিউদিল্লি ভারতের রাজধানী হিসেবে ঘোষিত হয়েছিল ঠিকই কিন্তু রাজধানীর পত্তন হয়েছিল অনেকে আগেই। দিল্লির চাঁদনিচকে ঘণ্টাঘর ও টাউন হল তৈরি হয়। কাশ্মীরী গেটে নতুন পোস্ট অফিসের জন্য বড় বাড়ি নেওয়া হয়। বড় রাস্তা কেটে তৈরি করা হয় কুইন্স রোড, হ্যামিলটন রোড। শহরের উত্তর-পূর্বে তৈরি হয় সিভিল লাইনস্, কয়েকশ বাংলো নিয়ে। অন্যদিকে ফৌজি আদেশে লাল কেল্লার চারশো চল্লিশ গজ এলাকার ভিতর কোনও বাড়ি বা ইমারত বা দোকান রাখা নিষিদ্ধ হওয়ায় হাজার হাজার বাড়ি ও ইমারত ভেঙে ফেলা হয়। আজ  বাহাদুর শা জাফর বা ইংরেজরা কেউ আর নেই কিন্তু এখনও তাদের স্মৃতি জড়িয়ে আছে দিল্লির আনাচে কানাচে। নাদির শা দিল্লিতে ছিলেন মাত্র দু’মাস। জানা যায় ওই দুমাসে তিনি প্রায় পঞ্চাশ হাজার লোককে হত্যা করেছিলেন। নাদির শা এখন না থাকলেও সে সময়কার বহু স্মৃতি আজও সে সব কথা মনে করিয়ে দেয়। ফিরোজ শা কোটলার বাস স্ট্যান্ডের কাছে গেলে দেখা যায় আজও ‘খুনি দরওয়াজা’ দাঁড়িয়ে আছে সোজা হয়ে।  মনে করিয়ে দেয় বাদশাহদের নির্মম অত্যাচারের কথা। দিল্লির মাটি খুঁড়লে আজও

৩০ জুলাই ২০২০

Image
আ জ কে র  দি ন  30 July 2020 বাংলায় --১৪ শ্রাবণ ১৪২৭ বৃহস্পতিবার  আজ, হলিউডের  দাপুটে অভিনেতা  আর্নল্ড সোয়ার্জনেগারের জন্মদিন। আকশনধর্মী চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি বিশ্ববন্দিত।The Terminator, Commando, Predator, The Running  Man,  Total Recall ইত্যাদি  উল্লেখযোগ্য সিনেমা। জন্মদিনে অসংখ্য  শুভেচ্ছা। আজ, কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ  মুখোপাধ্যায় -এর  প্রয়াণ দিবস। বাংলা সাহিত্যের  সব শাখায় অনায়াসে কলম চালিয়েছেন। নীলাঙ্গুরীয়, স্বর্গাদপিগরিয়সী, একই পথের দুই প্রান্তে, একদা প্রিয়ংবদা ইত্যাদি  উল্লেখযোগ্য লেখা। আত্মজীবনী   'জীবনতীর্থ' সুখপাঠ্য। তাঁর লেখা 'বরযাত্রী ' উপন্যাস নিয়ে কলকাতা দূরদর্শনের 'বিবাহ অভিযান' ধারাবাহিক আজও  আমাদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। আজ, বিপ্লবী সত্যেন বোস -এর জন্মদিন। রাজনারায়ণ  বসুর ভাতুষ্পুত্র এই বিপ্লবী মেদিনীপুরে বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তোলেন।১৯০৮ সালে আলিপুর  জেলে এই বিপ্লবীর ফাঁসি হয়েছিল আলিপুর বোমা মামলার  রাজসাক্ষী  নরেন গোঁসাইকে হত্যা করার অপরাধে। মেদিনীপুরের মাটি তাঁকে প্রণাম জানায়। আজ, বাঙ্গালা শব্দকোষ প্রণেতা যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধির

দিনের শেষে ২৯ জুলাই ২০২০

Image
দি নে র  শে ষে  ২৯/৭/২০২০ ১) মার্কিন মুলুকেও আজ " মোহনবাগান দিবস" পালিত হল। আজ রাত ঠিক ১২টায় নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত টাইম স্কোয়ারের ন্যাশডাক বিলবোর্ডের ডিজিটাল পর্দায় ভেসে উঠল পালতোলা নৌকা আর সবুজ-মেরুন রং!  ২) ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন টেস্টের সিরিজে ইংল্যান্ডের ২-১ ম্যাচে জয় !  ৩) শক্তি ক্ষেত্রেও বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সংস্থা হিসেবে উঠে এল এশিয়ার ধনীতম ব্যক্তি মুকেশ আম্বানি-র সংস্থা রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, শীর্ষস্থানে সৌদি আরবের সংস্থা "এরামকো"!  ৪) ডাবল স্ট্যাক কন্টেইনার চালানোর জন্য বিশ্বের প্রথম বৈদ্যুতিক টানেল তৈরি করছে  ভারতীয় রেল, হরিয়ানার সোহনার নিকটস্থ আরাবল্লী পর্বত এলাকায়!  ৫) ব্রিটিশ ফুটবল লিগে সেরা ম্যানেজার নির্বাচিত হয়ে "স্যার আলেক্স ফার্গুসন ট্রফি"   জিতে নিলেন লিভারপুল ফুটবল ক্লাবের ম্যানেজার ইয়র্গেন ক্লপ!  ৬) কলকাতা, মুম্বই এবং নয়ডা-তে করোনা পরীক্ষা ল্যাব উদ্বোধিত হল।  ৭) আজ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ORS(ORAL REHYDRATION SALT) দিবস!  ৮) স্মার্ট প্রযুক্তি নির্ভর সংস্থা "GOQII" এক সমীক্ষায় জানিয়েছে যে লকডাউন-পর্বে  প্র

দয়ার সাগর বিদ্যাসাগর / শিশিরকুমার বাগ

Image
দয়ার সাগর বিদ্যাসাগর কি কখনও মানববিদ্বেষী হতে পারেন! শি শি র কু মা র  বা গ পরের দুঃখ দেখলে বিদ্যাসাগর মহাশয় কিছুতেই স্থির থাকতে পারতেন না। ঝরঝর করে কেঁদে ফেলতেন। কত শত গরিব মানুষ, অসহায় নারী কিংবা সহায়সম্বলহীন ছাত্রকে তিনি সাহায্য করেছেন তার কোনো ইয়ত্তা নেই। চরম বিড়ম্বনার হাতথেকে রক্ষা পেয়ে মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬৪ সালের ১৮ জুনের চিঠিতে বিদ্যাসাগরকে ‘করুণার সিন্ধু’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। ১৮৬৬ সালের মাঝামাঝি চরম দুর্ভিক্ষের সময় বিদ্যাসাগর নিজের গ্রাম বীরসিংহে অন্নছত্র খুলে গরিব দুঃখীদের দু-মুঠো আহারের ব্যবস্থা করেছিলেন। বলা হয় সেই সময় থেকেই তিনি ‘দয়ার সাগর’ হিসাবে সকলের মধ্যে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। ১৮৬৭ সালের শেষ দিকে উত্তরকালের প্রখ্যাত কবি নবীনচন্দ্র সেনকে তিনি পড়াশোনার জন্য অর্থ সাহায্য করেছিলেন। পরবর্তীকালে নবীনচন্দ্র সেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে ‘পলাশীর যুদ্ধ’ কাব্যগ্রন্থটি উৎসর্গ করেন। সেই উৎসর্গ পত্রে বিদ্যাসাগরকে ‘দয়ার সাগর’ বলে বর্ণনা করা হয়।  কত মানুষের যে কত উপকার করেছেন বিদ্যাসাগর, তা বোধ হয় লিখে শেষ করা যাবে না। এ বিষয়ে রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী লিখেছেন, “ঈ

২৯ জুলাই ২০২০

Image
আ জ কে র  দি ন  29 July 2020 বাংলায় ---১৩ শ্রাবণ ১৪২৭ বুধবার আজ, প্রাতস্মরণীয় মহাপুরুষ  ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রয়াণ দিবস। হিন্দু ল কমিটির প্রশংসাপত্রে তিনি 'বিদ্যাসাগর' উপাধিতে সম্মানিত হন। আজ, সাহিত্যিক  রমাপদ চৌধুরীর প্রয়াণ দিবস । অত্যন্ত সংযমী এই লেখক বাংলা সাহিত্যেকে উপহার দিয়েছেন -- বাড়ি বদলে যায়, ভারতবর্ষ, অভিমন্যু, বনপলাশীর পদাবলী ইত্যাদি অসাধারণ সব লেখা। আজ, মার্কিন জাতীয় মহাকাশ সংস্থা নাসার প্রতিষ্ঠা দিবস ।1958 সালে আজকের দিনে National Advisory Committee for Aeronautics অবলুপ্ত হয়ে নাসা (National  Aeronautics  and Space  Administration) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আজ, International  Tiger Day. বাঘের প্রাকৃতিক বাসস্থান বৃদ্ধি, বাঘ সংরক্ষণ, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আজকের দিনটি পালন করা হয়।  আজ, ওলন্দাজ চিত্রকর ভ্যান গগের প্রয়াণ দিবস। জীবিত অবস্থায় স্বীকৃতি না পাওয়া এই বিখ্যাত কিংবদন্তি  শিল্পী  আত্মহত্যা  করেছিলেন। মাত্র এক দশকে তিনি ২১০০বেশি ছবি এঁকেছিলেন। তাঁর আঁকা  The Potato Eaters, Sunflowers, The Starry  Night, Sorrow, The Por

দিনের শেষে ২৮ জুলাই ২০২০

Image
দি নে র  শে ষে  ২৮/৭/২০২০ ১) দিনের শেষে আমাদের একটাই দাবী :- কবি ভারভারা রাও-এর মুক্তি চাই!  ২) ৮৬ বছরে প্রয়াত হলেন সেকালের জনপ্রিয় বলিউডি অভিনেত্রী কুমকুম!  ৩) আগামিকাল "মোহনবাগান  দিবস" পালিত হবে অনলাইনে!  ৪) বন্ধ হতে চলেছে ভারতীয় রেলের ১৬০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ডাকব্যবস্থা, যা ব্রিটিশ যুগে শুরু হয়েছিল।  ৫) করোনা-র প্রতিষেধকের চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়াল সম্পন্ন  করার ব্যাপারে ব্রিটিশ ফার্মাসিউটিকাল সংস্থা "এস্ট্রা  জেনিকা "ভারতের "সিরাম ইন্সটিটিউট"  এবং "ভারত বায়োটেক", মার্কিন ফার্মাসিউটিকাল সংস্থা "মোদার্না" এবং"ফাইজার"-এর নিরন্তর প্রয়াস অব্যাহত। ----------------------------------- আপনার দিন শুরু হোক জ্বলদর্চির 'আজকের দিন' দিয়ে।  www.jaladarchi.com      

শ্রদ্ধা ও স্মরণে সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী /সোহম সেন

Image
সো হ ম  সে ন আজ সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবীর অমর হওয়ার দিন কানাড়া সাহিত্যিক সুধা মূর্তি লিখেছিলেন ‘মহাশ্বেতা’ নামে একটি উপন্যাস, যার মুখ্য চরিত্র ‘অনুপমা’ নাম্নী এক নারীা। আর বাংলায় আমরা পেয়েছি মহাশ্বেতা নামেই এক নারীকে। বিপ্লবিনী, সংবেদনশীলা এই সুলেখিকা সরস্বতী-সাধনার মধ্য দিয়ে মানুষের সাধনাই করে গেলেন আজীবন। কেবল খাতায়-কলমে নয়, মানুষের মাঝখানে মাঠে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সাহিত্য অকাদেমি থেকে আরম্ভ করে পদ্মশ্রী, পদ্মবিভূষণ, জ্ঞানপীঠ, রামন ম্যাগসেসে, সার্ক সাহিত্য সম্মান প্রভৃতি পুরস্কার ও সম্মান সারা জীবনে অসংখ্য পেয়েছেন। কিন্তু তা দিয়ে মহাশ্বেতা দেবীকে বিচার করা যায়না।  মহাশ্বেতা দেবীর সমস্ত সৃষ্টি নিয়ে বিশদে আলোচনা করবার সুযোগ এ ক্ষুদ্র পরিসরে আমাদের নেই। আর প্রতিটির অনুপুঙ্খ বিশ্লেষণ আমরা করবও না-- কারণ তা করলে সেটা হয়ে যাবে, যাকে আজকের ভাষায় বলে ‘স্পয়লার’, একেবারে তাই-ই। প্রায় শতেক উপন্যাস আর অগণিত ছোটগল্পের প্রসূতি মহাশ্বেতা। অমূলক রোমান্টিসিজম নয়, কল্পনার উচ্চ সৌধশিখরে বসে বাস্তবের রুক্ষ, কঠিন দুনিয়াকে বিস্মৃত হয়ে নয়; মহাশ্বেতা তাঁর নর-নারী চরিত্রদের তুলে এনেছেন জীবনে